এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড় এলাকায় সরকারি খাল বন্ধ করে পাইপ কালভার্ট নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে। এতে বুজরুক বাঁখই, চাঁদপুর ও বহলবাড়িয়া বিলের অন্তত ৭০ হেক্টর কৃষিজমি জলাবদ্ধতার ঝুঁকিতে পড়েছে বলে দাবি স্থানীয় কৃষকদের।
এ ঘটনায় সোমবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন এলাকাবাসী।
লিখিত অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নন্দলালপুর ইউনিয়নের বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড় থেকে শিলাইদহ ইউনিয়নের মির্জাপুর বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার দীর্ঘ একটি সরকারি খাল রয়েছে।
এই খাল দিয়ে বহলবাড়িয়া, চাঁদপুর ও বুজরুক বাঁখই বিলের পানি গড়াই ও পদ্মা নদীতে নিষ্কাশিত হয়।
তবে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিত সংস্কার না হওয়া এবং খাল দখল করে একাধিক স্থানে পাইপ কালভার্ট নির্মাণের ফলে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে সংশ্লিষ্ট বিলে বছরে অন্তত ছয় মাস পানি জমে থাকছে।
জলাবদ্ধতার কারণে কৃষকরা বছরে একবার ইরি মৌসুমে ধান চাষ করতে পারছেন।
অভিযোগ রয়েছে, খালের প্রবেশমুখ বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে প্রায় ২২ ফুট প্রশস্ত খাল বন্ধ করে মাত্র ৩ ফুট প্রস্থের পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করছে ইউনিয়ন পরিষদ। প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই কালভার্ট পুরোপুরি চালু হলে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে এবং কৃষিজমি সারা বছর পতিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে খালের ওপর একটি পাকা সেতু রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশে খালের অর্ধেক অংশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।
অবশিষ্ট অংশে প্রায় তিন ফুট চওড়া করে পাকা ঢালাই দেওয়া হয়েছে। পাশের কালু সরদারের বাড়ির আঙিনায় অন্তত ২৭টি পাইপ মজুত রয়েছে। এ সময় আশপাশের জমিতে ইরি ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকদের দেখা যায়।
অভিযোগ রয়েছে, খালের প্রবেশমুখ বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে প্রায় ২২ ফুট প্রশস্ত খাল বন্ধ করে মাত্র ৩ ফুট প্রস্থের পাইপ কালভার্ট নির্মাণ করছে ইউনিয়ন পরিষদ। প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণাধীন এই কালভার্ট পুরোপুরি চালু হলে পানি প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যাবে এবং কৃষিজমি সারা বছর পতিত থাকার আশঙ্কা রয়েছে।
সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, বুজরুক বাঁখই বটতলা মোড়ে খালের ওপর একটি পাকা সেতু রয়েছে। সেতুর পশ্চিম পাশে খালের অর্ধেক অংশ বালু ফেলে ভরাট করা হয়েছে।
অবশিষ্ট অংশে প্রায় তিন ফুট চওড়া করে পাকা ঢালাই দেওয়া হয়েছে। পাশের কালু সরদারের বাড়ির আঙিনায় অন্তত ২৭টি পাইপ মজুত রয়েছে। এ সময় আশপাশের জমিতে ইরি ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত কৃষক ও শ্রমিকদের দেখা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দা সুমন হোসেন বলেন, সকালে চেয়ারম্যানের লোকজন খাল বন্ধ করে পাইপ বসানোর কাজ শুরু করেছিল। এলাকাবাসী বাধা দিলে শ্রমিকরা চলে যায়।
কাজ বন্ধের দাবিতে ইউএনওর কাছে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।
বুজরুক বাঁখই গ্রামের কৃষক রাশিদুল শেখ বলেন, এই খাল দিয়েই বিলের পানি পদ্মায় যায়। বছরে এক খন্দ ফসল হয়। খাল বন্ধ হলে এক খন্দও হবে না।
কৃষক শফিকুল ইসলাম লালন বলেন, পরিকল্পিতভাবে খাল খনন করা হলে বছরে তিন ফসল ফলানো সম্ভব। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ বন্ধ করে দিলে কৃষক সর্বস্ব হারাবে।
এ বিষয়ে নন্দলালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খোকনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি। তার মোবাইল ফোনও বন্ধ ছিল।
তবে ইউনিয়ন পরিষদের সচিব কালাচাঁদ বিশ্বাস বলেন, ২০২৪-২৫ অর্থবছরের উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পাইপ কালভার্ট নির্মাণের কাজ চলছিল। স্থানীয়রা কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফারজানা আখতার বলেন, স্থানীয়দের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। সরেজমিন পরিদর্শন করে কৃষকের স্বার্থ বিবেচনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


