এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজার জেলার সাম্প্রতিক আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও সমাজের বর্তমান প্রেক্ষাপট নিয়ে নিচের ছবি দুটো যোগ করে ২৮-৩-২০২৬ তারিখ তার ভেরিফাইড পেইজ আপলোড দেয়, যা সাথে সাথে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়ে যায়, তা পাঠকের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো:- 🖌️ আমার এই চেনা জানা ছোট্ট শহরটি আজ বড্ড অচেনা। অপরিচিত। আতঙ্কের শহর! যে শহর ছিল আমার প্রাণের শহর। যে শহরে আমি বেড়ে উঠেছি। শৈশব, কৈশোর পেরিয়ে আমি এখন ষাটোর্ধ। আমার এখনো মনে আছে, আমরা যখন স্কুল কলেজে পড়ছি তখন প্রচন্ড তাপদাহে অতিষ্ঠ হয়ে রাত বিরাতে সমুদ্রের শীতল হাওয়া খেতে দল বেঁধে বেরিয়েছি। ভয় হয়নি কখনো। নির্ভয়ে ঘুরেছি শহরের সর্বত্র। প্রায়শই সমুদ্র স্নানে যেতাম। রোজার সময় ফজরের নামাজের পর দল বেঁধে পাড়া মহল্লার ছেলে মেয়েরা সমুদ্র সৈকতে যেত সূর্য স্নানে। তখনও প্রেম ভালোবাসা ছিল। তবে ধর্ষণ ছিল না। ছিল না ছিনতাই। আর এখন আমার এই প্রিয় শহরটিতে এক মাসে ছয়জন খুন হয়েছে। অহরহ ছিনতাইয়ের ভয়াবহ ঘটনা ঘটছে। লোমহর্ষক খুন খারাপির শিকার হচ্ছে মানুষ। রোহিঙ্গা ও মাদকের ভয়ংকর আগ্রাসন থেকে আমাদের ছেলে মেয়েদের বাঁচাতে পারছিনা। এর মধ্যে শুনছি বিভিন্ন গ্যাংস্টার ও মাফিয়াদের নাম। নতুন করে সৃষ্টি হয়েছে কিশোর গ্যাং। অমুক গ্রুপ তমুক গ্রুপ। এসব গ্রুপের নাম শুনলে ভয়ে বুক কাঁপে। তাঁরা নাকি বিভিন্ন এলাকাও নিয়ন্ত্রণ করছে। এসব সন্ত্রাসীরা আবার বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মদদপুষ্ট থাকে। তাদের বেপরোয়া চাল-চলনে অতিষ্ঠ পৌরবাসী। অনেক সময় প্রশাসনও আসহায় হয়ে পড়ে।
এটাকে আমি সামজিক ব্যাধি হিসাবে উল্লেখ করতে চায়। বর্তমানে সমাজ কাঠাঅত্যন্ত নড়বড়ে। সমাজপতিরা কলুষিত ও বিভিন্ন ভাবে পক্ষপাতদুষ্ট। কক্সবাজার জেলার এই পর্যটন শহরটির প্রায় পাড়া মহল্লায় কোন সমাজ কমিটি নেই। নেই কোন উপযুক্ত সামাজিক নেতৃত্ব। যা আমরা আগে অনেক যোগ্য মানুষকে দেখেছি। যারা সমাজের নেতৃত্ব দিয়েছেন। পারিবারিক শিক্ষা, শাসন ও শোষণের মধ্যে বড় হয়েছি আমরা বা আমাদের জেনারেশন। আমরাও দুষ্ট ছিলাম তবে বেয়াদব বা বখাটে ছিলাম না। এখন আত্মসামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে পরিবারের কর্তাদেরও সময় নেই ছেলে মেয়েদের খবর নেয়ার। যেন কোন রকম সময় কাটিয়ে দিচ্ছি আমরা! মানব সভ্যতার অদ্ভুত এক সময়ে আমরা উপনিত হয়েছি। যেখানে টিকটক, ফেইসবুক, ইনিষ্টিগ্রাম, ওয়াটসআপ সহ আরো অনেক এ্যাপস এর অপব্যবহারে সামাজিকতা অস্থিরতা বাড়ছে এবং টিনএজরা বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত হতে দেখা যাচ্ছে।
গত ২৫ মার্চ রাত নয়টার দিকে সমুদ্র সৈকতের বালি আঁড়িতে খোরশেদ আলম নামে এক টগবগে তরুণ ছাত্রদল কর্মীকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। ওর হত্যার রহস্য এখনো স্পষ্টভাবে উদ্ঘাটন পুরোপুরি সম্ভব হয়নি। খোরশেদ হত্যার ঘটনায় প্রশাসন সহ সবাই একটু নড়েচড়ে বসেছে বলে মনে হয়েছে। আমাদের এবার কিছুটা বোধদয় হলেও হতে পারে! সামাজিক অপরাধ দমনে শুধু পুলিশ বা আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দোষারোপ করে আমরা কি দায় এড়াতে পারি? কখনো না। সমজের দায়িত্ব বেশী। সামাজিক শক্তিই পারে এসব সামাজিক অপরাধ গুলো প্রতিরোধ করতে। আমরা কেউ সমাজের বাইরে নয়। সমাজকে যদি আমরা শক্তিশালী করি। যোগ্য, সামর্থ্যবান ও ভালো মানুষের সামাজিক নেতৃত্ব সৃষ্টি করি তাহলে এসব সামাজিক অপরাধ গুলো দমন হবে এবং সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। এই শহরের সমাজ সচেতন সবাই এগিয়ে আসুন। এই ব্যাপারে জন প্রতিনিধিরাই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। বিশেষ করে আমাদের মাননীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী, আমাদের সকলের অভিভাবক ও কক্সবাজারের সন্তান জনাব সালাহ উদ্দিন আহমেদ এবং কক্সবাজার-৩ আসনের এমপি বন্ধু লুৎফুর রহমান কাজল কে অনুরোধ করব, এই শহরের সকল শ্রেণী ও পেশার প্রতিনিধি, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়ে বিভিন্ন সামাজিক অপরাধের কারণে দ্রুত অবনতিশীল পরিস্থিতির উন্নতির চেষ্টা করবেন। যাতে কক্সবাজার শহরের সুনাম ও সুখ্যাতি অক্ষুন্ন থাকে।
সবার আগে কক্সবাজার।


