জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
*টেকনিক্যাল সাপোর্ট দিয়েছে শহীদ এটিএম জাফর আলম ডায়াবেটিস ও কমিউনিটি হাসপাতাল এবং আরাফ খৎনা সেন্টার*
সমাজের হতদরিদ্র ও পিছিয়ে থাকা পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর ব্রত নিয়ে মানবতার সেবায় আবারও এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে অরাজনৈতিক স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স ও বৈদ্যঘোনা যুব সমাজ । সমাজের সুবিধা বঞ্চিত পরিবারের ছোট ছোট শিশুদের জন্য তাদের ধারাবাহিক কল্যাণমুখী কার্যক্রমের দ্বিতীয় আয়োজন হিসেবে সফল ভাবে সম্পন্ন হয়েছে ফ্রি খৎনা ও কর্ণ ছেদন ক্যাম্প।
“আসুন, মানবতার পাশে দাঁড়াই… মানবতার সেবায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ”—এই স্লোগানকে সামনে রেখে আয়োজিত এই মানবিক উদ্যোগটি স্থানীয় জনপদ পেরিয়ে বর্তমানে জাতীয় পর্যায়েও ব্যাপক প্রশংসিত হচ্ছে।
৬ই নভেম্বর ২০২৬ ইং, রোজ শুক্রবার, সকাল ৭টায় কক্সবাজার পৌরসভার ৮ নং ওয়ার্ডস্থ বিবি হাজেরা জামে মসজিদের সামনে এই ক্যাম্পের কার্যক্রম শুরু হয়। সমাজের অস্বচ্ছল ও সাধারণ মানুষের আর্থিক অনটনের কথা চিন্তা করে চিকিৎসা বঞ্চিত শিশুদের জন্য সম্পূর্ণ বিনামূল্যে এই খৎনা ও কর্ণ ছেদন ক্যাম্প নিশ্চিত করা হয়।
সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে
এই মহতী ও মানবিক অনুষ্ঠানকে আরও প্রাণবন্ত ও সফল করতে সমাজের বিভিন্ন স্তরের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, স্থানীয় প্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং যুব সমাজের প্রতিনিধিরা স্বতঃস্ফূর্ত ভাবে উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন মহলের এই উপস্থিতি পুরো অনুষ্ঠানটিকে এক মিলন মেলায় পরিণত করে এবং তরুণ স্বেচ্ছাসেবকদের কাজের প্রতি তাদের নিরন্তর উৎসাহ ও সমর্থন জোগায়।
উক্ত ক্যাম্প বিশেষ এই মানবিক ও জনকল্যাণ মূলক আয়োজনকে সফল করতে বিশেষ টেকনিক্যাল সাপোর্ট ও চিকিৎসাসেবা প্রদান করেছে গ্রীন সোল গ্রুপ পরিচালিত উখিয়া উপজেলার শহীদ এটিএম জাফর আলম ডায়াবেটিস ও কমিউনিটি হাসপাতাল এবং কক্সবাজার পৌরসভাস্থ আরাফ খৎনা সেন্টার। উক্ত প্রতিষ্ঠান গুলোর অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের সরাসরি টেকনিক্যাল সহযোগিতায় শিশুদেরকে অত্যন্ত সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ উপায়ে এই সেবা প্রদান করা হয়।
আয়োজকদের ভাবনা ও সুধীমহলের প্রতিক্রিয়া:-
আয়োজকরা জানান, হতদরিদ্র পরিবারের পক্ষে অনেক সময় এই গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসা বাবদ খরচ বহন করাও কঠিন হয়ে পড়ে। ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স ও বৈদ্যঘোনা যুব সমাজের এমন সময়োপযোগী ও কল্যাণমুখী পদক্ষেপ সমাজে মানবিক মূল্যবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বৃদ্ধি করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান গুলোর এবং সমাজের বিভিন্ন প্রতিনিধিদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ প্রমাণ করে যে, ঐক্যবদ্ধ ভাবে কাজ করলে সমাজের যেকোনো সংকট মোকাবিলা করা সম্ভব।
স্থানীয় সুধীজন ও গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ তরুণদের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স ও বৈদ্যঘোনা যুব সমাজ যখন মাদক বা অবক্ষয়ের পথ ছেড়ে এ ধরনের জনকল্যাণ মূলক কাজে নিজেদের নিয়োজিত করে, তখন তা একটি সুস্থ ও সুন্দর সমাজ গঠনে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রাখে। ভয়েস অব কক্সবাজার ভলান্টিয়ার্স ও বৈদ্যঘোনা যুব সমাজের এই ধারাবাহিক মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।



