এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম,কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
‘শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত ও অংশীদারিত্বমূলক প্রকল্প’-এর আওতায় কুষ্টিয়ায় যথাযোগ্য মর্যাদায় ‘আন্তর্জাতিক শব্দ সচেতনতা দিবস ২০২৬’ পালিত হয়েছে। দিবসটি উপলক্ষ্যে বুধবার (২৯ এপ্রিল) সকালে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তর ও জেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে এক বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা এবং আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
সকালে কুষ্টিয়া জেলা কালেক্টরেট চত্বর থেকে একটি সচেতনতামূলক শোভাযাত্রা বের করা হয়। এতে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিক এবং পরিবহন শ্রমিকসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশগ্রহণ করেন। শোভাযাত্রাটি শহরের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে লিফলেট বিতরণ করে।
শোভাযাত্রা শেষে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কুষ্টিয়ার মান্যবর জেলা প্রশাসক। তিনি তাঁর বক্তব্যে বলেন:
শব্দদূষণ একটি নিরব ঘাতক। অহেতুক হর্ন বাজানো এবং উচ্চশব্দ কেবল মানুষের শ্রবণশক্তিই নষ্ট করছে না, বরং হৃদরোগ ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপরও মারাত্মক প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে শিক্ষার্থী ও শিশুদের বিকাশে এটি বড় বাধা। ‘শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা’ যথাযথ প্রয়োগের পাশাপাশি আমাদের ব্যক্তিগত অভ্যাসে পরিবর্তন আনতে হবে। কুষ্টিয়াকে একটি শান্ত ও বাসযোগ্য জেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পরিবহন মালিক, শ্রমিক এবং সাধারণ জনগণকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানাচ্ছি।
পরিবেশ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ২০২৬ সালের এই দিবসটির মূল লক্ষ্য হলো অংশীদারিত্বের ভিত্তিতে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ করা। বিশেষ করে পরিবহন খাতে হাইড্রোলিক হর্ন বন্ধ এবং যত্রতত্র হর্ন বাজানোর সংস্কৃতি পরিবর্তনের ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হচ্ছে।
অনুষ্ঠানে কুষ্টিয়া পরিবেশ অধিদপ্তরের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং জেলা প্রশাসনের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বক্তারা শব্দদূষণ রোধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং সচেতনতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।


