মোঃ নুর-বীন আব্দুর রহমান রাহাত
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মালিকানাধীন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক বি নগর প্লাজায় কাজ করতে পারছে না জেলা সমবায় কার্যালয় ঢাকার নিয়োগকৃত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি। ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক বি নগর প্লাজা মার্কেটটি এখন যেন অভিভাবকহীন হয়ে পড়েছে। নেই কোনো পরিচালনা কমিটি। যে যার মতো নিজেদের মনে করে ব্যবহার করছে মার্কেটটি। রাজধানীর গুলিস্তান ফুলবাড়িয়া এলকায় অবস্থিত ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের মালিকানাধীন ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক-এ সিটি প্লাজা, ব্ল-বি নগর প্লাজা ও ব্লক-সি জাকের সুপার মার্কেট। সিটি প্লাজা ও জাকের সুপার মার্কেট পরিচালিত হয় শ্রম অধিদপ্তরের আওতায় নির্বাচিত কমিটি দ্বারা। মার্কেট দু’টির কমিটি অনেক বছর আগেই মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে গেছে। সাধারণ দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা নির্বাচিত কমিটির দাবি জানালেও মেয়াদ উত্তীর্ণ কমিটি ও বিভাগীয় শ্রম দপ্তর, ঢাকা এ ব্যাপারে কার্যকরী কোনো ভূমিকা পালন করছে না।
নগর প্লাজা মার্কেটটি পরিচালিত হয় সমবায় অধিদপ্তর এর আওতায় নগর প্লাজা ফুলবাড়িয়া সুপার মার্কেট-২ ব্লক-বি দোকান মালিক সমবায় সমিতি লি. (রেজি নং ৩০৪ তারিখ-০৩-০৯-১৯৮২) দ্বারা দোকান মালিক সমবায় সমিতির সদস্যদের কোন প্রকার অংশগ্রহণ ছাড়াই আওয়ামী সরকারের প্রভাবে সাজানো নির্বাচনের কমিটি ১৮ বছর ধরে মার্কেটটি পরিচালনা করে আসছে। এ ব্যাপারে দোকান মালিক ও ব্যবসায়ীরা বার বার প্রতিবাদ জানালেও কোনো ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে না।
সমিতির সদস্যদের আবেদন ও আদালতে নির্দেশনা নিষ্পত্তিতে সমবায় আইন অনুযায়ী জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা সমিতির দৈনন্দিন স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা ও সদস্যদের অংশগ্রহণে অতি দ্রুত নির্বাচন কার্যক্রম গ্রহণ করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করার জন্য ৫ সদস্যের অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটি নিযোগ প্রদান করে। কমিটির সদস্যরা দায়িত্বভার গ্রহণ করার জন্য সমিতির অফিসে গেলে মেয়াদ উত্তীর্ন কমিটির লোকজন মো. সুমন, হানিফ বাচ্চু, আলমগীর হোসেন, ফারুক হোসেন সরকার, নাছিম, আবুল হাসান, আ. আউয়াল, আলী হোসাইন দেওয়ান অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যদের সাথে মারমুখী আচরণ করেন বলে জানা গেছে।
এ ব্যপারে মেট্রো থানা সমবায় অফিস রমনা, ঢাকায় যোগাযোগ করে জানা যায়, একটি প্রভাবশালী মহল আওয়ামী সরকারের গোপন নির্দেশনায় ১৯৮২ সালে গঠিত সমিতির বদলে একটি নতুন সমিতি গঠন করে মার্কেট-সমিতি দখলে রাখার অপচেষ্টা করছে। সাধারণ দোকান মালিকরা বলছেন, ১৯৮২ সালে গঠিত সমিতি থাকা অবস্থায়, কিভাবে জেলা সমবায় কার্যালয়, ঢাকা আরেকটি সমিতি নিবন্ধন দেয়ার আয়োজন করে। এতে যে কোনো অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।
মার্কেট সমিতির স্বাভাবিক কার্যক্রমসহ অতিদ্রুত নির্বাচন কার্যক্রম গ্রহণ করে নির্বাচিত কমিটির নিকট দায়িত্বভার হস্তান্তর করার ব্যাপারে প্রশাসন ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সহযোগিতা কামনা করছেন সরকার নিয়োজিত অন্তর্বর্তী ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য ও দোকান মালিক ব্যবসায়ীরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে নগরপ্লাজা মার্কেটের এক ব্যবসায়ী বলেন, যে মার্কেটের বর্তমানে বিদ্যুৎ বিল, ওয়াসা বিল, সিকিউরিটি বিল, ময়লা পরিস্কারের বিল উত্তোলনে সংশ্লিষ্ট যারা আছেন তারা কেউ মার্কেটের দোকান মালিক না। তারা আগের কমিটির নাম ব্যবহার করে সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূত ভাবে অতিরিক্ত বিল আদায় করছে যা এক প্রকার নীরব চাঁদাবাজি।
আরেকজন দোকান মালিক বলেন, এখন যারা আছেন তারা জোরপূর্বক মার্কেট দখল করে দোকানের সামনে, করিডোরে, ফাঁকা জায়গায় অবৈধভাবে অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে মূল দোকানের মালিকদের ব্যবসার ক্ষতি করছেন। প্রতিবাদ করতে গেলে নিজেদের জামায়াত নেতা বলে পরিচয় দেন এবং বিভিন্ন রকমের হুমকি-ধমকি দেয়।


