এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের স্বাস্থ্য সেবার মান নিয়ে একাধিক সমস্যা ও অনিয়মের বিষয় তুলে ধরে কার্যকর সমাধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন নাগরিকরা। সরকারি ওষুধের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা, চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়ন, বন্ধ থাকা পরীক্ষাগার সেবা চালু, অ্যাম্বুলেন্স ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের ডা. বি. এন. পাল হলরুমে ‘স্বাস্থ্য সেবা ও তথ্য অধিকার’ শীর্ষক এক সংলাপ সভায় এসব বিষয় উঠে আসে। গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিসার্স ইনিশিয়েটিভস বাংলাদেশ (রিইব) আয়োজিত সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ২৫০ শয্যা জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো।
সংলাপে বক্তারা বলেন, হাসপাতালে সরকারি ওষুধের তালিকা দৃশ্যমান স্থানে টাঙিয়ে রাখা হলে রোগীরা সহজেই জানতে পারবেন কোন কোন ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়া যায়। এতে সরকারি ওষুধের অপব্যবহার ও কালো বাজারি অনেকাংশে কমানো সম্ভব হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মং টিং ঞো বলেন, হাসপাতালে যেসব সমস্যা রয়েছে সেগুলো ধাপে ধাপে সমাধানের চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় মালামাল ও জনবল সংকটের বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরকে লিখিত ভাবে জানানো হয়েছে।
সংলাপে অংশগ্রহণকারীরা মাঠ পর্যায়ের বিভিন্ন অভিযোগ তুলে ধরে জানান, রাতের বেলায় ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার দায়িত্বে থাকলেও রাত দুইটার পর অনেক রোগীকে সরাসরি নার্সের মাধ্যমে ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়। এতে রোগীরা যথাযথ চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়। বিষয়টি কঠোর ভাবে তদারকির দাবি জানান তারা।
এছাড়া হাসপাতালের বৈকালিক চেম্বার পুনরায় চালু করা, বহির্বিভাগে নিয়মিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক নিশ্চিত করা এবং বিশেষ করে গাইনি বিশেষজ্ঞের উপস্থিতি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
একই সঙ্গে ডিউটি রোস্টার দৃশ্যমান স্থানে টাঙানোর দাবি ওঠে, যাতে রোগীরা জানতে পারেন কোন চিকিৎসক কখন দায়িত্বে আছেন।
সংলাপে সরকারি অ্যাম্বুলেন্স সেবার সংখ্যা, ব্যবহার এবং মৃতদেহ বহনের বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা রয়েছে কি না তা নিয়ে স্বচ্ছতা চাওয়া হয়। পাশাপাশি সদর হাসপাতালের একমাত্র লাইফ সাপোর্ট সম্বলিত আইসিইউ অ্যাম্বুলেন্স দীর্ঘদিন ব্যবহার না হওয়ায় নষ্ট হওয়ার উপক্রম হয়েছে বলেও অভিযোগ ওঠে। নির্ধারিত ফি নির্ধারণ করে এটি রোগীদের জন্য চালুর দাবি জানান সচেতন নাগরিকরা।
এ দিকে হাসপাতালের প্যাথলজি বিভাগে সিবিসি ও সিরাম ক্রিয়েটিনিন সহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার অভিযোগ রয়েছে।
এসব পরীক্ষা দ্রুত চালু করা হলে সাধারণ রোগীদের অতিরিক্ত খরচ অনেকটাই কমবে বলে মত দেন অংশগ্রহণকারীরা। একই সঙ্গে বেসরকারি চিকিৎসকের দেওয়া প্রেসক্রিপশনের পরীক্ষা গুলো সরকারি ফি দিয়ে হাসপাতালে করা যাবে কি না সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনার দাবি তোলা হয়।
রোগী পরিবহনে স্ট্রেচার বা হুইল চেয়ার ব্যবহারে অনিয়মের অভিযোগও উঠে আসে। ইমার্জেন্সি থেকে ওয়ার্ডে রোগী নিতে ওয়ার্ড বয়েরা টাকা দাবি করেন বলেও অভিযোগ করেন অনেকে। অন্য দিকে লিফটম্যান নিয়োগ থাকা সত্ত্বেও অনেক সময় তারা দায়িত্বে না থাকায় সাধারণ মানুষ নিজেরাই লিফট পরিচালনা করছেন, যা ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি তৈরি করছে।
হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ সংলাপে জানায়, নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যেও হাসপাতালটি পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন সরকার গঠনের পর এসব সমস্যা দ্রুত সমাধান এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়।
সংলাপে উপস্থিত ছিলেন রিইবের ডেপুটি ডিরেক্টর রুহি নাজ, কো-অর্ডিনেটর শাহীনুল ইসলাম আবিদ, সাবেক জেলা শিক্ষা অফিসার নাসির উদ্দিন, কক্সবাজার জেলা বিএনপির সদস্য রাশেদ মো. আলী, সাংবাদিক ইউনিয়ন কক্সবাজারের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম, এনটিভি অন লাইনের প্রতিনিধি আসিফুজ্জামান সাজিন, এনসিপি নেতা খালিদ বিন সাঈদ, কক্সবাজার সরকারি কলেজ ছাত্রদল সভাপতি রিদুয়ানুল হক ও ইমরুল আজিম, জেলা সমন্বয়কারী সাইফুল ইসলাম হামজা সহ কক্সবাজার সদর, চৌফলদণ্ডী ও রামু উপজেলা থেকে আগত তথ্য অধিকার বাস্তবায়ন কমিটির সদস্য এবং সদর হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com