ঢাকাMonday , 22 June 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • পার্বত্য ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর আয়কর অব্যাহতি বহালের দাবি, অর্থমন্ত্রীর কাছে চার এমপির চিঠি।

    admin
    June 22, 2026 6:23 pm
    Link Copied!

    উমংনু মারমা
    বান্দরবান প্রতিনিধি।

    পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণের জন্য বিদ্যমান আয়কর অব্যাহতি সুবিধা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছেন তিন পার্বত্য জেলার সংসদ সদস্যসহ সংরক্ষিত আসনের একজন সংসদ সদস্য। একই সঙ্গে ২০২৬ সালের অর্থবিলে প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে বিদ্যমান সুবিধাকে আরও যুগোপযোগী করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

    গত শনিবার (২১ জুন) অর্থমন্ত্রী বরাবর পাঠানো এক যৌথ পত্রে খাগড়াছড়ি-২৯৮ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল ওয়াদুদ ভূঁঞা, রাঙ্গামাটি-২৯৯ আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান, বান্দরবান-৩০০ আসনের সংসদ সদস্য সাচিং প্রু এবং সংরক্ষিত আসন-৩৪ এর সংসদ সদস্য মাধবী মারমা স্বাক্ষরিত চিঠিতে এ দাবি জানানো হয়েছে। 

    বিষয়টি সংরক্ষিত আসন-৩৩৪ এর ৩৪ সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বিষয়টি নিশ্চিত করেন। 

    সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য মাধবী মারমা বলেন, “আয়কর অধ্যাদেশ ১৯৮৪ এর অনুযায়ী ষষ্ঠ তফসিলের অংশ ১ এর অনুচ্ছেদ ২৭ এবং পরবর্তীতে আয়কর আইন ২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিলের ১৯ অনুযায়ী রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাভাবিক ব্যক্তিদের কেবল পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় আয়করমুক্ত ছিল। সেটাকেই ভিত্তি করে আমরা আয়কর করমুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছি।”

    চিঠিতে বলা হয়, আয়কর অধ্যাদেশ-১৯৮৪ এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-১ এর অনুচ্ছেদ ২৭ এবং পরবর্তীতে আয়কর আইন-২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-১ এর অনুচ্ছেদ ১৯ অনুযায়ী রাঙ্গামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাভাবিক ব্যক্তিদের কেবল পার্বত্য জেলায় পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড থেকে অর্জিত আয় আয়করমুক্ত রয়েছে।

    কিন্তু ১০ জুন জাতীয় সংসদে উত্থাপিত অর্থবিল ২০২৬ এ অনুচ্ছেদ ১৯ সংশোধনের প্রস্তাব করা হয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, ‘অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড’ শব্দের পরে (বেতন হতে আয় ও আর্থিক পরিসম্পদ হতে আয় ব্যতীত) শব্দগুলো যুক্ত করা হবে। ফলে আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে পার্বত্য চট্টগ্রামের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর চাকরিজীবীদের বেতন এবং আর্থিক সম্পদ থেকে অর্জিত আয় করের আওতায় চলে আসবে।

    আবেদনকারী তিন জেলার সংসদ সদস্যরা তাদের পত্রে আরও উল্লেখ করেন, পার্বত্য চট্টগ্রামের অধিকাংশ মানুষের প্রধান জীবিকা জুমচাষ ও কৃষি। কাপ্তাই বাঁধ নির্মাণের ফলে প্রায় ৫৫ হাজার একর ধানী জমি পানিতে তলিয়ে যায়, যার অধিকাংশের মালিক ছিলেন স্থানীয় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষ।

    এছাড়া ব্যবসা-বাণিজ্যে তাদের অংশগ্রহণ সীমিত এবং সরকারি ও বেসরকারি চাকরিতে নিয়োজিত মানুষের সংখ্যাও তুলনামূলকভাবে কম।

    চিঠিতে আরও বলা হয়, ২০২২ সালের জনশুমারি অনুযায়ী দেশে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর মানুষের সংখ্যা ১৬ লাখ ৫০ হাজার ১৫৯ জন। এর মধ্যে পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাসকারী মানুষের সংখ্যা ৯ লাখ ৮৯ হাজার ২৯৮ জন, যা মোট ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠীর প্রায় ৬০ শতাংশ।

    সংসদ সদস্যদের দাবি, পার্বত্য অঞ্চলের প্রায় ৩৭ শতাংশ মানুষ এখনো ঝর্ণা, ছড়া, পুকুর, লেক ও বৃষ্টির পানির ওপর নির্ভরশীল। প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধাবঞ্চিত এবং প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত। অনেক উপজেলায় এখনো পাকা সড়ক, রেলপথ ও গ্যাস সংযোগ নেই। ফলে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর জনগণ এখনো নানা দিক থেকে পিছিয়ে রয়েছে। এ অবস্থায় বিদ্যমান কর অব্যাহতির সুবিধা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন বলে তারা মনে করেন।

    চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সাম্প্রতিক জাতীয় নির্বাচনে পার্বত্য অঞ্চলের ভোটাররা ব্যাপকভাবে বিএনপিকে সমর্থন করেছেন। এ অবস্থায় আয়কর অব্যাহতি সুবিধা সংকুচিত করা হলে তা পার্বত্য অঞ্চলে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে এবং ভবিষ্যৎ স্থানীয় সরকার ও জাতীয় নির্বাচনে এর বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

    একই সাথে পার্বত্য চট্টগ্রামের তিন পার্বত্য জেলায়  বসবাসকারী  ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের  অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণের স্বার্থে শুধুমাত্র ব্যক্তিগত আয়ের পাশাপাশি সম্পূর্ণভাবে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর সদস্যদের দ্বারা গঠিত ফার্ম, কোম্পানি, ব্যক্তিসংঘ, সমিতি ও সমবায় সমিতির আয়কেও করমুক্ত রাখার প্রস্তাব দিয়েছেন এই চার সংসদ সদস্যরা। 

    আয়কর আইন-২০২৩ এর ষষ্ঠ তফসিলের অংশ-১ এর অনুচ্ছেদ ১৯-এ প্রস্তাবিত সংশোধনী বাতিল করে নতুন প্রস্তাব অন্তর্ভুক্ত করার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতা কামনা করেছেন। চিঠির অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ উপদেষ্টা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান এবং সদস্য (আয়কর)-এর কাছেও পাঠানো হয়েছে চিঠির অনুলিপিতে উল্লেখ করেন তারা।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST