মোঃ সিরাজুল মনির চট্টগ্রাম থেকে//
চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীর উপর নির্মিত প্রথম সেতুর বয়স প্রায় ৯৫ বছর। এটি মূলত কালুরঘাট রেল সেতু হিসেবেই পরিচিত। ১৯৩০ সালে তৎকালীন ব্রিটিশ সরকার দক্ষিণ চট্টগ্রামের চন্দনাইশ রেলওয়ে কারখানায় রেল যাতায়াতের জন্য এই সেতুটি নির্মাণ করেছিল। পরবর্তীতে ১৯৬২ সালের দিকে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার বান্দরবান জেলার সাথে সড়ক যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্য নিয়ে পাটাতনের মাধ্যমে রেল লাইনের সাথে সংযুক্ত করে দিয়ে অন্যান্য যানবাহন যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয় সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে।

২০০১ সালের দিকে কালুরঘাট রেল সেতুটি ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করেছিল কর্তৃপক্ষ এর পরবর্তী সময়ে বুয়েটের একটি বিশেষজ্ঞ টিম সেতুটি পরীক্ষা নিরীক্ষা করেও ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করে। এরপর সরকার ঠিক একই জায়গায় আরেকটি আধুনিক রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়।
মূলত এই সেতুটি যোগাযোগের জন্য দক্ষিণ চট্টগ্রাম বিশেষ করে বোয়ালখালী পটিয়ার জনগণের একটি স্বপ্ন হিসেবে লালন করে আসছিল দীর্ঘদিন ধরে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের বোয়ালখালী পটিয়া এখন শিল্পাঞ্চলে পরিণত তাই ব্যবসায়িক সুবিধার জন্য এই সেতুটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
চট্টগ্রাম মহানগরী থেকে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সংযোগ রক্ষার একমাত্র মাধ্যম ছিল এই কালুরঘাট সেতু। নির্মাণের সময় দৈর্ঘ্য ছিল ২৩৯মিটার। পাঠাতনের উপর কার্পেটিং করে এটিকে পূর্ণাঙ্গ সেতু হিসেবে ১৯৬২ সালের পর থেকে এখনো পর্যন্ত ব্যবহার হয়ে আসছে যানবাহন পারাপারে। ১৯৮৯ সাল পর্যন্ত এসেতু ছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের প্রধান যোগাযোগের মাধ্যম। ১৯৮৯ সালে কর্ণফুলী নদীর উপর চাক্তাই এলাকায় আরেকটি কাঠের সেতু নির্মাণ করা হয়েছিল যেটা শাহ আমানত সেতু হিসেবে পরিচিত। এই দ্বিতীয় সেতু হওয়ার পর থেকে কালুরঘাট সেতুর উপর একটু চাপ কমে আসলেও দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর জন্য এই দুইটা সেতু গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাথে সারা দেশের যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন করার লক্ষ্যে ট্রেন এবং সড়ক যোগাযোগের মাধ্যম হলো এই কালুরঘাট রেলওয়ে সেতু।
ঢাকা-চট্টগ্রাম কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারিত হওয়ার পর কালুরঘাট সেতুটি অধিক ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে বিবেচনায় এনে সরকার প্রায় ৭০০ মিটার দৈর্ঘ্যৈর একটি রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেই। এতে দক্ষিণ চট্টগ্রামবাসীর স্বপ্ন পূরণের দিগন্ত প্রসারিত হয়। দীর্ঘদিন যাবত এই অঞ্চলের মানুষ সড়ক সেতু নির্মাণের দাবি নিয়ে আন্দোলন করে আসছিল। সর্বশেষ প্রায় ১১৫৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়ে এই নতুন কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতুর নির্মাণ কাজের ভিত্তি প্রস্তর স্থাপন করেন বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ডক্টর মোহাম্মদ ইউনুস। চট্টগ্রামবাসীর দুঃখ-দুর্দশা লাভ হবে বড় প্রকল্প গুলোর মধ্যে কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্প হল অন্যতম। ইতিমধ্যে সেতু নির্মাণের প্রাথমিক ধাপ হিসেবে জমি অধিগ্রহণ চলমান এবং সয়েল টেস্টের কাজ শুরু করে দিয়েছে সেতু কর্তৃপক্ষ।
কালুরঘাট সেতু নির্মাণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক আবুল কালাম আজাদ জানান কর্ণফুলী নদীর উপর এই কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু নির্মিত হলে দক্ষিণ চট্টগ্রাম তথা কক্সবাজার বান্দরবানসহ এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্য খুলে যাবে। নতুন ধার এবং ব্যবসায়িক সম্ভাবনা বেড়ে যাবে এ অঞ্চলের। দোহাজারী প্রান্ত থেকে কক্সবাজার পর্যন্ত রেললাইন সম্প্রসারণ হওয়ায় এই নতুন সেতুটি নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা বেশি পড়ে গেছে। তিনি বলেন যেহেতু ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম হয়ে কক্সবাজার পর্যন্ত ট্রেন চলাচল অবাধ করা হচ্ছে তাই পুরনো সেতু দিয়ে ট্রেন চলাচল অধিক ঝুঁকিপূর্ণ। পর্যটন নগরীর সাথে দেশের বিভিন্ন স্থানের ট্রেন যোগাযোগ নিরবিচ্ছিন্ন করতে কালুরঘাট রেল সেতু নির্মাণের কোন বিকল্প নাই। আগামীতে এ সেতু নির্মাণ সম্পন্ন হলে পর্যটন নগরী কক্সবাজার বিশ্বের কাছে আরো নতুন ভাবে পরিচিতি পাবে।
দক্ষিণ চট্টগ্রাম বাসীর অভিমত কালুরঘাট সেতু নির্মাণ নিয়ে একটি স্বপ্নের রচনা করেছিল দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাধারণ জনগণ সে স্বপ্নের বাস্তবায়ন করতে বর্তমান অন্তবর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধিক আন্তরিক হওয়ায় স্বপ্নের পূর্ণতা পাবে কালুরঘাট রেল কাম সড়ক সেতু নির্মাণের মধ্য দিয়ে। অন্তবর্তী সরকার প্রধানের প্রতি কৃতজ্ঞতার কমতি নেই চট্রলা বাসীর। চট্টগ্রামের কৃতি সন্তান হিসেবে চট্টগ্রামের উন্নয়নের যে দায়ভার অন্তবর্তী সরকার প্রধান কাঁধে নিয়েছেন তা যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন করতে পারে সেই কামনা করেন চট্রলা বাঁশি।


