দেবহাটা (সাতক্ষীরা) প্রতিনিধি:
সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর পার্কে দীর্ঘদিনের মাদক সিন্ডিকেট, দর্শনার্থীদের ব্ল্যাকমেইল এবং পার্কের অভ্যন্তরে অসামাজিক কার্যকলাপের বাস্তব চিত্র তুলে ধরতে গিয়ে সন্ত্রাসী হামলার শিকার হয়েছেন সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্ট ও অনলাইন পোর্টাল ‘সাতনদী’র রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুন। হামলায় তাকে গুরুতর লাঞ্ছিত করার পাশাপাশি তার কাছে থাকা নগদ অর্থ এবং সংবাদ সংগ্রহের কাজে ব্যবহৃত মূল্যবান ইলেকট্রনিক গ্যাজেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, শ্যামনগরের গোপালপুর পার্কটিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে একটি প্রভাবশালী মাদক সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। এই চক্রটি পার্কে ঘুরতে আসা সাধারণ দর্শনার্থীদের বিভিন্নভাবে ভয়-ভীতি প্রদর্শন, জিম্মি এবং ব্ল্যাকমেইল করে মোটা অঙ্কের টাকা ও মূল্যবান জিনিসপত্র হাতিয়ে আসছিল। রাজনৈতিক ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে এই সিন্ডিকেট পার্কের ভেতরে তরুণ-তরুণীদের অবাধ মেলামেশা ও বিভিন্ন অসামাজিক কাজের নিরাপদ আশ্রয়স্থল বানিয়ে তুলেছিল। স্থানীয় বাসিন্দারা অতিষ্ঠ হলেও এই প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খোলার সাহস পেত না।
গত কয়েকদিন আগে মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতায় যুক্ত আব্দুল্লাহ আল মামুন সরেজমিনে গোপালপুর পার্কে যান। সেখানে তথ্য-প্রমাণ ও ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহের একপর্যায়ে মাদক সিন্ডিকেটের সদস্যরা সংঘবদ্ধ হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। সন্ত্রাসীরা তাকে মারধর করে এবং ঘটনার প্রমাণ নষ্ট করতে তার ক্যামেরা, ফোনসহ অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ও সঙ্গে থাকা নগদ টাকা ছিনিয়ে নিয়ে দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।
এদিকে, একজন সংবাদকর্মী ও সোশ্যাল অ্যাক্টিভিস্টের ওপর এমন বর্বরোচিত হামলার ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে সমগ্র সাতক্ষীরা জেলা জুড়ে তীব্র নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় বইছে। আঞ্চলিক বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমেও ঘটনাটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশিত হয়েছে। নেটিজেন ও সচেতন নাগরিক সমাজ এই ন্যাক্কারজনক হামলার তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে অপরাধীদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি তুলছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সুধীসমাজ ও ভুক্তভোগীরা জানান, পার্কের ভেতরের এই অপরাধের সাম্রাজ্য গুঁড়িয়ে দিতে এবং সাংবাদিকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রিপোর্টার আব্দুল্লাহ আল মামুনের ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং এই মাদক ও অসামাজিক সিন্ডিকেটের সাথে জড়িত মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনতে সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসনের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন জেলার কর্মরত সাংবাদিক ও সাধারণ জনগণ।


