রতন রায় :কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি,
কুড়িগ্রামের রাজারহাটে ভেজালমুক্ত ও টেকসই কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘লুমিনাস ওয়ার্ল্ড’ আয়োজিত এক বৃহৎ কৃষক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। সোমবার বিকেল তিনটায় উপজেলার সিঙ্গারডাবরী শিশু নিকেতন মাঠে প্রায় এক হাজার কৃষকের সমাগমে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
মোঃরায়হান রাজু
এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এন্ড ট্রেইনার এর সঞ্চালনায়, খাদ্য নিরাপত্তা ও মাটির স্বাস্থ্য রক্ষায় রাসায়নিক সার ও কীটনাশকমুক্ত চাষাবাদ পদ্ধতি প্রসারের ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা।
সম্মেলনে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লুমিনাস ওয়ার্ল্ডের পরিচালক ও কৃষিবিদ মোনায়েম হোসেন। তিনি তার বক্তব্যে বলেন, “দীর্ঘমেয়াদি খাদ্য সংকট মোকাবিলায় রাসায়নিক নির্ভরতা কমিয়ে প্রাকৃতিক কৃষি পদ্ধতিই একমাত্র উত্তরণের পথ। লুমিনাস ওয়ার্ল্ড এ লক্ষ্যেই কৃষকদের প্রশিক্ষণ ও সহায়তা দিয়ে যাচ্ছে।” এ সময় তিনি পরিবেশবান্ধব চাষাবাদের নানা কৌশল ও ভেজালমুক্ত উৎপাদনের সম্ভাবনা তুলে ধরেন।
কোম্পানির ডায়মন্ড ডিরেক্টর আর এম রাসেল তাঁর বক্তব্যে কৃষি উদ্যোক্তা সৃষ্টির ওপর জোর দিয়ে বলেন, “আমরা শুধু ফসল উৎপাদন নয়, কৃষককে সঠিক বাজার ব্যবস্থাপনা ও মানসম্মত পণ্য উৎপাদনে উদ্বুদ্ধ করতে চাই। এতে দেশীয় অর্থনীতি যেমন লাভবান হবে, তেমিন আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের কৃষিপণ্যের গ্রহণযোগ্যতা বাড়বে।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন জেলা যুবদলের ভারপ্রাপ্ত আহবায়ক নাসিম পারভেজ তারা বলেন, তিনি কৃষকের জীবনমান উন্নয়নে সরকারি-বেসরকারি সব পক্ষকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান। এছাড়া রাজারহাট উপজেলা যুবদলের আহবায়ক আব্দুল কুদ্দুস ও সদস্য সচিব নয়ন আলী প্রমুখ তাঁদের বক্তব্যে এলাকার কৃষকদের সংগঠিত হয়ে আধুনিক ও নিরাপদ কৃষি পদ্ধতি গ্রহণের পরামর্শ দেন।
সম্মেলনে কৃষকেরা তাঁদের নানা সমস্যা ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। উপস্থিত কৃষকেরা জানান, ফসলে বিষক্রিয়া ও মাটির উর্বরতা হ্রাস তাঁদের বড় চিন্তার কারণ। লুমিনাস ওয়ার্ল্ডের মতো প্রতিষ্ঠানগুলো যদি নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও সচেতনতা বাড়ায়, তবে তারা দ্রুত প্রাকৃতিক কৃষিতে ফিরতে আগ্রহী।
সভাপতির বক্তব্যে সংস্থার প্রতিনিধিরা জানান, আগামী দিনে রাজারহাটের আরও বিস্তীর্ণ এলাকায় এই কর্মসূচি নেওয়া হবে। কৃষকদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণ, জৈব সার প্রস্তুত প্রণালী ও ফসল ঘূর্ণন পদ্ধতির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে একটি সমন্বিত কৃষি বিপণন নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার পরিকল্পনার কথাও জানান তাঁরা।
সন্ধ্যা পর্যন্ত চলা এই সম্মেলনে কৃষকেরা তাঁদের নানা মতামত ও অভিজ্ঞতা বিনিময় করেন। আয়োজকরা জানান, ভেজালমুক্ত ফসল উৎপাদনে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়ছে এবং এই সম্মেলন সে পথে একটি মাইলফলক হয়ে থাকবে। খাদ্য উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও পরিবেশ রক্ষায় এই উদ্যোগকে ইতিবাচক বলে মনে করছেন এলাকার সুধীজনেরা।


