মোঃ শাহজালাল, বরগুনাঃ
একটানা সপ্তাহখানেক ভারী বর্ষণে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে বরগুনার জনজীবন। সীমাহীন তোর উপভোগের শিকার হয়েছেন খেটে খাওয়া মানুষ। প্রবল বর্ষণে জেলার নিম্ন এলাকায় পানিবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিভিন্ন স্থানে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন জলাবদ্ধতার কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন কৃষি কাজের সাথে সংশ্লিষ্টগণ।

টানা বৃষ্টির কারণে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে করেছেন নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষগুলো। শহরের তুলনামূলকভাবে দোকানপাট কম খোলা দেখা গেছে। গত এক সপ্তাহের অধিক সময় ধরে উপকূলীয় এলাকা পায়রা নদী বন্দরে ৩ নম্বর সতর্ক সংকেত অব্যাহত রয়েছে। উপকূলীয় এলাকার মাছ ধরার ট্রলারগুলোকে তীরবর্তীতে অবস্থান নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছেন নদীবন্দর কর্তৃপক্ষ।
বরগুনা জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলমান বৃষ্টিপাতে ধান, শাকসবজি ও অন্যান্য ফসলের ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা তৈরি করেছে। বিশেষ করে সদ্য রোপণ করা আমন ধানের চারা পানির নিচে তলিয়ে থাকায় পচন ধরতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অপরদিকে, নদী-নালা ও খাল-বিলের পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় পানিমগ্ন হয়ে পড়েছে অনেক এলাকা। পাথরঘাটা, আমতলী ও তালতলী উপজেলার কিছু কিছু স্থানে মাছের ঘের পানিতে তলিয়ে গেছে বলে জানা গেছে। এই বৃষ্টি অব্যাহত থাকলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি শিকার হবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের বরিশাল কার্যালয় জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর কারণে এই বৃষ্টিপাত হচ্ছে। পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে আবহাওয়ার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তনের সম্ভাবনা না থাকায় আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে।
বরগুনা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক রথীন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, ভারী বর্ষণের প্রভাবে পানিতে বরগুনার নিন্মাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে কৃষকের আমন ফসলের বীজতলা পানিতে তলীয়ে গেছে। তাই আগাম আমন ফসল পাওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম।


