সিপাউর রহমান চৌ: কুলাউড়া, মৌলভীবাজার।
আগামী ১৭ জুন (বুধবার) প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের মৌলভীবাজার জেলা সফরকে কেন্দ্র করে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক তৎপরতা শুরু হয়েছে। দীর্ঘ ১৭ বছর পর দেশের মাটিতে ফিরে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে মৌলভীবাজারে এটিই তাঁর প্রথম আনুষ্ঠানিক সফর। এই সফরকে ঘিরে সমগ্ৰ জেলাজুড়ে নেওয়া হয়েছে নজিরবিহীন ও নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা ব্যবস্থা।
প্রধানমন্ত্রীর এই রাষ্ট্রীয় সফরের প্রটোকল ও সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের অংশ হিসেবে ইতিমধ্যেই তাঁর বিশেষ বুলেটপ্রুফ ‘লাল-সবুজ’ বাসটি মৌলভীবাজারে এসে পৌঁছেছে। গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরার পর তাঁর সার্বিক নিরাপত্তার স্বার্থে অত্যাধুনিক বুলেটপ্রুফ গ্লাস সম্বলিত এই বিশেষ যানটি প্রস্তুত করা হয়েছিল। বাসটি মৌলভীবাজারে পৌঁছানোর পর থেকেই স্থানীয় উৎসুক জনতার মাঝে ব্যাপক কৌতুহল ও উদ্দীপনা দেখা গেছে।
জেলা প্রশাসন ও দলীয় সূত্র নিশ্চিত করেছে, আগামী বুধবারের এই সংক্ষিপ্ত সফরে প্রধানমন্ত্রী মূলত দুটি প্রধান কর্মসূচিতে অংশ নেবেন।
সরকারের সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী কর্মসূচির অংশ হিসেবে রাজনগর ও শ্রীমঙ্গলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী।
সরকারি কর্মসূচি শেষে প্রধানমন্ত্রী শ্রীমঙ্গলের তারকা হোটেল ‘দুসাই রিসোর্ট’-এ আয়োজিত একটি বিশেষ রাজনৈতিক সভায় যোগ দেবেন। সেখানে তিনি স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দের সাথে দেশের চলমান রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক বিষয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখবেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা দফায় দফায় প্রস্তুতিমূলক সভা ও মহড়া পরিচালনা করছে। শ্রীমঙ্গল ও সদর এলাকার সভাস্থলসহ আশেপাশের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে অতিরিক্ত পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।
এদিকে স্থানীয় দলীয় নেতাকর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর এই আগমনকে ঐতিহাসিক করতে তোরণ, ব্যানার ও ফেস্টুনে সাজিয়ে তুলছেন পুরো এলাকা। জেলা নেতৃবৃন্দ জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর এই সফর মৌলভীবাজার তথা গোটা সিলেট বিভাগের উন্নয়ন ও রাজনৈতিক কার্যক্রমে এক নতুন গতি সঞ্চার করবে।
সব মিলিয়ে, আগামী ১৭ জুনের এই বহুল প্রতীক্ষিত সফরকে ঘিরে এখন উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে চায়ের রাজধানী খ্যাত মৌলভীবাজারে।


