মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক, রাজশাহী,
আসন্ন ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) রাজশাহীর ছয়টি আসনে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেছে। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দলীয় ভেতরের বিভাজন ও গ্রুপিং পেরিয়ে অবশেষে ঘোষিত এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন অভিজ্ঞ, ত্যাগী ও মাঠে সক্রিয় নেতারা।
শনিবার (৩ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহীসহ দেশের সব আসনের মনোনয়নপ্রাপ্ত প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
রাজশাহীর জন্য ঘোষিত ছয় প্রার্থী হলেন— রাজশাহী-১ (গোদাগাড়ী-তানোর): শরিফ উদ্দিন, রাজশাহী-২ (সদর): মিজানুর রহমান মিনু, রাজশাহী-৩ (পবা-মোহনপুর): অ্যাড. শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৪ (বাগমারা): ডিএম জিয়াউর রহমান, রাজশাহী-৫ (পুঠিয়া-দুর্গাপুর): নজরুল ইসলাম , রাজশাহী-৬ ( বাঘা-চারঘাট): আবু সাঈদ চাঁদ।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রাজশাহীর ছয় আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন ৪৮ জন। কিন্তু কেন্দ্রীয় মনোনয়ন বোর্ড মাঠে আন্দোলনে সক্রিয়তা, মামলা-হামলার মুখেও দলের পাশে থাকা এবং সাংগঠনিক দক্ষতা—এই তিনটি দিককে মূল বিবেচনায় নিয়ে প্রার্থী চূড়ান্ত করেছে।
মনোনয়ন ঘোষণার পর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এক নির্দেশনায় বলেন, ৩১ দফা বাস্তবায়ন, জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারই আমাদের মূল লক্ষ্য।
এখন আর ব্যক্তিগত প্রতিযোগিতা নয়, গণতন্ত্রের লড়াইয়ে ঐক্যবদ্ধ হয়ে মাঠে নামতে হবে।
রাজশাহী একসময় বিএনপির সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু টানা ১৮ বছর ক্ষমতায় থেকে আওয়ামী লীগ সেই ঘাঁটি দখলে রাখে। প্রশাসনিক প্রভাব ও দমনপীড়নে বারবার সাংগঠনিকভাবে দুর্বল হয়ে পড়ে বিএনপি।
তবে ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের পর পাল্টে যায় রাজনৈতিক সমীকরণ। আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পর বিএনপিতে যোগদানের হিড়িক দেখা দেয়। নতুন এই হাইব্রিডের ভিড়ে অনেক ত্যাগী নেতা দল থেকে দূরে সরে গেছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় নেতা কর্মীরা।
অনেক নতুন মুখ যোগ দিলেও দল এবার বেছে নিয়েছে তাদের—যারা মাঠে ছিলেন, আন্দোলনে ছিলেন, কারাভোগ করেছেন, মামলার মুখোমুখি হয়েছেন, হামলার শিকার হয়েছেন।
রাজশাহীর স্থানীয় রাজনীতিতে বিএনপির ঘোষিত প্রার্থীরা এখন নতুন উদ্যমে মাঠে।
প্রার্থীরা জানাচ্ছেন—এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতায় ফেরার লড়াই নয়; এটা জনগণের ভোটাধিকার ও ন্যায়বিচার পুনরুদ্ধারের সংগ্রাম।
তবে স্থানীয় বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ফলাফল নির্ভর করবে ভোটের দিনের পরিবেশ, প্রশাসনের ভূমিকা এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় সমন্বয়ের ওপর।


