এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা সদর হাসপাতালে সরকারি ব্যবস্থাপনায় জরুরি ভিত্তিতে একটি আধুনিক ও পূর্ণাঙ্গ ৪০ শয্যার কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপনের দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ সমাবেশ হয়েছে। আজ রোববার সকাল ১০টায় কক্সবাজার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনের প্রধান সড়কে এই কর্মসূচি পালন করা হয়।
অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী ও সামাজিক সংগঠন ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স-এর ব্যানারে আয়োজিত এই মানববন্ধনে বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ, ভুক্তভোগী রোগীর পরিবার এবং সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
৪৫ লাখ মানুষের ভরসা একটি হাসপাতাল, মানববন্ধনে বক্তারা কক্সবাজার জেলার বর্তমান জনমিতি ও ভৌগোলিক গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, বর্তমানে কক্সবাজার জেলার স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ২৯ লাখ। এর পাশাপাশি উখিয়া ও টেকনাফের বিভিন্ন ক্যাম্পে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের রোহিঙ্গা নাগরিকের সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। এছাড়া জেলায় চলমান সরকারের একাধিক মেগা প্রকল্পের কর্মকর্তা/কর্মচারী এবং প্রতিদিন গড়ে আসা পর্যটক মিলিয়ে আরও প্রায় ১ লাখ মানুষের সার্বক্ষণিক সমাগম থাকে এই পর্যটন নগরীতে।
সব মিলিয়ে প্রায় ৪৫ লাখের বিশাল এই জনগোষ্ঠীর সরকারি চিকিৎসা সেবার একমাত্র প্রধান ভরসাস্থল কক্সবাজার ২৫০ শয্যার জেলা সদর হাসপাতাল। কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, এত বিশাল জনসংখ্যার এই অঞ্চলে আজ পর্যন্ত সরকারিভাবে কোনো কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টার স্থাপন করা হয়নি।
বেসরকারি হাসপাতালে ব্যয়, নিঃস্ব রোগীরা সমাবেশে বক্তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, জলবায়ু পরিবর্তন, ভেজাল খাদ্যসহ নানা কারণে কক্সবাজারে দিন দিন কিডনি রোগীর সংখ্যা আশঙ্কাজনক ভাবে বাড়ছে। সরকারি হাসপাতালে ডায়ালাইসিসের ব্যবস্থা না থাকায় এখানকার দরিদ্র ও মধ্যবিত্ত রোগীরা চরম বিপাকে পড়েছেন। বেসরকারি ক্লিনিকে বা প্রাইভেট সেন্টারে প্রতি সেশনে ডায়ালাইসিস করতে ৪ থেকে ৫ হাজার টাকা খরচ হয়, যা একটি সাধারণ পরিবারের পক্ষে সপ্তাহে দুই-তিনবার বহন করা অসম্ভব। ফলে চিকিৎসার খরচ জোগাতে গিয়ে অনেক পরিবার আজ নিঃস্ব হয়ে পড়েছে এবং বহু রোগী সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে অকালেই মারা যাচ্ছেন।
বক্তারা আরও বলেন, যাদের কিছুটা সামর্থ্য আছে, তাদেরকে প্রতিনিয়ত চড়া খরচ ও যাতায়াতের চরম ভোগান্তি মাথায় নিয়ে চট্টগ্রাম বা ঢাকায় ছুটতে হচ্ছে। অনেক সময় দূরপাল্লার যাতায়াতের ধকল সইতে না পেরে পথেই রোগীর অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে ওঠে।
স্মারকলিপি প্রদান ও কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি
মানববন্দন শেষে আয়োজক সংগঠন ‘ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স’-এর নেতৃবৃন্দ জেলা প্রশাসকের মাধ্যমে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বরাবর একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন।
সমাবেশে বক্তারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কক্সবাজারের মানুষের এই দাবি কোনো বিলাসী দাবি নয়, এটি বেঁচে থাকার মৌলিক অধিকার। আমরা জেলা সদর হাসপাতালে পর্যাপ্ত শয্যা ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংবলিত একটি স্থায়ী সরকারি ডায়ালাইসিস সেন্টার চাই। যদি অনতিবিলম্বে আমাদের এই ন্যায্য দাবি মেনে নিয়ে দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া না হয়, তবে আগামীতে কক্সবাজারের সর্বস্তরের জনগণকে সাথে নিয়ে আরও কঠোর ও লাগাতার কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন কক্সবাজার জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নান, কক্সবাজার জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তৌহিদ বেলাল, ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স-এর সভাপতি মো. কামরুল হাসান, কক্সবাজার সাংবাদিক ইউনিয়নের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ছৈয়দ আলম, কক্সবাজার সোসাইটির সভাপতি কমরেড গিয়াস উদ্দিন, সেইভ দ্য কক্সবাজার-এর পরিচালক অধ্যাপক কবির সিদ্দিকী এবং জাতীয় সংবাদ সংস্থার সভাপতি খোরশেদ আলম, ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স-এর অর্থ সম্পাদক জাকের হোসাইন, সাংগঠনিক সম্পাদক রিয়াজ উদ্দিন, কার্যকরী সদস্য মনির আলম, সদস্য শাহনেওয়াজ দিদার; কক্সবাজার ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির অ্যাডমিন ইমরান হোসাইন নবী, আস্থা ব্লাড ডোনার্স ক্লাব কক্সবাজার-এর প্রতিষ্ঠাতা জানে আলম মিতুল, রামু ব্লাড ডোনার্স সোসাইটির কো-অ্যাডমিন আবু বক্কর সিদ্দীক রাহী, ব্লাড বক্স অব বাংলাদেশ কক্সবাজার-এর সভাপতি আব্দুল হামিদ এবং হাসিমুখ ফাউন্ডেশনের সভাপতি মাহবুব কাওসার সহ স্থানীয় সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com