মোঃতানজিলুল ইসলাম লাইক রাজশাহী,
রাজশাহীর বাঘা উপজেলার হরিরামপুর গ্রামে সালিশি বৈঠক ও দলিলের সিদ্ধান্ত অমান্য করে জোরপূর্বক জমি দখল, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন প্রিন্ট মিডিয়ায় মিথ্যা তথ্য প্রচারের প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।
ভুক্তভোগী বাবর আলী ও এলাকার সর্বস্তরের জনসাধারণের উদ্যোগে শনিবার (১৬ মে) বেলা ১০টার দিকে হরিরামপুর গ্রামে বিতর্কিত জমির পাশের রাস্তায় এই মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। মানববন্ধনে ভুক্তভোগী পরিবারের নারী-পুরুষসহ এলাকার অর্ধশতাধিক স্থায়ী বাসিন্দা অংশ নেন।
মানববন্ধনে ভুক্তভোগী বাবর আলী অভিযোগ করে বলেন, আমার পিতা গত ১৯৭৫ সালে রাজশাহী সদর সাব-রেজিস্ট্রার অফিস থেকে ২৯৫০০ নম্বর দলিল মূলে জায়েদা খাতুন ও দুংখিনী খাতুনের কাছ থেকে দুই দাগে জমি ক্রয় করেন। পরবর্তীতে এই জমির নামজারি (মামলা নং ৯৫৪/৯-১/২১-২২, হোল্ডিং নং ১৭৬০) সম্পন্ন করা হলেও প্রতিপক্ষ মোঃ আলাম উদ্দিন দিগর গত ৫০ বছর ধরে অবৈধভাবে তা দখল করে রেখেছেন।
তিনি আরও জানান, গত ৯ মে (শনিবার) স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে একটি সালিশি বৈঠকের আয়োজন করা হয়। সেখানে জমির যাবতীয় কাগজপত্র বিবেচনা করে উভয় পক্ষের সম্মতিতে বাবর আলীকে তার জমির সীমানা নির্ধারণ ও দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়। বাবর আলী সেই অনুযায়ী সীমানা খুঁটি স্থাপন করলে পরবর্তীতে আলাম উদ্দিন ও তার লোকজন তা বলপ্রয়োগ করে তুলে ফেলে দেয়। বর্তমানে আলাম উদ্দিন সালিশনামা গোপন করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বাবর আলী এবং সালিশকারীদের বিরুদ্ধে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর অপপ্রচার চালাচ্ছেন। বাবর আলী অবিলম্বে এই অপপ্রচার প্রত্যাহারের আহ্বান জানান, অন্যথায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।
যৌক্তিক দাবি তুলে ধরে বাবর আলী বলেন,
ইমান উদ্দিনের ২০.৫০ শতক জমি বর্তমানে মকবুল ও নাতনী চেনু বেগমের দখলে আছে এবং চাহার উদ্দিনের ২০.৫ শতক জমি আলাম ও কালামের দখলে রয়েছে। তারা যদি রাস্তার পাশে জমি পেতে পারে, তবে আমার এসএ ও আরএস রেকর্ডিও প্রজার অংশ কেন রাস্তার সাথে পাবো না। আমি যেন আমার ন্যায্য জমি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বুঝে পাই, সেজন্য উপজেলা প্রশাসনের নিকট বিনীত আবেদন জানাচ্ছি।
উক্ত সালিশি বৈঠকে উপস্থিত ৩ নম্বর পাকুড়িয়া ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি অমল থান্ডার মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করে বলেন, সালিশে উভয় পক্ষের সর্বসম্মতিতেই জমি বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছিল এবং দুই পক্ষই তা মেনে নিয়েছিল। তারা আরও বলেন, বাবর কে জমি দেওয়ার কারনে তাদের বাড়ী ভাংগা পড়বে কথাটা সত্য নয়। সালিশের পক্ষ থেকে সার্ভেয়ার দ্বারা যে সিমানা নিধারণ করে দিয়েছিল সেই জমির পূর্ব পাশের পিলার হতে ২৫ ফুট দুরে বাড়ী এবং পশ্চিম পাশের পিলার হতে পায় ১৭ ফুট দুরে বাড়ী। ইমান উদ্দিনের জমি ২০.৫ শতক হতে তার ওয়ারিশ গন এবং চাহার উদ্দিনের জমি ২০.৫ শতক হতে তার ওয়ারিশ গনের জমি বন্টন হবে।
কিন্তু পরবর্তীতে আলাম উদ্দিন সালিশকারীদের একপেশে দাবি করে যে বক্তব্য দিয়েছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। এটি সালিশে উপস্থিত সম্মানিত ব্যক্তিদের মান ক্ষুণ্ণ করেছে। আমি এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি।
সালিশে উপস্থিত সাবেক ইউপি সদস্য ছিয়ার উদ্দিন জানান, উভয় পক্ষের উপস্থিতিতেই সুষ্ঠু বিচার করা হয়েছিল। আলাম উদ্দিন বিভিন্ন অনলাইন ও প্রিন্ট মিডিয়ায় যে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছেন, তা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
মানববন্ধনে অংশগ্রহণকারী স্থানীয় বাসিন্দা নবীন থান্ডার বলেন, বাবর আলী তার পিতার ক্রয়কৃত ন্যায্য জমির অংশ দাবি করছেন। কিন্তু আলাম উদ্দিন ও তার ভাইয়েরা অন্যায়ভাবে বাবর আলীকে জমি ভোগদখল করতে বাধা প্রদান করছেন এবং অপপ্রচার চালাচ্ছেন।
মানববন্ধন থেকে বাঘা উপজেলা প্রশাসনের সুদৃষ্টি ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বাবর আলীকে তার ন্যায্য জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য জোর দাবি জানানো হয়


