হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি:
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রায় অর্ধ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত আধুনিক ডায়াবেটিস কর্নার ভবনটি দুই বছর ধরে অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। রোগীদের বিশেষায়িত সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে নির্মিত ভবনটি এখন তালাবদ্ধ থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা বিরাজ করছে। জানা যায়, ডায়াবেটিস রোগীদের নিয়মিত পরীক্ষা, পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা প্রদানের উদ্দেশ্যে প্রায় ৫০ লাখ টাকা ব্যয়ে জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা জাপান আন্তর্জাতিক সহায়তা সংস্থা (জাইকা) এই স্বতন্ত্র ভবনটি নির্মাণ করে দেয়। জাইকার উপজেলা ডেভেলপমেন্ট ফ্যাসিলিটেটর (ইউডিএফ) প্রতিনিধি পলাশ কর জানান, ২০২৪ সালের জুন মাসেই নির্মাণকাজ সম্পন্ন হয়। ভবনটি ব্যবহারের উপযোগী করে তুলতে জেলা পরিষদ থেকে আরও দুই লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো সেখানে কোনো কার্যক্রম শুরু হয়নি। একই প্রকল্পের আওতায় পাশের নান্দাইল উপজেলা-এ নির্মিত ভবনে দুই বছর আগেই সেবা কার্যক্রম চালু হয়েছে। অথচ হোসেনপুরে সব প্রস্তুতি সম্পন্ন থাকার পরও কার্যক্রম শুরু না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে সংশ্লিষ্টদের দায়বদ্ধতা নিয়ে। ভৌগোলিক দিক থেকে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটি গফরগাঁও উপজেলা, নান্দাইল উপজেলা ও পাকুন্দিয়া উপজেলা-এর মধ্যবর্তী স্থানে অবস্থিত। ফলে প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক ডায়াবেটিস রোগী এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। কিন্তু ডায়াবেটিস কর্নার চালু না থাকায় রোগীদের বাধ্য হয়ে জেলা সদর কিংবা বেসরকারি ক্লিনিকে বাড়তি খরচে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এতে সাধারণ ও নিম্নআয়ের মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, স্বাস্থ্যখাতের মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবামূলক ক্ষেত্রে এমন অবহেলা অগ্রহণযোগ্য। দ্রুত প্রয়োজনীয় জনবল, সরঞ্জাম ও আনুষঙ্গিক কাজ সম্পন্ন করে ডায়াবেটিস কর্নারটি চালু করা এখন সময়ের দাবি। এ বিষয়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা (ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও) ডা. তানভীর হাসান জিকু বলেন, ভবনের সামনে মাটি ভরাটসহ কিছু কাজ বাকি রয়েছে। কাজগুলো শেষ হলেই দ্রুত সেখানে কার্যক্রম শুরু করা হবে। অন্যদিকে উপজেলা প্রশাসক ও নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদের স্বাস্থ্য খাতের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী নাহিদ ইভা বলেন, হাসপাতালের কার্যক্রম মূলত ইউএইচঅ্যান্ডএফপিও’র অধীনে পরিচালিত হয়। তিনি আক্ষেপ করে জানান, কুকুরে কামড়ের ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য এক লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হলেও এখনো তা কেনা হয়নি। অর্ধ কোটি টাকার একটি স্বাস্থ্যসেবা ভবন বছরের পর বছর তালাবদ্ধ পড়ে থাকা শুধু অব্যবস্থাপনাই নয়, এটি জনস্বাস্থ্যের প্রতি চরম উদাসীনতার প্রতিচ্ছবি—এমনটাই মনে করছেন এলাকাবাসী। তাঁদের একটাই দাবি, আর দেরি নয়—দ্রুত চালু হোক ডায়াবেটিস


