আবু রায়হান, মণিরামপুর (যশোর):
দলীয় আচরনবিধি লঙ্ঘনের দায়ে বহিষ্কৃত নেতা মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট রাজনীতিবিদ এড.শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের পদ পূর্ণ বহালের দাবী জানিয়েছে উপজেলা বিএনপির কয়েকজন সিনিয়র নেতৃবৃন্দ ও মফস্বলের বিএনপির বিভিন্ন অংগসংগঠনের ত্যাগী নেতাকর্মীরা।
উল্লেখিত পদ পূর্ণ বহালের দাবীটি কোন আনুষ্ঠানিক নই,নই কোন ঘোষনার! মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতির পদে এম. ইকবাল হোসেন’কে পুনরায় দায়িত্ব অর্পণের মধ্য দিয়ে উপজেলা বিএনপির ভরা যৌবন ফিরে পেতে বেশ কয়েকজন নেতাকর্মী সোস্যাল মিডিয়ায় নিজস্ব ভেরিফায়েড ফেইসবুক আইডি হতে পোস্ট শেয়ারে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে চলেছে।
কেউ করছে ক্ষোভ প্রকাশ,কেউ জানাচ্ছে তীব্র নিন্দা! পৌরসভার ৯টি ওয়ার্ড ও উপজেলার ১৭টি ইউনিয়নের ওয়ার্ড পর্যায়ের ছেট বড় কিছু কিছু নেতাকর্মী নিজস্ব অভিব্যাক্তিতে দাবী করেছেন যে, মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির বিগত দিনের ইতিহাসে একজন ব্যাক্তি শহীদ ইকবাল কর্মী মূল্যায়নে সেরা। ফ্যাসিস্ট আমলে যে সমস্ত নেতা কর্মীরা মিথ্যা মামলার স্বীকার হয়েছিলো, তাদের বাড়িতে লোক পাঠিয়ে ডেকে নিয়েছেন পরিবারের সদস্যের মতো। দায়িত্ব নিয়ে আদালতের কাছে যুক্তিতর্কে ধারা বসিয়ে কর্মীকে মুক্ত করতে বার বার লড়েছেন সরকার দলের বিরুদ্ধে। তিনি উকিলি পেশার কালো পোশাকে থেকে কর্মীদের মামলা জটিলতা হতে মুক্ত রেখে আজ সকলের অন্তরে জায়গা পেয়েছেন। উপজেলা বিএনপির এক প্রথম শ্রেণির নেতা তো স্ব-গর্বে বলেছেন,এড. শহীদ ইকবালের নেতৃত্বের গুরুত্ব উপজেলা বিএনপির জন্য অপরিহার্য।
উপজেলা ব্যাপী নেতাকর্মীদের মন্তব্য সংগৃহিত চলতি এ প্রতিবেদনটি শুরু হয়েছিলো পবিত্র ঈদ উল ফিতরের আনন্দ ভাগাভাগিতে উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত ঈদ আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠান থেকে। যে অনুষ্ঠানে সিনিয়র নেতৃবৃন্দ হতে কর্মীরা পর্যন্ত শহীদ ইকবালের সাথে শুভেচ্ছা বিনিময়ে দেওয়া বক্তব্য সকলে সম্মিলিত ভাবে উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে এম. ইকবাল হোসেনকে আবারও ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখার আশাবাদ ব্যাক্ত করেন।
এদিকে,বহিষ্কৃত নেতার ছায়াতলে থেকে আচরণ বিধি লঙ্ঘনের দায়ে জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির অসন্তোষ চোখে পড়াতে ছাত্রদল,যুবদল,সেচ্চাসেবক এমনকি মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির ১৭ ইউনিয়নের কার্যক্রম স্থগিতের আদেশকে সাদরে গ্রহন করে শহীদ ইকবালের ছায়াতলে থাকার ঘোষণা দেন অনেক নেতা। ইতিমধ্য আবার কয়েজন নেতাকর্মী গ্রুপিংয়ের স্বীকারে ছায়াতল পরিবর্তনে উপজেলা বিএনপির রাজনৈতিক ধারা অব্যহত রেখেছেন।
তথ্য সংগ্রাহকের কাছে মফস্বলের প্রায় দেড় ডর্জন ইউনিয়ন বিএনপির নেতা এবং পৌর ও উপজেলা পর্যায়ের মুষ্টিমেয় কয়েকজন নেতা ছাড়া অধিকাংশ বিএনপির ত্যাগী নেতা উপজেলা বিএনপির সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনকে পূর্ণ বহালের পক্ষে মতামত দিয়েছেন।
তবে দলের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়ে ও একজন কর্মী থেকে নেতা কারো পক্ষে দলের সিদ্ধান্তের বাইরে যাওয়ার সুযোগ নাই স্বীকার করে উপজেলা বিএপির কয়েকজন প্রবীণ নেতা যুক্তিতর্ক উপস্থাপন করেছেন যে, ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কেন্দ্রীয় নির্দেশনা অমান্য করাটা শহীদ ইকবাল পরিষ্কার ভুল করেছে। আবার, তাকে প্রথম পর্যায়ে সংসদীয় আসনে বিএনপি প্রার্থীর মনোনীত করেও পরিবর্তনে জোট শরীকের মা.রশীদ আহমেদকে দলীয় প্রতীক বরাদ্দের বিষয়টি অনেকটা রাজনৈতিক পুরষ্কারের পরিবর্তে তিরস্কার হিসাবে গণ্য হয়েছে। একই সাথে সর্বশেষ জাতীয় নির্বাচনে প্রার্থী মনোনয়নের বিষয়টি বিএনপির জোট জটিলতা মূখ্য হয়ে উঠাতে এ নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী না হয়ে উপহজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের দলীয় নির্দেশনা অমান্য না করে ধানের শীষের পক্ষে কাজ করা উচিৎ ছিলো বলে মন্তব্য করেছেন উপজেলা বিএনপির প্রবীণ নেতৃবৃন্দরা।
নেতৃবৃন্দদের দেওয়া মন্তব্য সম্বলিত এক জরীপে উপজেলা বিএনপির সিঃ সহ-সভাপতি ও ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ,উপজেলা ও পৌর যুবদলের নেতৃবৃন্দ,উপজেলা ও পৌর ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি ও আহ্বায়ক,শ্রমীকদলের একাংশ,সেচ্চাসেবক দলের একাংশের নেতৃবৃন্দ সহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যাক্তিবর্গ উপজেলা বিএনপির সভাপতি হিসাবে পুনরায় এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনকে পূর্ণ বহালের দাবী জানিয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের বিশ্বস্ত সূত্র মাধ্যমের তথ্য বলছে,ইতিমধ্য দেশের প্রতিটি উপজেলাতে গ্রুপিং ভুলে সকল নেতাকর্মীদের নিয়ে একত্রে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে ফেরার নির্দেশ দিয়েছে কেন্দ্র কমিটি। এদিকে সর্বশেষ উপজেলা বিএনপির কার্যালয়ে আয়োজিত ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময়ে উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মোঃ মফিজুর রহমান মফিজ নেতাকর্মীদের আস্বস্ত করে বলেছিলেন,আমাদের জেলা কমিটির সাথে ইকবাল ভাইয়ের ব্যাপারে কথা হয়েছে। তারা আমাদের সবুজ সংকেত দিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থেকে দেশ পরিচালনা করা দলটির মণিরামপুর উপজেলা শাখার ভীত আরো মজবুত করতে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনের প্রয়োজনীয়তা অপরিসীম বলে মনে করছেন বাংলাদেশ পূজা উদযাপন ফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির নির্বাহী সদস্য সন্তোষ স্বর।
মণিরাপুর সদর ইউনিয়নের হ্যাট্রিক চেয়ারম্যান ক্ষ্যাত মোঃ নিস্তার ফারুক জানান,নিজের ভাই বলে বলছি না! মণিরামপুর উপজেলা বিএনপির অতীতের ইতিহাসে শহীদ ইকবালের অবদান আমার দেখা অনেক। এখনো পর্যন্ত উপজেলার ভেতরে মুসলিম,হিন্দু যে ধর্মের মানুষের মৃত্যু খবর পাওয়া মাত্র ছুটে যান শোকাহত পরিবারের সমবেদনা জানাতে।
মতামত প্রকাশে কলেজ ছাত্রদলের সাবেক নেতা, যুবনেতা মোঃ তৌহিদুল ইসলাম রনি উল্লেখ করেন যে, আমরা বিগত দিনে ফ্যাসিস্টদের বিরুদ্ধে রাজপথে থেকে বিএনপির নেতৃত্ব দিয়েছি। বিপদ আপদে সামনে থেকে একমাত্র শহীদ ইকবাল ভাই আমাদের পাশে দাড়িয়েছে,সামনে থেকে যুগিয়েছে সাহস।
উল্লেখ্য,ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে যশোর-৫ মণিরামপুর আসনে বিএনপি এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন’কে দলীয় মনোনয়ন দিলেও পরবর্তীতে জোট শরীক প্রার্থী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের মাওঃ রশীদ আহমেদ’কে মনোনীত করলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে নির্বাচন করায় কেন্দ্রীয় নির্দেশনা মোতাবেক দলটি উপজেলা বিএনপির সভাপতির পদ হতে এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন’কে বহিষ্কার করে। তবে, নির্বাচনে এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেন কলস প্রতীকে
৮৪,২৭৬ টি ভোট পেয়ে বিজয়ী প্রার্থীর দাড়িপাল্লা প্রতীকের পর ২য় অবস্থান করে। যেখানে বিএনপির জোট শরীক প্রার্থী ধানের শীষ প্রতীকে ৫৪,৪১৫ টি ভোট পেয়ে চরম পরাজয় বরন করে।
সর্বমোট প্রাপ্ত ভোট সংখ্যা নিরুপনে সাবেক সভাপতির পরিবর্তে বিএনপির মনোনীত প্রার্থীর ভরাডুবিতে যে হতাশা দেখেছে মণিরামপুর উপজেলা বিএনপি,সে দিক দিয়ে বিবেচনায় জোট জটিলতায় এ আসনটি হারিয়েছে বিএনপি। এদিকে ভোট যুদ্ধে সংসদীয় আসন যশোর ৫ (মণিরামপুর) রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় থাকা বিএনপি হারানোর পর দলের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করায় এড শহীদ মোঃ ইকবাল হোসেনকে বহিষ্কারের পর হতে উপজেলা বিএনপির কার্যক্রমে দেখা দিয়েছে তীব্র সংকট।


