মোঃ মাসুম বিল্লাহ্ বরগুনা জেলা প্রতিনিধি।।
দেশব্যাপী একযোগে তিনদিনব্যাপী ভূমিসেবা মেলা–২০২৬ শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার (১৯মে) সকালে ঢাকার তেজগাঁওস্থ ভূমি ভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ভার্চুয়ালি এ মেলার উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের অংশ হিসেবে সকাল ১০টায় বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সুবর্ণজয়ন্তী সম্মেলন কক্ষে উদ্বোধনী কার্যক্রম সরাসরি প্রদর্শন করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তারসহ জেলা প্রশাসনের সকল কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বরগুনা উপজেলা ভূমি অফিস প্রাঙ্গণে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তারের সভাপতিত্বে স্থানীয় উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম খলিল, সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাতাহ, পৌর প্রশাসক ও অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট সজল চন্দ্র শীল, উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোঃ শাহ আজিজ, সদর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) শাওন মজুমদার সুমন, বরগুনা জজকোর্টের পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন এবং প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমানসহ বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, সুধীজন ও গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
জেলা পরিষদ প্রশাসক মোঃ নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন,
“এই সরকার জনগণের সরকার। জনগণ যেন বৈষম্যহীনভাবে সেবা পায়, সে বিষয়ে সবাইকে সচেষ্ট থাকতে হবে।”
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইব্রাহিম খলিল বলেন,
“আগে জমিজমা বিষয়ে পুলিশ সরাসরি সহায়তা দিতে পারত না, এখন তা সম্ভব হয়েছে। ভূমি–সংক্রান্ত বিরোধে প্রয়োজন হলে পুলিশ প্রশাসনের সহায়তা পাওয়া যাবে।”
সিভিল সার্জন ডাঃ মোহাম্মদ আবুল ফাতাহ বলেন,
“ডিজিটাল যুগে ভূমি সেবার মান আরও উন্নত হয়েছে, মানুষের ভোগান্তি কমেছে।”
পিপি অ্যাডভোকেট নুরুল আমিন বলেন,
“ভূমি–সংক্রান্ত আইনি জটিলতায় জনগণ এখন আগের তুলনায় দ্রুত সহায়তা পাচ্ছে।”
প্রেসক্লাব সভাপতি মোঃ হাফিজুর রহমান বলেন,
“ডিজিটালাইজেশনের ফলে সেবা গ্রহণকারী সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত খরচ, ঝামেলা ও দালালচক্রের মাধ্যম থেকে অনেকটাই মুক্ত হচ্ছে।”
সভাপতির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক মিজ্ তাছলিমা আক্তার বলেন,
“বরগুনা ভূমি সেবায় সারা দেশের মধ্যে প্রথম সারিতে রয়েছে। আগে নামজারি পেতে যেখানে ৪৫ দিন লেগে যেত, এখন ডিজিটাল ব্যবস্থাপনায় মাত্র ১৪ দিনেই সেবা পাওয়া যাচ্ছে। জনগণের ভোগান্তি কমাতে আমরা দ্রুত, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক সেবা নিশ্চিত করছি।”
তিনি আরও ঘোষণা দেন—
“ভূমি অফিসকে সম্পূর্ণ দালালমুক্ত করা হবে। যারা দালালি করে জনগণকে হয়রানি করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে র্যালি, ফিতা কাটা ও বেলুন উড়িয়ে তিনদিনব্যাপী মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়।


