এস.এম.রিয়াদুল ইসলাম কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি:
দেশে কাঁচামরিচ আমদানি রেকর্ড ছুঁলেও খুচরা বাজারে দাম কমার কোনো লক্ষণ নেই। বর্তমানে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ১৭০ থেকে ১৮০ টাকায়। তবে কুষ্টিয়া পৌর মার্কেটে খুচরা পর্যায়ে কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে আরও বেশি দামে—প্রতি কেজি ২০০ টাকা।
আমদানিকারকরা বলছেন, ভারতেই মরিচের দাম বেশি থাকায় দেশে দাম কমছে না। দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি বেড়েছে উল্লেখযোগ্য হারে। একদিনে বন্দরে রেকর্ড পরিমাণ মরিচ প্রবেশ করেছে। দীর্ঘ আট মাস পর গত ২৫ জুন থেকে মরিচ আমদানির অনুমতি দেয় সরকার। হিলি স্থলবন্দর দিয়ে কাঁচামরিচ আমদানি শুরু হয় গত ১০ জুলাই।
বন্দর সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ আগস্ট হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ২৯টি ট্রাকে ২৩৯ টন কাঁচামরিচ আমদানি হয়েছে। গত ছয়দিনে ৭২টি ট্রাকে ৬১৮ টন মরিচ এসেছে। আগে যেখানে দৈনিক ৮ থেকে ১০ ট্রাক আমদানি হতো, এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৫ থেকে ২০ ট্রাকে।
কুষ্টিয়া থেকে হিলি বন্দরে মরিচ কিনতে গিয়েছিলেন হুমায়ূন হোসেন আসকারী। তিনি জানান, প্রচুর আমদানি হচ্ছে, কিন্তু দাম কমছে না। দেশী ও ভারতীয় উভয় মরিচের একই দাম। তিনি বলেন, দেশীয় ক্রেতাদের কাছে ভারতীয় মরিচের চাহিদা রয়েছে।
হিলির মরিচ আমদানিকারক শাহাবুল ইসলাম জানান, ভারতের বেনারশ থেকে মরিচ আনা হচ্ছে। তার ভাষ্য, ভারতেও উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় দাম বেড়ে গেছে। তিনি বলেন, “ভারতে প্রতি কেজি মরিচ কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ৯০ রুপিতে। তার ওপর প্রতি কেজিতে ৪০ টাকা শুল্ক গুনতে হচ্ছে। সব মিলিয়ে দেশের বাজারে ১৮০ টাকায় বিক্রি করতে হচ্ছে। এর পরও আমাদের নষ্ট হয়ে পড়া মরিচে লোকসান গুনতে হচ্ছে।
বাংলাদেশের প্রতিটি জেলাতেই মরিচ উৎপাদিত হয়ে থাকে। চলতি মৌসুমে বন্যা ও খরায় মরিচের আবাদ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে বাজারে দেশীয় কাঁচামরিচের সরবরাহ কমে যায়।
কৃষি মন্ত্রণালয়ের সূত্র অনুযায়ী, সারাদেশে ৮ লাখ ৬৯ হাজার ৫১৪ একর জমিতে মরিচ উৎপাদিত হয় বলে ধারণা করা হয়। এর মধ্যে ৩৫% কাঁচামরিচ ব্যবহৃত হয় শুকনা মরিচ উৎপাদনে। খরিফ মৌসুমে সারাদেশে ৫৮০০ একরে এবং রবি মৌসুমে ৩৭৫,০০০ একর জমিতে মরিচ উৎপাদিত হয়। তবে মোট উৎপাদনের প্রায় ৮৭% রবি মৌসুমে হয়। প্রতিবছর বাজারে আসা কাঁচামরিচের পরিমাণ ৮৫,৮০০ টন। চাহিদাও প্রায় একই রকম। উপাত্ত অনুযায়ী, সারাদেশে উৎপাদিত মরিচের মধ্যে শতকরা ৭৯ ভাগ স্থানীয় বীজ থেকে এবং শতকরা প্রায় ১৭ ভাগ হাইব্রিড বীজ থেকে উৎপন্ন।


