জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার
কক্সবাজার-টেকনাফ আঞ্চলিক মহাসড়কে দিনদুপুরে বাস থামিয়ে এক দুর্ধর্ষ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। পাহাড়ি এলাকা থেকে নেমে আসা মুখোশধারী ডাকাত দল সড়কে পেরেকযুক্ত গাছ ফেলে যাত্রীবাহী বাসের গতিরোধ করে এবং বিকাশ কোম্পানির প্রতিনিধিদের লক্ষ্য করে গুলি চালিয়ে প্রায় ৬০ লাখ টাকা লুট করে নেয়। এ সময় ডাকাতদের গুলিতে একজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং হামলায় আরও দুজন আহত হন।
রোববার ২ আগস্ট বেলা পৌনে দুইটার দিকে টেকনাফ উপজেলার হ্নীলা ইউনিয়নের দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
অস্ত্রধারীদের গুলিতে আহত ব্যক্তির নাম মো. আরমান (২৪)। এ ছাড়া ডাকাতদের হামলায় আহত হয়েছেন সাকিব (২১) ও একরাম (২২)। আহতদের বাড়ি টেকনাফ পৌরসভা এলাকায়।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা যায়, টেকনাফ পৌর এলাকার সীমান্ত ব্যাংক থেকে বিকাশ কোম্পানির প্রতিনিধিরা (সেলস রিপ্রেজেন্টেটিভ) টাকা তুলে হ্নীলা ও হোয়াইক্যং ইউনিয়নের এজেন্টের কাছে দিতে যাচ্ছিলেন। তারা টেকনাফ থেকে কক্সবাজারগামী পালকি পরিবহন-এর একটি বাসে উঠেন। বাসটি দমদমিয়া ১৪ নম্বর ব্রিজ এলাকায় পৌঁছালে পাহাড় থেকে নেমে আসা মুখোশধারী ডাকাত দল সড়কে পেরেক মারা গাছ ফেলে বাসটির গতি রোধ করে।
এরপর ডাকাতরা অস্ত্রের মুখে বাসে উঠে আতঙ্ক সৃষ্টি করে এবং বিকাশ প্রতিনিধিদের কাছে থাকা ৬০ লাখ টাকার ব্যাগ ছিনিয়ে নেয়। ওই সময় বাধা দিলে ডাকাতেরা আরমানকে লক্ষ্য করে গুলি চলায়। অন্যান্য যাত্রীরা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করলে হামলায় আরও দুজন আহত হন। পরে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর গাড়ি আসার শব্দ শুনে ডাকাত দলটি পুনরায় পাহাড়ে দিকে পালিয়ে যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডাকাত দলে স্থানীয় দুর্বৃত্তদের পাশাপাশি পাহাড়ের রোহিঙ্গা সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর সদস্যরা জড়িত থাকতে পারে। দিনদুপুরে মহাসড়কে এভাবে অস্ত্র উঁচিয়ে ডাকাতি ও গুলির ঘটনায় স্থানীয় সাধারণ মানুষ ও চালকদের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ও জননিরাপত্তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। অপরাধীদের ধরতে পাহাড়ে দ্রুত যৌথ বাহিনীর অভিযান পরিচালনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে টেকনাফ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম বলেন, “ডাকাতির খবর পাওয়ার পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে এবং বাসটি উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। বর্তমানে ঘটনাস্থল ও আশপাশের এলাকায় পুলিশ, বিজিবি এবং কোস্টগার্ডের একাধিক টিম মোতায়েন রয়েছে।”
তিনি আরও জানান, অপরাধীদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার এবং লুণ্ঠিত টাকা উদ্ধারে পাহাড়ি এলাকাসহ সম্ভাব্য স্থানগুলোতে যৌথ বাহিনীর চিরুনি অভিযান শুরু হচ্ছে। জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হবে।


