মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি :
হবিগঞ্জের মাধবপুর থানায় এক নিরপরাধ যুবককে দীর্ঘ সময় আটক রেখে মামলার ভয় দেখিয়ে ৫০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে থানার এসআই নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে। আরও ৩০ হাজার টাকা না দেওয়ায় তাকে পুরাতন মামলায় ‘তদন্তে প্রাপ্ত আসামি’ দেখিয়ে দেরিতে আদালতে প্রেরণ করার অভিযোগও করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সূত্রে জানা যায়, ছাতিয়াইন ইউনিয়নের আলেকপুর গ্রামের মৃত জাহের মিয়ার ছেলে কামরুল হাসান মাধবপুর থানায় দায়ের হওয়া গত ২৫ নভেম্বরের মামলা নং–৩২-এ আগেই আদালত থেকে জামিন পান।
জামিননামা জমা ও জব্দকৃত মালামাল সংক্রান্ত বিষয়ে পরামর্শের জন্য গত ১৭ জানুয়ারি (শনিবার) দুপুরে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই বিজয় দেব নাথের সঙ্গে মাধবপুরের হোটেল হাইওয়ে ইন-এ সাক্ষাৎ করেন কামরুল। অভিযোগ রয়েছে, সেখান থেকে কৌশলে তাকে থানায় নিয়ে যাওয়া হয়।
পরিবারের দাবি, থানায় নিয়ে প্রায় ১৪ ঘণ্টা আটক রেখে এসআই নাজমুল হাসান তার কাছে টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে একাধিক মামলায় আসামি করার ভয় দেখানো হয়। আতঙ্কিত হয়ে কামরুল তার ছোট ভাই মোশারফ হাসানকে টাকা আনতে বলেন। পরে মোশারফ থানায় গিয়ে ৫০ হাজার টাকা প্রদান করেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, ওই টাকা নেওয়ার পরও আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে কামরুলকে এসআই নাজমুলের তদন্তাধীন গত বছরের ১৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখের মামলা নং–৩৮-এ ‘তদন্তে প্রাপ্ত আসামি’ দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়, মাধবপুর থানা, ছাতিয়াইন পুলিশ ফাঁড়ি ও হবিগঞ্জ আদালতে খোঁজ নিয়ে কামরুলের বিরুদ্ধে কোনো মামলা বা গ্রেপ্তারি পরোয়ানার তথ্য পাওয়া যায়নি। ১৭ জানুয়ারি আটক করার পর ১৮ জানুয়ারি আদালতে পাঠানো হলে একদিন কারাভোগ শেষে ১৯ জানুয়ারি তিনি জামিনে মুক্তি পান।
এ নিয়ে ভুক্তভোগীর ভাই সোমবার ১৯ জানুয়ারি মোশারফ হাসান অভিযুক্ত পুলিশ কর্মকর্তা এসআই নাজমুল হাসানের বিরুদ্ধে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপারের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগপত্রে বেআইনিভাবে আটক, ঘুষ আদায়, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং বিচারপ্রক্রিয়ায় হয়রানির বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে এসআই নাজমুল হাসান ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, কামরুল এজাহারভুক্ত আসামি বা ওয়ারেন্টভুক্ত ছিলেন না। তবে তাকে আইন অনুযায়ী যথাসময়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ঘটনাটি নিয়ে পুলিশের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ হওয়ায় সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।


