এম কে হাসান ,জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার
দেশের পর্যটন নগরী কক্সবাজারে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে হামের প্রাদুর্ভাব। জেলাজুড়ে হামে আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা হু হু করে বাড়ছে। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও দুই শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে গত এক মাসে জেলায় হামে আক্রান্ত হয়ে ১৩ জন শিশুর মৃত্যু হলো, যা জেলাজুড়ে চরম উদ্বেগ ও আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
শেষ রক্ষা হলো না আতিকুর ও ওয়াজিফার:- হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রোববার (৩ মে) মারা যাওয়া দুই শিশুর একজন রামু উপজেলার মিজানুর রহমানের ৮ মাস বয়সী পুত্র আতিকুর রহমান এবং অন্যজন একই এলাকার জাবেদ আলীর ৬ মাস বয়সী কন্যা ওয়াজিফা।
সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্যমতে:- শিশু ওয়াজিফাকে গত ২৪ এপ্রিল অত্যন্ত গুরুত্বর অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল। দীর্ঘ ১০ দিন মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়ে রোববার সকাল ৮টায় সে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করে। অন্যদিকে, শিশু আতিকুর রহমানকে রোববারই হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছিল, কিন্তু ভর্তির কয়েক ঘণ্টার মাথায় রাত ৯টা ২০ মিনিটে তার মৃত্যু হয়।
হাসপাতালে তিল ধারণের ঠাঁই নেই:- কক্সবাজার সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শান্তনু ঘোষ জানান, বর্তমানে হাসপাতালে হামে আক্রান্ত শিশুর ভিড় বাড়ছেই। তিনি বলেন:- গত ২৪ ঘণ্টায় হামে আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৭৯ জন শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। আমরা সাধ্য মতো চিকিৎসা সেবা দিচ্ছি, কিন্তু আক্রান্তের সংখ্যা উদ্বেগ জনক।
চার মাসেই আক্রান্ত ১৪৫২ শিশু
সিভিল সার্জন অফিসের পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩ মে পর্যন্ত জেলায় মোট ১,৪৫২ জন শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে। তবে শঙ্কার বিষয় হলো, আক্রান্তের সিংহভাগই গত এক মাসের।
২৯ মার্চ থেকে ৩ মে পর্যন্ত আক্রান্ত:- ১,৩৯৯ জন।
মোট মৃত্যু:- ১৩ জন।
অর্থাৎ, এপ্রিল মাস থেকেই সংক্রমণটি জেলায় মহামারি আকার ধারণ করেছে। আক্রান্তদের মধ্যে বেশিরভাগই দুর্গম এলাকা ও শরণার্থী ক্যাম্প সংলগ্ন এলাকার শিশু।
স্বাস্থ্য বিভাগের জরুরি সতর্কতা:-
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের মতে শিশুদের নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থাকা এবং জনসচেতনতার অভাবই এই প্রাদুর্ভাবের প্রধান কারণ। সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, আক্রান্ত এলাকায় বিশেষ মেডিকেল টিম পাঠানো হচ্ছে এবং টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। হঠাৎ করে আক্রান্ত ও মৃত্যুর হার বেড়ে যাওয়ায় স্থানীয় অভিভাবকদের মধ্যে গভীর উৎকণ্ঠা বিরাজ করছে।
অবিলম্বে এই সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে কঠোর ব্যবস্থা না নিলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সচেতন মহল।


