কাজী রেজওয়ান হোসেন সান, জয়পুরহাট প্রতিনিধি
জয়পুরহাটের কালাই উপজেলার নান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামে স্বামী পরিত্যক্ত এক নারীর বাড়িতে সংঘটিত চাঞ্চল্যকর ডাকাতির ঘটনায় অবশেষে রহস্য উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অভিযান চালিয়ে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার ও ৭ লাখ টাকা লুটের ঘটনায় জড়িত ৫ পেশাদার ডাকাতকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে কালাইসহ বিভিন্ন এলাকায় একযোগে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন—
কালাই উপজেলার নান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামের আব্দুল মোত্তালেব (৬০) ও মোহাম্মদ আলী (৪০),
দেওগ্রাম এলাকার সবুজ মিয়া (২৮) ও আঞ্জুমান (২৮)
এবং বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার বেলঘরিয়া গ্রামের বিপুল (২৮)।
রোববার (৪ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কালাই থানা চত্বরে আয়োজিত এক প্রেস কনফারেন্সে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন জয়পুরহাটের পুলিশ সুপার মিনা মাহমুদা।
পুলিশ সুপার জানান, ১৭ ডিসেম্বর গভীর রাতে ডাকাত চক্রটি নান্দাইল পূর্বপাড়া গ্রামের স্বামী পরিত্যক্ত নারী শাহানার বেগমের বাড়িতে হানা দেয়। শয়নকক্ষের বারান্দার গ্রীলের তালা কেটে ঘরে ঢুকে গলায় চাকু ধরে তাকে মারধর করা হয়। পরে স্টিলের আলমারি ভেঙে ৬ ভরি স্বর্ণালংকার, ৭ লাখ টাকা এবং কানে থাকা স্বর্ণের রিং লুট করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
গুরুতর আহত অবস্থায় প্রতিবেশীরা শাহানার বেগমকে উদ্ধার করে কালাই উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করেন। এ ঘটনায় তিনি বাদী হয়ে ২৫ ডিসেম্বর কালাই থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলার পরপরই পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্ত শুরু করে। অভিযানের সময় ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত তালা কাটার যন্ত্র, ধারালো ছোরা, হাতুড়ি ও প্লাস উদ্ধার করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেফতারকৃতরা ডাকাতির সঙ্গে নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, গ্রেফতারকৃত পাঁচজনের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই আশপাশের জেলায় ৮–৯টি করে মামলা রয়েছে। তারা দীর্ঘদিন ধরে সংঘবদ্ধভাবে ডাকাতিতে জড়িত ছিল। তাদের গ্রেফতারের ফলে এলাকায় ডাকাতি ও ছিনতাইয়ের মতো অপরাধ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।


