এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারে গত কয়েকদিনের প্রবল বর্ষণে সাধারণ বানভাসি মানুষের পাশাপাশি চরম অসহায়ত্বের মধ্যে দিন কাটাচ্ছে পর্যটন জোনের পথশিশুরা। চারদিকে থৈ থৈ পানি আর পর্যটকশূন্য সৈকতের কারণে অভুক্ত থাকা এসব শিশুর পাশে দাঁড়িয়েছেন স্থানীয় সমাজকর্মী ও উদ্যোক্তা মনোয়ারা পারভিন।
সরেজমিনে জানা যায়, টানা অতিবৃষ্টির কারণে সৈকতের সুগন্ধা, লাইট হাউস ও লাবণী পয়েন্টের পরিস্থিতি নাজুক হয়ে পড়েছে। একদিকে চারদিকে পানি, অন্যদিকে পর্যটক না থাকায় পথশিশুদের আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ। বৃষ্টির কারণে কারও কাছে হাত পাতারও সুযোগ পাচ্ছিল না তারা। এমন খবর পেয়ে এগিয়ে আসে কক্সবাজার মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থা’।
সংস্থার সভাপতি মনোয়ারা পারভিনের উদ্যোগে পর্যটন এলাকার বিভিন্ন পয়েন্টে অসহায় অবস্থায় থাকা শিশুদের উদ্ধার করে সংস্থার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়। সেখানে দুই দিনব্যাপী এসব শিশুর মাঝে দুপুরের খাবার ও বিকেলের নাস্তা বিতরণ করা হয়। এ সময় অনেক শিশুকে খালি গায়ে দেখে সংস্থার নিজস্ব মিনি গার্মেন্টস থেকে নতুন কাপড়েরও ব্যবস্থা করে দেওয়া হয়।
এই মানবিক উদ্যোগের বিষয়ে সমাজকর্মী মনোয়ারা পারভিন বলেন, পর্যটন এলাকায় অসংখ্য পথশিশু রয়েছে। কেউ পরিস্থিতির শিকার, আবার কেউ একটু ভালো খাবার ও আশ্রয়ের আশায় এখানে এসে পথশিশুর জীবন বেছে নিয়েছে। বর্ষার এই দুর্যোগে সরকারিভাবে যেটুকু ব্যবস্থা রয়েছে, তা প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ৩৫ জন পথশিশুর সুরক্ষার দায়িত্ব নেওয়া হলেও অধিকাংশ শিশুই এখনো অধিকার ও সুরক্ষা বঞ্চিত। আমরা সরকারের সহযোগী হিসেবে স্ব-উদ্যোগে তাদের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছি।
জানা গেছে, টানা অতিবৃষ্টি ও বন্যার প্রকোপ বাড়ায় কক্সবাজার মহিলা ও শিশু উন্নয়ন সংস্থার স্বেচ্ছাসেবক এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পিভিএইচপি (PVHP) প্রকল্পের দায়িত্বরত কর্মীরা যৌথ ভাবে পর্যটন এলাকায় তল্লাশি চালান। দুর্যোগে আটকে পড়া পথ শিশুদের উদ্ধার করে খাবার, পোশাক ও অন্যান্য জরুরি সুরক্ষা সেবা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালান তারা। স্থানীয় সচেতন মহল এই মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।


