জাকির আহমেদ, মদন ( নেত্রকোনা) প্রতিনিধি :
শামুক উত্তোলণেও দিতে হচ্ছে চাঁদা। নেত্রকোনায় মানা হচ্ছে না মন্ত্রী ও স্থানীয় সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবরের নির্দেশনা। এ নিয়ে স্থানীয় সংসদ্য ও খালিয়াজুড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসারসহ বিভিন্ন দপ্তরে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মদন উপজেলার গোবিন্দশ্রী গ্রামের ভুক্তভোগী ওয়ালিদ মিয়া।
অভিযোগে জানা যায়, খালিয়াজুড়ী উপজেলার জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খাল। যার মৌজা নং ১, দাগ নং ৪৫৩৪৪৭৩৮। উক্ত খালটি মদন উপজেলার শেষ সীমানায় অবস্থিত । গত ৩ জুলাই শক্রবার ২০২৬ ইং তারিখে মৎস ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, সড়ক পরিবহণ ও সেতু এবং রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী ও নেত্রকোনা ৪ আসনের সংসদ সদস্যের আমন্ত্রনে হাওরাঞ্চলে আসেন এবং মদন,মোহনগঞ্জ ও খালিয়াজুড়ীর বিভিন্ন জলশায়ে পোনা মাছ অবমুক্ত করেন। এ সময় মৎস ও প্রাণী সম্পদ প্রতিমন্ত্রী সুলতান সালাউদ্দিন টুকু বলেন, এ বছর হাওরাঞ্চলে সকল খাল বিল ও জলাশয় উন্মুক্ত রাখার সিন্ধান্ত নিয়েছে সরকার। দেশীয় প্রজাতি মাছের প্রজনন ক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষে এ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর বলে ছিলেন, উক্ত হাওরে কোন ধরনের নিষিদ্ধ জাল ফেলা যাবে না । এই পোনা গুলো আপনাদের জন্যই ছাড়া হচ্ছে । এই মাছ যদি ছয় মাস না ধরেন তাহলে দুই থেকে তিন কেজি ওজন হবে। এখন থেকে হাওর উন্মুক্ত থাকবে। কোন ধরনের ইজারা দেয়া হবে না। অভিযোগে আরও উল্লেখ করা হয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের কথা না মেনে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার যোগসাজসে এক শ্রেণীর প্রভাবশালী ব্যাক্তিদয় টাকার বিনিময়ে জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খাল খাস খালেকশন নামে শামুক উত্তোলণকারীদের নিকট থেকে টাকা আদায়ের অভিযোগ পাওয়া যায়।
তবে এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে রোববার সরজমিনে গোবিন্দশ্রী গেলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার প্রতিনিধি
সৈয়দ আমিনূল হাসান ( রুজেল)সহ গোবিন্দশ্রীর স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যাক্তিদের সাথে এ বিষয়ে কথা হয়।
এ সময় সৈয়দ আমিনূল হাসান ( রুজেল) বলেন, ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তার নির্দেশে জগন্নাথপুর নূরপুর-বোয়ালী লাচুয়ানী বিলের অংশে দরুন্দা খালে আমি ফিসিং করার ব্যবস্থা নেই। মাননীয় মন্ত্রী ও আমাদের এমপি মহোদয় যেহেতু বলেছেন, এখন থেকে জলাশয় উন্মুক্ত থাকবে তাই উনার নির্দেশ মেনে আমি খাল উন্মক্ত দিয়ে দেব। তবে আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ উঠেছে শামুক উত্তোলণ করতে চাঁদা আদায় তা মিথ্যা বানোয়াট অভিযোগটি সঠিক না।
মেন্দিপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা খোরশেদ আলম জানান, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। আপনারা খালিয়াজুড়ী ইউএনও অফিসে যোগাযোগ করুন।
খালিয়াজুড়ীর উপজেলা নির্বাহী অফিসার ওলিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে আমি একটি লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। এ নিয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।


