বাউফল (পটুয়াখালী) প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলার কালাইয়া ইউনিয়নের কবরস্থান রোড এলাকায় মানবেতর জীবনযাপন করা নুরার পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে মানবিক সংগঠন ‘স্প্রেইড হিউম্যানিটি’। শুধু এক মাসের খাদ্যসামগ্রী বিতরণেই সীমাবদ্ধ না থেকে পরিবারটির তিনটি ছোট শিশুর পড়ালেখার দায়িত্ব নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে সংগঠনটি। তাদের এ উদ্যোগে অসহায় পরিবারটির মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সংগঠনটির পক্ষ থেকে নুরার পরিবারের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দেওয়া হয়। এর মধ্যে ছিল ২০ কেজি চালসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য।
নুরার ছয় সদস্যের পরিবারে রয়েছেন তাঁর স্ত্রী রসোনা বেগম ও মা ছলেহা। পরিবারের নিজস্ব কোনো বাড়ি কিংবা বসতভিটা নেই। অন্যের জায়গায় একটি জরাজীর্ণ ঘর তৈরি করে সেখানেই কোনো রকমে বসবাস করছেন তাঁরা। সীমিত সামর্থ্য আর নানা প্রতিকূলতার মধ্যে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে দিন কাটছে নুরার। নিত্যপ্রয়োজনীয় খাবার জোগাড় করতেও হিমশিম খেতে হয় পরিবারটিকে।
এমন বাস্তবতায় অসহায় পরিবারটির পাশে মানবিক সহায়তা নিয়ে দাঁড়ায় ‘স্প্রেইড হিউম্যানিটি’। সংগঠনটির পক্ষ থেকে খাদ্যসামগ্রী বিতরণের পাশাপাশি ভবিষ্যতেও পরিবারটির পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।
তিন শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা
সংগঠনের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, “দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে স্প্রেইড হিউম্যানিটি অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের দুঃখ-কষ্ট লাঘবে কাজ করে যাচ্ছে। নুরার পরিবারের হাতে এক মাসের খাদ্যসামগ্রী তুলে দিয়েই আমরা আমাদের দায়িত্ব শেষ করতে চাই না। পরিবারটির তিনটি ছোট শিশুর পড়ালেখার দায়িত্বও নেওয়া হবে, ইনশাআল্লাহ।”
তিনি আরও বলেন, “অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানো এবং তাদের পাশে দাঁড়ানোই আমাদের মূল লক্ষ্য। তবে এ ধরনের মানবিক কার্যক্রম দীর্ঘমেয়াদে চালিয়ে যেতে সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা প্রয়োজন। আমরা আশা করি, সমাজের সহৃদয় মানুষ স্প্রেইড হিউম্যানিটি’র ভালো কাজগুলোর পাশে থাকবেন।”
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়, অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের কষ্ট লাঘব, মানবিক সহায়তা প্রদান এবং সমাজে সহমর্মিতা ও মানবিক মূল্যবোধ ছড়িয়ে দিতে তারা কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এমন অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের দপ্তর সম্পাদক সাইমন গাজী, কার্যনির্বাহী সদস্য মেহেদী হাসান, বাউফল সরকারি কলেজ শাখার সভাপতি জাবের মাহমুদ, সদস্য ওমর ফারুক, শিপন চন্দ্র, হামিমসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যরা।
মানবিকতার এমন উদ্যোগ শুধু একটি পরিবারের মুখে খাবার তুলে দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং তিন শিশুর শিক্ষার দায়িত্ব নেওয়ার ঘোষণা তাদের ভবিষ্যৎ গড়ার পথেও আশার আলো দেখাচ্ছে।


