আব্দুল্লাহ আল মামুন :
সাতক্ষীরা জেলার কালীগঞ্জ থানার কৃষ্ণনগর ইউনিয়নে দীর্ঘদিন ধরে সক্রিয় রয়েছে মাদক ব্যবসা,চাঁদাবাজি এবং জমি দখলকারী এক ভয়ংকর সন্ত্রাসী সিন্ডিকেট। ইয়ার আলীর নেতৃত্বে এই চক্রের মূল হোতারা হলো তার ভাই বাহার আলী, শহর আলী ও তাদের আপন দুলাভাই রেজাউল। এছাড়া সাতক্ষীরা শহর থেকে এদের অপরাধের নেতৃত্ব দেয় মাসুরা নামে এক লেডি মাফিয়া। এবং কৃষ্ণনগর থেকে মাঠ পর্যায়ে সহযোগী হিসেবে কাজ করে পলাশ। এই চক্রের অপরাধের পরিধি এতটাই বিস্তৃত যে, দেশের বিভিন্ন আদালতে ইয়ার আলীর বিরুদ্ধে ৩৫টি, বাহার আলীর বিরুদ্ধে ৩১টি এবং রেজাউলের বিরুদ্ধে ৪১টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
এদের নৃশংসতা ও জুলুমের ইতিহাস অত্যন্ত ভয়াবহ। ২০১৮ সালে কৃষ্ণনগরের তৎকালীন চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেনকে নির্মমভাবে হত্যা করে এই চক্র। সম্প্রতি নিজের অনৈতিক কাজ ধামাচাপা দিতে গ্রাম পুলিশ মোসলেম আলীর স্ত্রীর মাথায় গুলি করে ইয়ার আলী; এমনকি এর প্রতিবাদ করায় নিজের সন্তানের পায়েও গুলি চালাতে দ্বিধা করেনি এই নরপশু। এলাকার সংখ্যালঘু হিন্দু পরিবারগুলোকেও অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে প্রতি মাসে নির্দিষ্ট হারে চাঁদা দিতে বাধ্য করা হয়, অন্যথায় নারীদের ওপর নেমে আসে পৈশাচিক যৌন নির্যাতন।
শুধু সাধারণ মানুষই নয়, শিল্পপতি আব্দুল বারীসহ এলাকার ছোট-বড় সমস্ত ব্যবসায়ী আজ এই সিন্ডিকেটের কাছে জিম্মি। ব্যবসা ও প্রাণ বাঁচাতে সবাই নিয়মিত মোটা অঙ্কের চাঁদা দিতে বাধ্য হচ্ছেন, প্রতিবাদ করলেই ধেয়ে আসে অস্ত্রের মুখে প্রাণনাশের হুমকি।
বর্তমানে মূল হোতারা কারাগারে থাকলেও থেমে নেই তাদের অপরাধের চাকা। কারাগার থেকেই রিমোট কন্ট্রোলের মতো নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে কিশোর গ্যাং, মাদক ব্যবসা, চাঁদাবাজি, আর জমি দখল। আর বর্তমানে বাইরে থেকে এর নেতৃত্ব দিচ্ছে শহর আলী, এবং কিশোর গ্যাং লিডার পলাশ। শহর আলী একসময় র্যাবের গুলিতে পা হারিয়েছে। এবং সম্প্রতি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর জামিন পেলে দেশ ছেড়ে দেওয়া এবং অপরাধ জগৎ ছেড়ে দেওয়ার মিথ্যা প্রতিশ্রুতি দিয়ে জামিনে এলেও, সে এখনো আগের মতোই বেপরোয়া। সম্প্রতি এই শহর আলী ও পলাশের মাধ্যমেই অবসরপ্রাপ্ত আর্মি সদস্য হাবিবুর রহমানের কাছ থেকে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা আদায় করেছে এই গ্যাং।
এই পৈশাচিক জুলুমের বিরুদ্ধে এবং সন্ত্রাসীদের সর্বোচ্চ শাস্তি ফাঁসির দাবিতে সম্প্রতি ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষেরা সাতক্ষীরা জেলা দায়রা জজ আদালত চত্বরে মানববন্ধন করেছে এবং পোস্টারিং করেছে। কিন্তু অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয় হলো, উক্ত মানববন্ধনে জুলাই যোদ্ধা রাহাতসহ যারা অংশ নিয়েছেন,ও নেতৃত্ব দিয়েছেন, তাদেরকে এখন প্রতিনিয়ত মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এই ভয়ংকর ও নির্মম সন্ত্রাসী সিন্ডিকেটকে অনতিবিলম্বে ধ্বংস করে এলাকায় শান্তি ও নিরাপত্তা ফিরিয়ে আনার জন্য প্রশাসনের তীব্র ও দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছে সর্বস্তরের জনগণ।


