ঢাকাTuesday , 20 January 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • পথ বন্ধ, পানি বন্ধ-অবরুদ্ধ তিন কন্যা ও এক মায়ের জীবন

    admin
    January 20, 2026 11:10 pm
    Link Copied!

    মণিরামপুর মণিরামপুর:

    বাড়িতে পুরুষ মানুষ নেই, স্বামী থাকেন প্রবাসে তিন কন্যা সন্তান নিয়ে দিন কাটে গৃহবধূ নাজমা খাতুনের কিন্তু পৈতৃক সম্পত্তি আর বসতভিটার দখল নিয়ে আপন দেবর ও শরিকদের ক্রমাগত মানসিক নির্যাতন আর নানা ফন্দি-ফিকিরে এখন দিশেহারা এই পরিবারটি। যশোরের মণিরামপুর উপজেলার খেদাপাড়া ইউনিয়নের হেলাজ্ঞী গ্রামে স্বামীর অনুপস্থিতিতে এক প্রবাসীর স্ত্রীকে সামাজিকভাবে অবরুদ্ধ ও ফসলি জমিতে সেচ বন্ধ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে স্বজনদের বিরুদ্ধে। বিষয়টি এখন উপজেলা প্রশাসন ও থানা পুলিশ পর্যন্ত গড়িয়েছে।

    স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খেদাপাড়া ইউনিয়নের মৃত মিনাজ ফকিরের ছেলে প্রবাসী আব্দুল মান্নান তার পৈতৃক ৩৯ শতাংশ জমির মধ্যে সাড়ে ৯.৭৫ শতাংশ এবং আপন ভাই আব্দুল কুদ্দুসের কাছ থেকে আরও সাড়ে ৯.৭ শতাংশ জমি ক্রয় করেন। এই মোট ১৯.৫০ শতাংশ জমি তিনি স্ত্রী নাজমা খাতুনের নামে দলিল করে দেন। অভিযোগ রয়েছে, তিন কন্যা সন্তানের বিপরীতে স্ত্রী সম্পত্তির মালিক হওয়ায় ইর্ষান্বিত হয়ে ওঠেন ভাই আব্দুল কুদ্দুসসহ অন্য শরিকরা। তাদের ধারণা, মেয়েরা বিয়ে হয়ে চলে গেলে এই সম্পত্তি হাতছাড়া হয়ে যাবে। এই ‘উত্তরাধিকার’ সংকটের দোহাই দিয়ে মান্নানের ভোগদখলীয় জমির মাঝখানে শরিকরা ফসলি জমির দাবি তুলে বিরোধের সৃষ্টি করে।

    ভুক্তভোগী নাজমা খাতুন জানান, বিরোধ মেটাতে না পেরে তিনি আদালতে বণ্টন মামলা করেছেন। মামলা চলমান থাকায় ক্ষিপ্ত হয়ে শাহাজান ফকির, সোহান, আব্দুল কুদ্দুস, জামাল ও জাহিদ হাসানরা তার যাতায়াতের পথ অবরুদ্ধসহ নানা হয়রানি শুরু করেন। এমনকি চলতি বোরো মৌসুমে তার জমিতে পানি সেচ বন্ধের হুমকি দেওয়া হয়েছে।

    ​খেদাপাড়া ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মো. মুনসুর বলেন, আমি ওদের বলেছি-তোমাদের ভাবি আর মেয়েগুলোকে কেন না খাইয়ে মারার ব্যবস্থা করছ? এটা তো মানবাধিকার লঙ্ঘন। কিন্তু তারা কারও কথা শুনছে না। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, জমিতে পানি দেবে না, চাষও করতে দেবে না।

    প্রতিপক্ষ আব্দুল কুদ্দুস পুরো বিষয়টিকে ‘হাস্যকর’ বলে উড়িয়ে দিলেও নিজের অনড় অবস্থানের কথা জানান। তিনি বলেন, আমার শ্যালো মেশিন দিয়ে ওর (নাজমা) এক বিঘা জমিতে পানি দিব না। আমাকে জেল খাটালেও না। আরেক শরিক মোজাম্মেল হোসেন ব্যক্তিগত রাস্তার দোহাই দিয়ে যাতায়াতে বাধা দেওয়ার কথা স্বীকার করলেও সরকারি ইট বিছানো রাস্তার বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

    কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাজমা খাতুন বলেন, আমার স্বামী বিদেশ যাওয়ার পর থেকেই ওরা আমার ওপর জুলুম করছে। ওরা যেভাবে মেপে দিয়েছে, আমি সেভাবেই জমি মেনে নিয়েছি। এখন তারা দল বেঁধে চক্রান্ত করছে যাতে আমি ফসল ফলাতে না পারি। ৫ শতক জমিতে তো আর শ্যালো মেশিন বসানো সম্ভব না। আমি ওদের কাছে মাফও চেয়েছি, তাও ওরা আমার সন্তানদের রিজিকে টান দিচ্ছে।

    বিষয়টি নিয়ে মণিরামপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সম্রাট হোসেন অবগত হওয়ার পর থানা পুলিশকে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। মণিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রজিউল্লাহ খানের নির্দেশে এসআই উবাইদুল্লাহ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। এসআই উবাইদুল্লাহ জানান, আমি উভয় পক্ষের সাথে কথা বলেছি। মানবিক দিক বিবেচনা করে ক্ষেতে পানি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করেছি। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

    ​প্রবাসী আব্দুল মান্নানের পরিবার এখন প্রশাসনের কার্যকর হস্তক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন, যাতে নিজ ভূমিতে তারা নিরাপদে ও সম্মানের সাথে মাথা গুঁজে থাকতে পারেন।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST