রতন রায় :কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি
৬-৯-২০২৬ ইং
প্রকৃতির এক নিষ্ঠুর খেলায় কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলায় তিস্তা নদী গ্রাস করেছে অসহায় এক নারীর সমস্ত সংসার। বাড়ি-ঘর, গবাদি পশু, স্বপ্ন সব বুকে নিয়েই চোখের সামনে ভিটেমাটি হারিয়েছেন রাবেয়া বেগম। কিন্তু এই দুর্যোগময় মুহূর্তে প্রশাসনের মানবিক সাড়া যেন হয়ে উঠেছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের জন্য আশার আলো।
গত ২ সেপ্টেম্বর বিকেল ৩ টা। রাজারহাট উপজেলার বিদ্যানন্দ ইউনিয়নের রামহরি গ্রামে হঠাৎই তিস্তার জলরাশি যেন উন্মত্ত হয়ে ওঠে। নিমিষেই তীব্র স্রোতে তীরভাঙন শুরু হয়। আর মাত্র কয়েক মিনিটের ব্যবধানে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় রাবেয়া বেগমের বসতভিটা। নিজের চোখের সামনে বাড়ি, গোয়ালঘর, সবকিছু ভেসে যেতে দেখে নিঃস্ব হয়ে পড়েন তিনি।
রাবেয়া বেগম বলেন,
“গরু-ছাগল নিয়ে কী করব! কীভাবে চলব? সব তো নদী মা নিয়ে গেল। আমি তো আর কিছু দেখতে পাচ্ছি না”
খবর পেয়ে রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানজিলা তাসনিম। তিনি অসহায় রাবেয়া ও তার পরিবারকে দেন খাদ্য, বস্ত্র ও নিত্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী। সেই সঙ্গে ঘর নির্মাণে সহায়তার আশ্বাসও দেন নির্বাহী এই অফিসার।
প্রতিশ্রুতি রাখতে আজ, ৬ সেপ্টেম্বর, উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে রাবেয়া বেগমের হাতে তুলে দেওয়া হয় নগদ অর্থের চেক। পাশাপাশি ইউএনও তানজিলা তাসনিম জানান, ক্ষতিগ্রস্ত রাবেয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি খাসজমিতে তাকে বাড়ি নির্মাণ করে দেওয়া হবে।
“প্রশাসন প্রতিটি ক্ষতিগ্রস্তের পাশে আছে। রাবেয়া বেগমের পুনর্বাসনে আমরা বদ্ধপরিকর। খাসজমি বরাদ্দের প্রক্রিয়া ইতিমধ্যে শুরু হয়েছে, দ্রুত তার ঘর উঠবে।”
প্রশাসনের এই মানবিক সাহায্য যেন প্রমাণ করে দুর্যোগ যতই প্রকট হোক, জনসেবায় নির্বাহী অফিসারের প্রতিশ্রুতি অটুট।
রতন রায়, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি


