আবু রায়হান, মণিরামপুর যশোরঃ
যশোরের মণিরামপুর উপজেলার চিনাটোলা বাজারে শারদীয় দুর্গাপূজা এলেই দেখা মেলে মাটির তৈরি হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল ও নানা রকম খেলনার জমজমাট পসরা। প্রায় ৫০ বছরের ঐতিহ্য ধরে রেখেছে চিনাটোলা বাজারের এই মৃৎশিল্প। মাটির সামগ্রী তৈরির সঙ্গে যুক্ত নয়ন কুমার পাল ও জয়ন্ত কুমার পাল নিজেদের হাতে তৈরি মাটির পণ্য নিয়ে প্রতিবছরই হাজির হন দুর্গাপূজার উৎসবকে ঘিরে।
বাজারে তাঁদের দোকানজুড়ে সাজানো থাকে বাহারি রঙের মাটির হাঁড়ি-পাতিল, পুতুল, পশুপাখির প্রতিকৃতি ও শিশুদের জন্য নানা ধরনের খেলনা। লাল, সবুজ, হলুদসহ বিভিন্ন রঙে সাজানো এসব মাটির সামগ্রী পথচারী ও ক্রেতাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। উৎসবের আমেজে এসব পণ্য কিনতে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ।
দুর্গাপূজা উপলক্ষে প্রতিবছরই চিনাটোলা বাজারে বসে মাটির সামগ্রীর দোকান। বিশেষ করে শিশুদের কাছে এসব খেলনার আকর্ষণ আলাদা। বাবা-মায়ের হাত ধরে বাজারে আসা শিশুরা পছন্দের খেলনা কিনতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। হিন্দু-মুসলিমসহ বিভিন্ন ধর্মের পরিবারের শিশুরা এসব খেলনা কিনে নেয়, যা উৎসবের আনন্দে যোগ করে সম্প্রীতির এক সুন্দর চিত্র।
আধুনিক সময়ে প্লাস্টিকসহ নানা উপকরণের খেলনার প্রচলন বাড়লেও মাটির তৈরি খেলনা ও হাঁড়ি-পাতিলের প্রতি মানুষের আগ্রহ এখনো রয়েছে। হাতে তৈরি এসব সামগ্রী শুধু শিশুদের আনন্দের উপকরণ নয়, বরং বাংলার লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যবাহী মৃৎশিল্পেরও পরিচয় বহন করে।
৫০ বছরের ঐতিহ্যকে বুকে ধারণ করে নয়ন কুমার পাল ও জয়ন্ত কুমার পালের মতো কারিগরেরা নিজেদের শ্রম, দক্ষতা ও সৃজনশীলতার মাধ্যমে মাটির শিল্পকে টিকিয়ে রাখতে ভূমিকা রাখছেন। তাঁদের তৈরি মাটির সামগ্রী একদিকে যেমন মানুষের শৈশবের স্মৃতি জাগিয়ে তোলে, অন্যদিকে তেমনি গ্রামীণ ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে পরিচিত করে।
চিনাটোলা বাজারের এই মাটির খেলনার পসরা তাই কেবল কেনাবেচার আয়োজন নয়; এটি বাংলার ঐতিহ্য, লোকজ কারুশিল্প ও ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের মিলনমেলারও প্রতিচ্ছবি। দীর্ঘ ৫০ বছরের ঐতিহ্য আর মাটির প্রতি মানুষের ভালোবাসায় দুর্গাপূজার সময় চিনাটোলা বাজারের এই আয়োজন পায় ভিন্নমাত্রা।
সম্পাদক ও প্রকাশক: মো: সাইফুল ইসলাম|
সম্পাদকীয়, বার্তা ও বাণিজ্যিক কার্যালয়: ১৮৮, এম জে টাওয়ার (৮ম তলা), ফকিরাপুল (বড় মসজিদের পাশে) মতিঝিল, ঢাকা-১০০০। মোবাইল:- ০১৯১৯৯২০০৫৮, ০১৮১৯৯২০০৫৮, ই মেইল: gomtirbarta@gmail.com