ফুলবাড়ীয়া (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধিঃ
কোরবানির ঈদকে ঘিরে জমে উঠতে শুরু করেছে গরুর হাট। ক্রেতা-বিক্রেতার হাঁকডাকে মুখর চারদিক। এরই মধ্যে ময়মনসিংহের ফুলবাড়ীয়া উপজেলার কুশমাইল ইউনিয়নের চকরাধাকানাই গ্রামে দেখা মিলেছে বিশাল আকৃতির এক ষাঁড় গরুর। নাম তার ‘সাদাময়না’।
সাদা কালো রঙের ফ্রিজিয়ান জাতের এই বিশালদেহী ষাঁড়টি এখন এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। প্রতিদিন দূর-দূরান্ত থেকে মানুষ ভিড় করছেন গরুটি এক নজর দেখতে। স্থানীয়দের কাছে এটি যেন এক অঘোষিত সেলিব্রিটিতে পরিণত হয়েছে।
গরুটির মালিক হোমিও চিকিৎসক মোঃ নুরুল কাইয়ুম স্বপন ডাক্তার। পেশায় চিকিৎসক হলেও পশু লালনের প্রতি রয়েছে তার আলাদা ভালোবাসা। প্রায় পাঁচ বছর ধরে নিজের সন্তানের মতো যত্নে লালন পালন করেছেন ‘সাদাময়না’কে।
বর্তমানে ষাঁড়টির ওজন প্রায় ৩৫ মণ। লম্বায় প্রায় সাড়ে ৯ ফুট, উচ্চতা সাড়ে ৫ ফুট এবং শরীরের পরিধি প্রায় ৮ ফুটের বেশি। গায়ের সাদা-কালো মিশ্র রঙের কারণে পরিবারের সদস্যরাই আদর করে নাম রেখেছেন ‘সাদাময়না’।
স্বপন ডাক্তার জানান, জন্মের পর থেকেই সম্পূর্ণ প্রাকৃতিক উপায়ে গরুটিকে বড় করা হয়েছে। কোনো ধরনের মোটাতাজাকরণ ওষুধ, ইনজেকশন বা কৃত্রিম খাদ্য ব্যবহার করা হয়নি। প্রতিদিন দুইবার গোসল করানো হয়। খাবার হিসেবে দেওয়া হয় প্রায় ১০ কেজি গুড়াভূষি, ৫ কেজি খড় ও ৫ কেজি কচি ঘাস। গরুটির পেছনে প্রতি মাসে প্রায় ২০ হাজার টাকা খরচ হয় বলেও জানান তিনি।
স্বপনের ছেলে ঈমাম মেহেদী বলেন,সাদাময়না শুধু একটি গরু নয়, আমাদের পরিবারের একজন সদস্য। ছোটবেলা থেকেই আমরা তাকে অনেক যত্নে রেখেছি। নিয়মিত খাওয়ানো, গোসল করানো, হাঁটানো ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার দিকে বিশেষ নজর রাখা হয়। গরমের সময় গোয়ালঘরে ২৪ ঘণ্টা সিলিং ফ্যান চালু রাখা হয়।
গরুটির মালিক আরও জানান, গত কোরবানির ঈদে ‘সাদাময়না’র দাম উঠেছিল প্রায় সাড়ে ৭ লাখ টাকা। তবে তার প্রত্যাশা ছিল ১০ লাখ টাকা, তাই বিক্রি করেননি। এবার ঈদ সামনে রেখে আরও যত্নে প্রস্তুত করা হচ্ছে গরুটিকে।
স্বপন মিয়া বলেন, এটা শুধু একটা ষাঁড় নয়, আমার শ্রম, ভালোবাসা আর বিশ্বাসের ফল। আশা করছি এবার কেউ আমার এই পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য দেবেন।তিনি আরও জানান, যে ক্রেতা গরুটি কিনবেন, জেলার যেকোনো স্থানে নিজ খরচে পৌঁছে দেবেন তিনি।
প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত উৎসুক মানুষ ভিড় করছেন ‘সাদাময়না’কে দেখতে। অনেকে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শেয়ার করছেন। এলাকাবাসীর ভাষায়, ঈদের আগেই ‘সাদাময়না’ যেন এক অন্যরকম উৎসবের নাম।


