নিজস্ব প্রতিবেদক
যশোরের মনিরামপুরে হরিহরনদী খননের অতিরিক্ত মাটি বিক্রয়ের টেন্ডারকে কেন্দ্র করে পৌরসভা কার্যালয়ে মাটি বরাদ্দ নিয়ে বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) সন্ধ্যার পর থেকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এ ঘটনায় দুই পক্ষই অন্তত ১২ থেকে ১৪ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে। তবে পুলিশ বলছে, বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌরসভা কার্যালয়ে মাটি কাটার বরাদ্দ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে বিদ্যুৎ অফিসের সামনে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। পরে দুই গাড়ি পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
উপজেলা জামায়াতের আমীর অধ্যাপক ফজলুর হক বলেন, তাদের কিছু লোকজন টেন্ডারে অংশ নেন। মাগরিবের নামাজের পর জামায়াতে ইসলামী উপজেলা সহকারী সেক্রেটারি অধ্যাপক আহসান হাবীব লিটন, মাওলানা মহিউল ইসলাম, ইঞ্জিনিয়ার ফারুক, ছাত্রশিবিরের ফাহিম, আব্দুল মমিনসহ প্রায় ৮-১০ জন নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। কয়েকজনকে অবরুদ্ধ করা হয়। তিনি জামায়াতে ইসলামীর উপজেলা অফিস ভাঙচুরের অভিযোগও করেন।
অন্যদিকে, উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. আসাদুজ্জামান মিন্টু জানান, জামায়াতই প্রথমে সন্ধ্যায় ছাত্রদল নেতা সালিমুন হোসেনকে মারধর করে। এরপর রাত নয়টার দিকে সবুজ হোসেনের ওপর আবার হামলা চালানো হয়। এছাড়া দুর্গাপুরের আলামিন ও সাবেক ছাত্র নেতাঅলিয়ার রহমান আহত হয়েছেন। সবুজের দোকানও ভাঙচুর করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
এ বিষয়ে মনিরামপুর থানা ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আবু সাঈদ ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, নদী খননের মাটির টেন্ডারকে কেন্দ্র করে বিএনপি-জামায়াতের পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়েছে। তবে এখনো পর্যন্ত কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এলাকায় টহল জোরদার করা হয়েছে। তবে তিন থেকে চারজন আহত হয়েছেন বলে দাবি করেন তিনি।


