নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
চট্টগ্রামের বাংলাদেশ-কোরিয়া টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার (বিকেটিটিসি)-এর একাউন্ট্যান্টের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা সময়মতো বিতরণ না করে দীর্ঘ সময় ব্যাংকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, একাউন্ট্যান্ট ব্যক্তিগতভাবে ওই টাকার মুনাফা (সুদ) ভোগ করার উদ্দেশ্যে শিক্ষার্থীদের টাকা বছরের পর বছর ঘুরিয়ে প্রদান করছেন।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের দাবি, সরকারি নিয়মানুযায়ী উপবৃত্তির টাকা সরাসরি শিক্ষার্থীদের মোবাইল ব্যাংকিং বা ব্যাংক একাউন্টে জমা হওয়ার কথা থাকলেও প্রতিষ্ঠানটির হিসাব শাখা থেকে নানা অজুহাতে এটি দেরি করানো হচ্ছে। অনেক শিক্ষার্থীর কোর্স শেষ হয়ে গেলেও তারা এখনো তাদের প্রাপ্য টাকা বুঝে পাননি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক শিক্ষার্থী জানান, “আমরা আমাদের উপবৃত্তির টাকা নিয়ে যোগাযোগ করলে একাউন্ট্যান্ট আজ আসবে, কাল আসবে বলে আমাদের মাসের পর মাস ঘুরাচ্ছেন। আমাদের সন্দেহ হচ্ছে, এই বিপুল পরিমাণ টাকা ব্যাংকে রেখে তিনি ব্যক্তিগতভাবে লাভবান হচ্ছেন। আমরা সাধারণ ঘরের সন্তান, আমাদের জন্য এই টাকাটা খুবই জরুরি।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, এর আগেও প্রতিষ্ঠানটির হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ ছিল। নির্ধারিত সময়ের অনেক পরে টাকা প্রদান করার কারণে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ও পড়ালেখার খরচ মেটাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।
এই বিষয়ে বিকেটিটিসি কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা বিষয়টি খতিয়ে দেখার আশ্বাস দেন। তবে অভিযুক্ত একাউন্ট্যান্টের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।
শিক্ষার্থীরা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দ্রুত বকেয়া উপবৃত্তি প্রদানের জন্য জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো (BMET) এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। অন্যথায় তারা কঠোর আন্দোলনের ডাক দেবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।



