ওসমান গনি দীঘিনালা প্রতিনিধি
তাং ৬/৯/২৬
দুর্গম পাহাড়ে জরুরি স্বাস্থ্য সেবার মান উন্নয়নে জীবনহানির ঝুঁকি কমাতে সেনাবাহিনী দীঘিনালা জোনের উদ্যোগে গর্ভবতী নারী ও শিশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং প্রাথমিক চিকিৎসা সেবা বিষয়ক প্রশিক্ষণ কর্মসূচি বিনামূল্যে ধাত্রীবিদ্যা ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ।
খাগড়াছড়ির দীঘিনালায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে দক্ষ ও আত্মনির্ভরশীল করে গড়ে তুলতে বিনামূল্যে ধাত্রীবিদ্যা (নার্সিং) ও কম্পিউটার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোন।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় দীঘিনালা জোনের আওতাধীন দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বরাদম, বাবুছড়া ও জারুলছড়ি আর্মি ক্যাম্পে একযোগে এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। দীঘিনালা জোনের জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. আল-আমিন, এসইউপি, পিএসসির নির্দেশনায় উপজেলা থেকে বাছাই করা পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর ২০ জন নারীকে ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং এবং ৪৭ জনকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুর্গম পাহাড়ি এলাকার পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর কর্মদক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তোলাই এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের মূল উদ্দেশ্য। বিশেষ করে নারীদের ধাত্রীবিদ্যা/নার্সিং বিষয়ে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবায় দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। অন্যদিকে কম্পিউটার প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তরুণ-তরুণীদের প্রযুক্তিগত দক্ষতা বাড়ানোর পাশাপাশি কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
প্রশিক্ষণার্থীদের কোনো ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে না। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এ প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করায় দুর্গম এলাকার সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর মধ্যে ইতিবাচক সাড়া দেখা দিয়েছে।
প্রশিক্ষণে অংশ নেওয়া কয়েকজন সুবিধাভোগী বলেন, দুর্গম এলাকায় বসবাস করায় নানা ধরনের সুযোগ-সুবিধা থেকে তারা অনেক সময় বঞ্চিত হন। বিনামূল্যে এ ধরনের প্রশিক্ষণের সুযোগ পাওয়ায় তারা নিজেদের দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি ভবিষ্যতে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। এ উদ্যোগের জন্য তারা বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর দীঘিনালা জোনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সেনাবাহিনীর এ উদ্যোগকে দুর্গম পাহাড়ি এলাকার জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন ও আত্মনির্ভরশীলতা তৈরিতে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।


