ফাহিম হোসেন রিজু, ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
সরকারি দপ্তরের অতি গোপনীয় নথিপত্র ও ডিজিটাল সিস্টেমের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ দেখা দিয়েছে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার ৩ নং সিংড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে। অফিসের সহকারী তহশিলদারের ব্যবহৃত কম্পিউটারের পাসওয়ার্ড এখন এক অপরিচিত ব্যক্তির দখলে। দিনের বেলাতেই সরকারি চেয়ারে বসে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র নিয়ন্ত্রণ করছেন জনৈক ‘নারায়ণ’ নামের এক ব্যক্তি, যার কোনো দাপ্তরিক বৈধতা নেই।
অনুসন্ধানে জানা যায়, গত ১৯ জানুয়ারি বিকেল ৪ ঘটিকার সময় সিংড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় এক অভাবনীয় চিত্র। অফিসের দায়িত্বশীল কেউ উপস্থিত না থাকলেও সহকারী তহশিলদারের চেয়ারে বসে অত্যন্ত সাবলীলভাবে কম্পিউটারে কাজ করছেন নারায়ণ নামের ওই ব্যক্তি। অনুসন্ধানে দেখা যায়, তিনি সরকারি কম্পিউটারের গোপন পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে লগ-ইন করেছেন এবং ডাটাবেজে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট সংযুক্ত করছেন।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা তার পরিচয় জানতে চাইলে তিনি নিজেকে নারায়ণ পরিচয় দিয়ে বলেন, তাকে তহশীলদার কয়েকদিনের জন্য কাজ করতে এনেছেন। তবে নিয়োগ সংক্রান্ত কোনো কাগজপত্র দেখাতে বললে তিনি স্বীকার করেন, তিনি “আনঅফিসিয়ালি” কাজ করছেন।
এ বিষয়ে সহকারী তহশীলদার মোতালেব হোসেন-এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি দাবি করেন, নারায়ণ তার আত্মীয় এবং ঘোড়াঘাটে বেড়াতে এসেছেন। যদিও অফিস কক্ষে বসে কম্পিউটারে কাজ করার ভিডিও প্রমাণ দেখানো হয়, তবুও তিনি বিষয়টি অস্বীকার করেন।
ঘটনাটি প্রশাসনের নজরে আনলে আব্দুল আল মামুন কাওছার শেখ, সহকারী কমিশনার (ভূমি), প্রথমে বলেন তিনি বিষয়টি তহশীলদারের সঙ্গে কথা বলে জানাবেন। পরবর্তীতে তিনি জানান, তহশীলদারের বক্তব্য অনুযায়ী ওই ব্যক্তি তার আত্মীয় এবং শিগগিরই এলাকা ত্যাগ করবেন।
তবে প্রশাসনের এ ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট নন স্থানীয় সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি বলেন, ভূমি অফিস একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল দপ্তর। এখানে জমির খতিয়ান, নামজারি, রেকর্ড সংশোধনসহ গুরুত্বপূর্ণ সরকারি তথ্য সংরক্ষিত থাকে। সেখানে পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে কোনো বহিরাগত ব্যক্তি কাজ করলে জালিয়াতি ও নথি বিকৃতির আশঙ্কা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই নানা অনিয়মের কথা শোনা গেলেও কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় এমন ঘটনা বারবার ঘটছে। তারা অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত কমিটি গঠন করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদঘাটন এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
এই ঘটনায় সিংড়া ইউনিয়ন ভূমি অফিসের তথ্য নিরাপত্তা, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।


