জাকির আহমেদ, মদন (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :
নেত্রকোনার মদনে দলিল লেখক রহিছ মিয়া ওরফে রহিছ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ভুয়া দলিল তৈরির অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দলিল লেখকের লাইসেন্স বাতিল করে দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির দাবিতে একাধিক দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন দ্বীন ইসলাম নামের এক ব্যাক্তি।
অভিযোগ ও মদন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পদারকোনা মৌজার বি.আর.এস রেকর্ডের ২১০ নং খতিয়ানের ১২৭০ নং দাগের ৪৭ শতাংশ ভূমির প্রকৃত রেকর্ডীয় মালিক গোলাম আলী খাঁ ও করিমন্নেছা। উক্ত ভূমি উপজেলার মাঘান ইউনিয়নের নয়াপাড়া গ্রামের তৌহিদুল ইসলাম তার বাবা ইউনুছ আলী ওরফে ইন্নছ আলীর নামে একটি ভুয়া দলিল তৈরি করে। দলিলে রেজিস্ট্রির তারিখ দেখানো হয় ১৬/০২/১৯৮৫ ইং এবং দলিল নং ৩১৭, যা সম্পূর্ণ ভুয়া। আর এ কাজে সম্পূর্ণ সহযোগিতা করেন দলিল লেখক রহিছ মিয়া। পরে ভূমি উপ-সহকারী মীর্জা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের অনৈতিক সহযোগিতায় ২০২৫ সালের ২৭ মার্চ তৌহিদুল ইসলাম তার নিজ নামে নামজারি/খারিজ করিয়ে নেন, যার খারিজ খতিয়ান নং ২৫-৬৩৯।
পরবর্তীতে, ওই খাজনা-খারিজ ব্যবহার করে ২০২৫ সালের ২৩ জুলাই দলিল লেখক রহিছ মিয়ার সম্পাদনের মাধ্যমে তৌহিদুল ইসলাম তার প্রতিবেশী কানন মিয়াকে ৪৭ শতাংশ জমি রেজিস্ট্রি করে দেন। যার দলিল নং ১৪৩০, যেখানে দলিল লেখক নিজেই সনাক্তকারী। গ্রহীতা কানন মিয়া ওই বছরই সেই ভূমি উপ-সহকারী মীর্জা মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের অনৈতিক সহযোগিতায় তার নিজ নামে নামজরি/খারিজ খতিয়ান খোলেন, যার খারিজ খাতিয়ান নং ২৫-৬৭৭। এ ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন উপজেলার পদমশ্রী গ্রামের বাসিন্দা মৃত জমায়েত হোসেন খানের ছেলে দ্বীন ইসলাম।
উল্লেখ্য যে, অন্য একটি ভুয়া দলিলের মাধ্যমে জমি রেজিস্ট্রি করতে গিয়ে দলিল লেখক রহিছ মিয়া সম্পাদিত দলিল ও নতিপত্র সাব-রেজিস্ট্রারের কাছে জব্দ হয়েছিলো। ওই ঘটনায় ইতোমধ্যে তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদান করা হয় এবং দলিল লেখার ক্ষেত্রে অনির্দিষ্ট কালের নিষেধাজ্ঞা করা হয়েছে অর্থাৎ আপাতত তাকে দলিল লিখাসহ সকল কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে নির্দেশ দেয় মদন সাব-রেজিস্ট্রার অফিস।
দ্বীন ইসলাম জানান, আমি গোলাম আলী খাঁ ও করিমন্নেছার একজন বৈধ ওয়ারিশা। আমার পূর্ব-পুরুষদের নামে জাল দলিল তৈরি করে তা নামজারি করিয়ে অন্য জায়গায় জমি বিক্রি করে দিয়েছে। তাই জালিয়াতি চক্রের বিরুদ্ধে আমি লিখিত অভিযোগ দিয়েছি।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত দলিল লেখক রহিছ মিয়া বলেন, ‘গত মাসেও আমার একটি দলিল সাব-রেজিস্টার আটকে দিয়েছেন। পরে কাগজপত্র যাচাই করে জাল কাগজ হওয়ায় দলিলদাতার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এঘটনা নিয়ে আমাকে শোকজ করা হলে আমি গত সপ্তাহে জবাব দিয়েছি।’
ভুয়া কাগজপত্র দিয়ে নাম খারিজের আবেদনকারি উপসহকারি ভূমি কর্মকর্তা মীর্জা মোস্তাফিজুর রহমানের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি উদ্বোতন কর্মকর্তার সাথে কথা বলেন বলে মুঠোফোন বন্ধ করে দেন।
জানতে চাইলে নামজারী করার সময় মদন উপজেলা নির্বাহী কমীকর্তা ও দায়িত্বে থাকা সহকারি কমিশনার (ভূমি) অহনা জিন্নাত (বর্তমানে কক্সবাজারে কর্মরত) বলেন, ‘বিষয়টি অনেক আগের। আমার মনে পরছে না। যদি কোনো নাম খারিজের কাগজপত্র আদালতে ভুয়া প্রমাণিত হয় তাহলে তা আবেদন করলেই বাতিল হয়ে যাবে।’
উপজেলা সাব-রেজিস্টারের দায়িত্বে থাকা মো: জাহিদ হাসান বলেন, ‘গত ২৬ তারিখে দলিল লেখক রহিছ মিয়া দাখিল করলে আমার কাছে কাগজপত্রে অসংঙ্গতি মনে হলে দলিলটি আটকে দেই। পরে যাচাই করে তা জাল কাগজপত্র মনে হলে দলিল লেখককে শোকজ করা হয়। তিনি শোকজের জবাব দিয়েছেন। কিন্তু বর্তমানে বিষয়টি জেলা রেজিস্টারের নিকট রয়েছে। পরবর্তী পদক্ষেপ তিনি নেবেন।’
নেত্রকোনা জেলা রেজিস্টার (ভারপ্রাপ্ত) মোস্তাফিজ আহমেদ বলেন, ‘জাল কাগজপত্র দিয়ে নাম খারিজ করিয়ে দলিল করার সময় সাবরেজিস্টার তা আটকে দিয়েছেন। দলিল লেখক রহিছ মিয়াকে শোকজের পর তিনি এর জবাব দিয়েছেন। আমরা বিষয়টি খোঁজ নিয়ে যদি সংশ্লিষ্টতা পেলে নিয়ম মাফিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
জাকির আহমেদ
০১৭১৭৭৮৩৬১৬


