মো: সিপাউর রহমান কুলাউড়া (মৌলভীবাজার) সংবাদদাতা :
কুলাউড়া উপজেলার বরমচাল ইউনিয়নের ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্টের আওতাধীন ইছলাছড়া এলাকায় খাসিয়ারা জোর পুর্বক বন বিভাগের দেড়শ একর বনভুমি জবর দখল করে পান ও সুপারির চারা রোপন করেছে। ইতেমধ্যে বড় বড় গাছ কেটে সাবাড় করে রোপন করেছে শতশত সুপারি গাছ ও পানের চারা। এ বিষয়ে বন বিভাগ বারবার আপত্তি দিলেও বন বিভাগের স্থানীয় কর্মকর্তাকে হুমকি ধামকি দিয়ে জোর পূর্বক পান ও সুপারির চারা রোপন অব্যাহত রেখেছে। এ ব্যাপারে বরমচাল বিন কর্মকর্তা মো: আব্দুল ওয়াদুদ বাদী হয়ে ইছলাছড়া পুঞ্জির হেডম্যান (মন্ত্রী) হরলাল খাসিয়া (৫৩), লিড়িয়া খাসিয়া (৪০), আল ফায়েজ খাসিয়া (৪৪) ও জনি খাসিয়া (৩০) এর বিরুদ্ধে কুলাউড়া থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন (যার নং-১৩৭১)।
এদিকে বন বিভাগ কর্তৃক খাসিয়াদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের খবর পেয়ে খাসিয়ারা বিক্ষুদ্ধ হয়ে উঠে। শুক্রবার রাত ৫০/৬০ জন শ্রমিককে দিয়ে ভাটেরা হিল রিজার্ভ ফরেস্ট ব্লক-২ এর অর্ন্তগত ইছলাছড়া এলাকায় ১শ ৫০ একর বনভুমির জঙ্গল পরিস্কার করে শতশত পান ও সুপারির চারা রোপন করেছে।
সরজমিনে শনিবার দুপুরে ইছলাছড়া বনাঞ্চলে গেলে দেখা যায় বন বিভাগের মূল্যবান ২০/২২ টি গাছ কেটে নেয়া হয়েছে এবং শত শত গাছের গোড়াতে পানের চারা রোপন করা হয়েছে। এছাড়াও সুপারির বড় বড় চারা রোপন করেছে খাসিরা।
এ ব্যাপারে বরমচাল বিট কর্মকর্তা আব্দুল ওয়াদুদ জানান খাসিয়ারা উগ্র আচরণ করছে। বন বিভাগের আপত্তি মানছে না। এমনকি আদালতের স্থিতিবস্থা থাকার পরও খাসিয়ারা সরকারী বনভুমি দখল করে গাছপালা কেটে পান ও সুপারি গাছ লাগিয়ে জুম চাষ করার পায়তারা করছে। আমরা তাদের এহেন কর্মকান্ডে বনজ সম্পদ নষ্ট, সরকারী সম্পত্তি জবরদখল ও আইনশৃঙ্খলা অবনতির ঘটার আশংকা করছি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া রেঞ্জ কর্মকর্তা রবিন সিং জানান, ইছলাছড়া বনাঞ্চলটি রিজার্ভ ফরেস্টের অন্তর্গত। এখানে ১ হাজার ১শত ৯৭ একর জায়গা রয়েছে। এর মধ্যে ১শ ৫০ একর বনভুমি নিয়ে আদালতে মামলা বিচারাধীন। মাননীয় জেলা জজ আদালত ২০ সেপ্টেম্বর ২০২২ সালে উক্ত বনায়নের উপর স্থিতাবস্থা বজায় রাখার আদেশ প্রদান করেন। কিন্তু খাসিয়ারা গত ১ সপ্তাহ থেকে উক্ত বনভুমি জবর দখল করার বিভিন্ন অপকর্মে লিপ্ত রয়েছে। আমরা ১ ইঞ্চি বনভুমি খাসিয়াদেরকে দখল করতে দেব না।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া সহকারী কমিশনার (ভুমি) প্রণয় বিশ্বাস জানান, ইছলাছড়া বনাঞ্চলে আমি বৃহস্পতিবারে অভিযান চালিয়েছি। অভিযান পরিচালনা কালে কোন খাসিয়াকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। রিজার্ভ ফরেস্টে বেআইনী ভাবে গাছ কর্তন অথবা জমি জবর দখলে কাউকে পেলে ভ্রাম্যমান আদালত বসিয়ে শাশ্তি নিশ্চিত করার জন্য গিয়েছিলাম। কাউকে না পাওয়ায় ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালনা করা যায়নি। তবে সংশ্লিষ্ট খাসিয়া পুঞ্জির মন্ত্রীকে সতর্ক করে এসেছি। বন বিভাগকে সুনির্দিষ্ট ভাবে মামলা দেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছি।
এ ব্যাপারে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সানজিদা আক্তার জানান, বন বিভাগ বিষয়টি আমাকে অবহিত করার পরে আমি এসিল্যান্ডকে ঘটনাস্থলে পাঠিয়েছি। উক্ত বনভুমির উপরে আদালতের স্থগিতাদেশ রয়েছে। খাসিয়ারা আদালতের আদেশ অমান্য করে যদি কোন ধরনের গাছ রোপন করে থাকে তাহলে আমরা বিষয়টি বন বিভাগের মাধ্যমে আদালতে পিটিশন দায়ের করা হবে এবং উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবৈধ কর্মকান্ড প্রতিহত করা হবে।


