এম কে হাসান, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে ভয়াবহ পাহাড় ধসের ঘটনায় এক নারী শিক্ষিকাসহ ৮ জনের মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। উপজেলার ৫ নম্বর ক্যাম্পের ‘এ’ ব্লকের (ব্লক-৩) একটি মহিলা হাফেজ খানায় (মাদরাসা) পাহাড়ের বিশাল মাটির স্তূপ ধসে পড়লে এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।
সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যানুযায়ী, এই ঘটনায় মাটিচাপা পড়া অবস্থা থেকে মোট ১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৮ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং বাকি ৬ জন গুরুতর আহত অবস্থায় বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। সরকারিভাবে ইতিমধ্যেই উদ্ধার অভিযানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়েছে।
স্থানীয় সূত্র ও ক্যাম্প প্রশাসন জানায়, ঘটনার সময় ওই হাফেজখানায় ছাত্রীরা অবস্থান করছিল। হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধ্বসে মাদরাসার ওপর পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই পুরো ঘরটি মাটিচাপা পড়ে। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার কাজ শুরু করে ফায়ার সার্ভিস, ক্যাম্প প্রশাসন এবং স্থানীয়রা।
উদ্ধারকর্মীরা মাটির নিচ থেকে মোট ১৪ জনকে উদ্ধার করেন। তবে অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় হলো, ঘটনাস্থলেই মাটিচাপা পড়ে ৪ জনের মৃত্যু হয়। নিহতদের মধ্যে ৩ জনই নিষ্পাপ শিশু ছাত্রী এবং অপর ১ জন ওই মাদরাসার নারী শিক্ষিকা। মাটিচাপা থেকে জীবিত উদ্ধার হওয়া ১০ জনকে দ্রুততম সময়ে ক্যাম্পের ভেতরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠানো হয়। কিন্তু চিকিৎসকদের সব চেষ্টা ব্যর্থ করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও ৪ শিশু মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে।
হাসপাতাল ভিত্তিক নিহতদের তথ্য অনুযায়ী: ৩ নম্বর ক্যাম্পের জিকে (GK) হাসপাতাল: ২ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়, ৬ নম্বর ক্যাম্পের আইআরসি (IRC) হাসপাতাল: ১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয়। ৫ নম্বর ক্যাম্পের ফ্রেন্ডশিপ (Friendship) হাসপাতাল: ১ জনকে মৃত ঘোষণা করা হয় ।
অলৌকিকভাবে বেঁচে যাওয়া ৬ জন ছাত্রী বর্তমানে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাদের শারীরিক অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছেন চিকিৎসকরা।
আহতদের চিকিৎসার বর্তমান চিত্র: ৩ নম্বর ক্যাম্পের আইওএম (IOM) হাসপাতালে: ৩ জন চিকিৎসাধীন, ৬ নম্বর ক্যাম্পের আইআরসি (IRC) হাসপাতালে: ২ জন চিকিৎসাধীন এবং ২-ডব্লিউ (2W) ক্যাম্পের আইওএম (IOM) হাসপাতালে: ১ জন চিকিৎসাধীন।
ঘটনার পরপরই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, ফায়ার সার্ভিস এবং বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার সমন্বয়ে জোরদার উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করা হয়। ধ্বংসস্তূপের নিচে আর কেউ আটকে নেই, এমনটা নিশ্চিত হওয়ার পর সরকারিভাবে উদ্ধার অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়েছে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় পুরো উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্প এলাকায় এক শোকাবহ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। নিহত শিশু ও শিক্ষিকার পরিবারে চলছে শোকের মাতম। ঝুঁকিপূর্ণ পাহাড়ি ঢালে বসবাসকারীদের নিরাপদে সরে যাওয়ার জন্য প্রশাসনের পক্ষ থেকে সতর্কতা জারি করা হয়েছে।


