মোঃ মাসুম বিল্লাহ্, বরগুনা প্রতিনিধি।।
দেশের প্রধান অর্থকরী মাছ ইলিশ রক্ষায় শুক্রবার মধ্যে রাত থেকে শুরু হচ্ছে ২২ দিনের মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান,২৫ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এ অভিযান। এ সময় ইলিশসহ সব ধরনের সামুদ্রিক মাছ ধরা, পরিবহন, মজুত ও বেচাকেনা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকবে।
সরকার জানিয়েছে, বিজ্ঞানভিত্তিক গবেষণার মাধ্যমে এই সময়কে ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুম হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই মা ইলিশ রক্ষায় অবরোধ সফল করতে জেলা মৎস্য দপ্তরের তত্ত্বাবধানে উঠান বৈঠক, জনসচেতনতা সভা, লিফলেট বিতরণ ও মাইকিংসহ নানা প্রচার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি কোস্টগার্ড, নৌবাহিনী, পুলিশ ও নৌ পুলিশ মাঠে থাকবে কঠোর নজরদারিতে।
বরগুনার জেলেরা অভিযোগ করছেন, শুধু চাল দিয়ে সংসার চলে না। অবরোধকালীন সময়ে নগদ অর্থ সহায়তা ও বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা না থাকায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। জেলে নেতা মোঃ দুলাল হোসেন বলেন, “শুধু অবরোধ দিলেই হবে না। অসাধু জেলেদের দমন করতে কোস্টগার্ড ও নৌ পুলিশকে আরও আধুনিক সরঞ্জাম দিয়ে শক্তিশালী করতে হবে।”
নৌ পুলিশ পাথরঘাটা কাকাচিড়া ফাঁড়ির ইনচার্জ মোঃ জিহাদ বলেন, “নিষেধাজ্ঞা মানতে হবে। কেউ নিয়ম ভঙ্গ করলে আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।” আর কন্টিনজেন্ট কমান্ডার লে. এম আব্দুর রহমান বলেন, “মা ইলিশ সংরক্ষণ করা গেলে দেশের অর্থনীতি সমৃদ্ধ হবে। তাই সবার দায়িত্ব অক্ষরে অক্ষরে এ অভিযান সফল করা।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিকভাবে এ অভিযান বাস্তবায়ন করা গেলে আগামী বছরগুলোতে ইলিশের উৎপাদন কয়েকগুণ বাড়বে। আর ব্যর্থ হলে উপকূলীয় মৎস্য খাত হুমকির মুখে পড়বে।
জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ মহসীন বলেন,
“আগামী ৪ অক্টোবর থেকে ২৫ অক্টোবর পর্যন্ত মা ইলিশ সংরক্ষণ অভিযান চলবে। এসময় সব ধরনের মাছ ধরা বন্ধ থাকবে। নিবন্ধিত জেলে পরিবারগুলোকে ২৫ কেজি করে চাল দেওয়া হবে। আমরা ইতিমধ্যে চাল হাতে পেয়েছি, শিগগিরই তা বিতরণ করা হবে। কেউ আইন অমান্য করলে সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


