মো:ফারুক আহমেদ (ঘাটাইল)
দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে পুরনো আমলের জমিদার বাড়ি। সঠিক তদারকি আর সংস্কারের অভাবে এসব স্মৃতির অনেক গুলোই আজ বিলুপ্তির পথে। টাঙ্গাইলের গোপালপুর উপজেলার হেমনগর জমিদার বাড়ি, এখানে আজ আর জমিদার নেই। নেই জমিদারের হাজার বেহারার পালকিসহ দাপট। কিন্তু আজও ভেসে আসে জমিদারদের কত কথিত অখ্যাত কাহিনী। হেমনগর জমিদারবাড়ি টি পরির দালান নামে পরিচিত। ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সাক্ষী এই পরীর দালানটি এখন অযত্ন ও অবহেলায় জরাজীর্ণ। নাই জমিদারের দাপট, নাই হাজার বেহারার পালকি। তবুও কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে আছে টাঙ্গাইলের গোপালপুরের ঐতিহ্যবাহী হেমনগর জমিদার বাড়ি। ‘পরীর দালান’ নামে পরিচিত প্রায় শতাধিক কক্ষবিশিষ্ট এই ভবনটি ১৮৯০ সালে তৈরি করেন জমিদার হেমচন্দ্র চৌধুরী। দিল্লি ও কলকাতার কারিগরদের হাতে তৈরি অনন্য ইটসুরকির স্থাপত্যকর্মটি একসময় ছিল রাজনীতি, সংস্কৃতি ও দাপ্তরিক কোলাহলের প্রাণকেন্দ্র। কালের বিবর্তনে ধীরে ধীরে জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে স্থাপনাটি। ভেঙ্গে পারছে দালান নেই দরজা জানালার অংশ। দেখতে ভূতের বাড়ির মতো অযত্ন ও অবহেলায় হারিয়ে যাচ্ছে বহু মূল্যবান স্থাপত্য নিদর্শন। দূর দূরান্ত থেকে মানুষ এই জমিদারবাড়ি দেখতে আসে। স্থানীয়দের দাবী সরকারি ভাবে সংরক্ষণ করা গেলে এটি পর্যটক শিল্পে বড় অবদান রাখতে পারে। আমরা পরির দালান দেখতে এসেছি প্রাচীন স্থাপত্য হিসেবে বাড়িটি খুবই চমৎকার কিন্তুু অবস্থা খুবই জরাজীর্ণ। এটি সরকারি ভাবে সংস্কার করলে এটা সুন্দর পর্যটক কেন্দ্র হতে পারত। ১৯৭৯ সালে জমিদার বাড়ির মূল ভবনটিতে প্রতিষ্ঠিত হয় হেমনগর ডিগ্রি কলেজ। ঐতিহ্যের সাক্ষী হয়ে এটি এখন শিক্ষার আলো ছড়াচ্ছে। প্রাচীন এই স্মারক রক্ষায় সরকারি উদ্যোগ নেওয়ার তাগিদ কলেজ কর্তৃপক্ষের। সর্টঃ- মোঃ মেহের মাকসুদ। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ, হেমনগর ডিগ্রী কলেজ। ঐতিহ্যবাহী এই পরীর দালানটি দ্রুত সরকারি নজরদারিতে এনে সংরক্ষণের দাবি স্থানীয় ও দর্শনার্থীদের। সঠিক পরিকল্পনা নিলে এটি হয়ে উঠতে পারে দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্র।


