মোহাম্মদ সিরাজুল মনির, চট্টগ্রাম থেকে//
চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন সহ চারটি প্রকল্পের মাধ্যমে চট্টগ্রাম মহানগরীর জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। যা ২০২৬ সালের শেষের দিকে সম্পন্ন হওয়ার কথা।
প্রায় ১৪ হাজার কোটি টাকার প্রকল্পের ১১ হাজার কোটি টাকার উপরে খরচ হয়ে গেলেও বরাদ্দকৃত অর্থের মাধ্যমে এই প্রকল্পগুলো শেষ হওয়া নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। ইতিমধ্যে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ এবং চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এর পক্ষ থেকে জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ চেয়েছেন সরকারের কাছে। নগরীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা ৫৭টি খাল পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে ইতিমধ্যে কাজ শুরু করে দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন এবং চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ। অবৈধ দখলে থাকা কিছু খাল উদ্ধার করা গেলেও অধিকাংশ খাল এখনো বেদখল হয়ে রয়েছে। সিটি কর্পোরেশনের তালিকায় কাকা ২১ টি খাল পুনরুদ্ধারের সক্রিয় ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম সিটি মেয়র ডাক্তার শাহাদাত হোসেন। তিনি খুব শক্ত অবস্থান নিয়েছে এসব খাল উদ্ধারে। এ বিষয়ে তার স্পষ্ট ঘোষণা যত বড় ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক না কেন খাল উদ্ধারের সময় বাধা দিলে তার বিরুদ্ধে সাথে সাথে প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেয়া হবে। এবং খালের জায়গায় যত প্রভাবশালী ব্যক্তির স্থাপনা থাক না কেন তা ভেঙ্গে গুড়িয়ে দেয়া হবে।
প্রকল্প পরিচালক জানান চট্টগ্রামের এ সমস্যা অনেকদিন ধরে তাই আধুনিক এই জলাবদ্ধতা প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে নগরবাসী বন্যার হাত থেকে রক্ষা পাবে। মেয়াদ অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা খুব কঠিন কারণ জলাবদ্ধতা প্রকল্পের কর্ম এলাকাগুলো অবৈধভাবে দখল হয়ে আছে অনেক দিন ধরে এসব জায়গা পুনরুদ্ধার করতে বেশ কিছু সময় লেগে যাচ্ছে আবার বর্ষার কারণে পুরো দমে কাজ চালু রাখা যাচ্ছে না। বর্ষা মৌসুম পরবর্তী সময়ে প্রকল্পের কাজ পুরোদমে চালু হয়ে গেলে ২০২৬ সালের শেষ নাগাদ কাজ সম্পন্ন হবে বলে আশা রাখি। অতীতের কিছু ঠিকাদার কাজ অসম্পূর্ণ রেখে জূলাই পরবর্তী সময়ে সরে যাওয়ার পরে কাজের গতি কিছুটা কমে আসলেও বর্তমানে তার গতি আরো বেড়েছে বলে তিনি জানান।
প্রকল্প পরিদর্শনে দেখা যায় বর্তমানে খাল উদ্ধার এবং খননে অতিরিক্ত শ্রমিক দিয়ে কাজ করানো হচ্ছে যাতে খুব তাড়াতাড়ি খাল উদ্ধার এবং খনন কাজ সম্পন্ন করতে পারে। তবে প্রকল্পের কাজ চলাকালীন সময়ে দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে এই প্রকল্পে। মালামাল ক্রয়ের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত দাম দেখানো হয়েছে বলে অনেকের অভিযোগ। এতে পুরনো ঠিকাদাররা তৎকালীন চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মিলে এই দুর্নীতির সাথে জড়িত ছিল বলে সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ।
নগরবাসীর অভিমত অতীতে যা হয়েছে তা দুর্নীতি করে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে এবং বর্তমান সময়ে জলবদ্ধতা প্রকল্পের কাজ সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করে আগামী বর্ষা মৌসুম এর আগে নগরবাসীকে বন্যার হাত থেকে মুক্ত করার জন্য ব্যবস্থা করা হোক।


