ফাহিম হোসেন রিজু , ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি:
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার গ্রামবাংলার ঐতিহ্যবাহী ও স্মৃতিবিজড়িত পেশা নরসুন্দরের অস্তিত্ব আজ বিলীনপ্রায়। একসময় গ্রামাঞ্চলে চুল-দাড়ি কাটার পাশাপাশি সামাজিক নানা আচার-অনুষ্ঠানে নরসুন্দরের ছিল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা। কিন্তু আধুনিক সেলুন, শহুরে জীবনযাত্রার প্রসার এবং তরুণ প্রজন্মের পেশা নির্বাচনের পরিবর্তনের কারণে এ পেশা আজ প্রায় ইতিহাস হয়ে যাচ্ছে।
বর্তমানে ঘোড়াঘাটের বলোগাড়ী, রাণীগঞ্জ, ওসমানপুর, ডুগডুগি, ঘোড়াঘাট হাট-বাজার কিংবা গ্রামাঞ্চলে হাতে গোনা কয়েকজন নরসুন্দর কোনোভাবে জীবিকা নির্বাহ করছেন। আধুনিক সেলুনে হেয়ারকাট ও স্টাইলিশ সাজের প্রতি মানুষের আগ্রহ বৃদ্ধির পাশাপাশি পেশাদার প্রশিক্ষণের চাহিদা এবং আয়-রোজগারের অপ্রতুলতার কারণে নতুন প্রজন্ম এ পেশায় আসতে আগ্রহী নয়। ফলে শত শত বছরের ঐতিহ্যবাহী এই পেশা আজ বিলীন হয়ে যাচ্ছে।
স্থানীয় প্রবীণরা জানান, “আগে নরসুন্দরের দোকান ছিল শুধু চুল কাটার জায়গা নয়, এটি ছিল গ্রামের মানুষের মিলনমেলা। সেখানে বসে গল্প হতো, খবর আদান-প্রদান হতো। এখন আর সেই পরিবেশ নেই।”
বিশেষজ্ঞদের মতে, ঐতিহ্যবাহী পেশাকে টিকিয়ে রাখতে সরকার ও স্থানীয় প্রশাসনের সহযোগিতা, প্রশিক্ষণ কর্মশালা এবং আর্থিক সহায়তা প্রদান করা জরুরি। নরসুন্দরদের জন্য সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বা প্রণোদনা না থাকলে এই পেশা দ্রুতই হারিয়ে যাবে গ্রামীণ সংস্কৃতি থেকে।
দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটের গ্রামীণ সমাজ আজো স্মরণ করে সেই সব নরসুন্দরদের, যারা শুধু কাঁচি-ক্ষুর নয়, মানবিক সেবা দিয়েও মানুষের মন জয় করেছিলেন। অথচ সেই সোনালি দিনগুলো এখন শুধু স্মৃতির পাতায়।


