আকিবুজ্জামিন :
খুলনা-১ আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে কৃষ্ণ নন্দীর নাম ঘোষণার পর থেকে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।
কৃষ্ণ নন্দীর পরিচিতি ও রাজনৈতিক যাত্রা:
কৃষ্ণ নন্দী পেশায় একজন ব্যবসায়ী এবং ডুমুরিয়া উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতি।
তার দাবি, তিনি ২০০৩ সালে জামায়াতে ইসলামীতে যোগদান করেন।
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে হামলার আগ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্য রাজনীতিতে দেখা যায়নি।
এরপর তিনি পুনরায় জামায়াতে সক্রিয় হন এবং উপজেলা হিন্দু কমিটির সভাপতির দায়িত্ব পান।
বিতর্ক ও অভিযোগ:
কৃষ্ণ নন্দীর সাথে ভারতের হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের নেতা শিপন কুমার বসুর কিছু ছবি ভাইরাল হয়েছে, যা নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।
সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়ের দাবি করেছেন, ২০১৩ সালে ভারতে এক বৈঠকে শিপন কুমার বসু ও কৃষ্ণ নন্দীর সাথে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা আইবি’র একজন কর্মকর্তাও উপস্থিত ছিলেন।
কৃষ্ণ নন্দী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, তিনি শিপন কুমার বসুকে চেনেন না এবং ভাইরাল হওয়া ছবিটি এআই ব্যবহার করে তৈরি করা হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, কৃষ্ণ নন্দী বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাবেক মন্ত্রী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের ঘনিষ্ঠ ছিলেন।
ক্ষুব্ধ জনতা তাকে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’ মনে করে তার বাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে আগুন দিয়েছিল বলেও অভিযোগ রয়েছে।
কৃষ্ণ নন্দী এই অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, ব্যবসায়ী হিসেবে মন্ত্রীর সাথে তার সম্পর্ক ছিল, তবে ঘনিষ্ঠতার বিষয়টি অতিরঞ্জিত।
নির্বাচনী পরিস্থিতি:
খুলনা-১ আসনটি হিন্দু অধ্যুষিত এবং রাজনৈতিকভাবে আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
এই আসনে জামায়াত প্রথমে মাওলানা আবু ইউসুফকে মনোনয়ন দিলেও পরে পরিবর্তন করে কৃষ্ণ নন্দীকে চূড়ান্ত প্রার্থী করে।
বিএনপিও এই আসনে আমীর এজাজ খানকে প্রার্থী করেছে, যিনি পূর্বের নির্বাচনগুলোতে উল্লেখযোগ্য ভোট পেয়েছেন।
কৃষ্ণ নন্দী দাবি করেছেন, এই আসনে তার অনেক আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতজন রয়েছেন এবং হিন্দু-মুসলিম সবাইকে সাথে নিয়েই তিনি নির্বাচন করবেন।
কৃষ্ণ নন্দীকে ঘিরে বিতর্ক এবং খুলনা-১ আসনের রাজনৈতিক বাস্তবতায় তিনি কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে তুলতে পারবেন, তা নিয়ে ভোটারদের মধ্যে আলোচনা চলছে।



