রাব্বি রহমান, নীলফামারী প্রতিনিধি:
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (১ আগস্ট) নীলফামারী শহরে এক বর্ণাঢ্য গণমিছিল ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। শহরের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজারো নেতাকর্মী, সমর্থক এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে কর্মসূচিটি উৎসবমুখর ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়।
শনিবার সকালে জেলা শহরের দলীয় কার্যালয়ের সামনে থেকে গণমিছিলটি শুরু হয়ে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। মিছিলটি শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো অতিক্রম করে পুনরায় দলীয় কার্যালয়ের সামনে এসে শেষ হয়। এ সময় পুরো শহরজুড়ে গণমিছিলকে ঘিরে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়। অংশগ্রহণকারীদের হাতে ছিল বিভিন্ন ব্যানার, ফেস্টুন, প্ল্যাকার্ড ও দলীয় পতাকা। তারা দেশপ্রেম, গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার, সুশাসন, দুর্নীতিবিরোধী অবস্থান এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন।
গণমিছিলে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা আমীর ও নীলফামারী-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ আব্দুস সাত্তার। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী জেলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও নীলফামারী-২ আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আল ফারুক আব্দুল লতিফ।
এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের নীলফামারী জেলা সভাপতি মো. মনিরুজ্জামান জুয়েল, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নীলফামারী জেলা ও শহর শাখার নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন উপজেলা আমীর ও সেক্রেটারিবৃন্দ, পৌর ও ইউনিয়ন পর্যায়ের দায়িত্বশীল নেতৃবৃন্দ এবং সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা। জেলার বিভিন্ন উপজেলা, পৌরসভা ও ইউনিয়ন থেকে আগত বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষ কর্মসূচিতে অংশ নেন।
গণমিছিল শেষে অনুষ্ঠিত সমাবেশে বক্তারা বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দেশের ইতিহাসে গণতন্ত্র, ন্যায়বিচার এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার সংগ্রামের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। এ আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের অবদান জাতি চিরকাল শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে। তাদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়েই দেশের মানুষ নতুন প্রত্যাশা ও সম্ভাবনার পথ দেখতে শুরু করেছে বলে বক্তারা উল্লেখ করেন।
বক্তারা আরও বলেন, একটি বৈষম্যহীন, দুর্নীতিমুক্ত, জবাবদিহিমূলক ও কল্যাণভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য জাতীয় ঐক্যের কোনো বিকল্প নেই। জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, সুশাসন নিশ্চিত করা এবং সকল নাগরিকের সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তারা।
সমাবেশে বক্তারা তরুণ প্রজন্মকে দেশপ্রেম, নৈতিকতা, সামাজিক সম্প্রীতি এবং মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেশ ও জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
অনুষ্ঠানের শেষপর্যায়ে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা, আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি, উন্নয়ন ও কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।
শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও ব্যাপক জনসমাগমের মধ্য দিয়ে কর্মসূচির সফল সমাপ্তি ঘটে।


