মোঃ ইয়াছিন আকাশ, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি :
চট্টগ্রামের পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একদল নার্স ও মিডওয়াইফের বিরুদ্ধে সিন্ডিকেট গড়ে তুলে সাধারণ রোগীদের জিম্মি করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে এই সিন্ডিকেটটি হাসপাতালের মাতৃসেবা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ করছে। বিশেষ করে গর্ভবতী মায়েরা যখন হাসপাতালে সেবা নিতে আসেন, তখন তাদের বিভিন্ন অজুহাতে পার্শ্ববর্তী প্রাইভেট ক্লিনিক ও ল্যাবে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বিনিময়ে সংশ্লিষ্ট ক্লিনিকগুলো থেকে মোটা অঙ্কের কমিশন গ্রহণ করেন অভিযুক্তরা।
অভিযোগের তীর মূলত সিনিয়র স্টাফ নার্স অর্পিতা দত্ত, নূর নাহার বেগম, ফুলকিতা দত্ত এবং মিডওয়াইফ আফরিন, শরিফা জেসমিন ও রুমা নন্দীসহ আরও কয়েকজনের দিকে। জানা গেছে, হাসপাতালে আসা গর্ভবতী রোগীদের চেকআপের নাম করে অবৈধভাবে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা আদায় করা হয়। এমনকি প্রয়োজনের তুলনায় অতিরিক্ত পরীক্ষা-নিরীক্ষা করিয়ে রোগীদের নির্দিষ্ট প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়। অনেক ক্ষেত্রে ডেলিভারি রোগীদের নানা ভীতি প্রদর্শন করে তড়িঘড়ি করে বেসরকারি ক্লিনিকে রেফার করার অভিযোগও বেশ পুরনো।
হাসপাতালের পরিসংখ্যানেও এই সিন্ডিকেটের প্রভাবের অসংগতি ধরা পড়েছে। চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে মার্চ মাসের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, শত শত রোগী চেকআপের জন্য হাসপাতালে এলেও ডেলিভারির হার অত্যন্ত নগণ্য, যার বড় একটি অংশকে প্রাইভেট ক্লিনিকে পাঠানো হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। নার্সিং বিধিমালা অনুযায়ী নার্সদের স্বতন্ত্রভাবে প্রেসক্রিপশন লেখা বা চেম্বার করার নিয়ম না থাকলেও, অভিযুক্তদের কেউ কেউ হাসপাতালের নিচতলায় বা বাইরের ভবনে টাকার বিনিময়ে রোগী দেখেন বলেও অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
এ বিষয়ে পটিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আবু তৈয়ব স্বীকার করেছেন যে, একটি সিন্ডিকেটের কারণে হাসপাতালের সেবার মান ব্যাহত হচ্ছে।
তিনি জানান, রোগীদের প্রাইভেট ক্লিনিকে রেফার করার বিষয়টি তিনি শুনেছেন এবং এ লক্ষ্যে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্তের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।


