ঢাকাSunday , 25 October 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • নোয়াখালী পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ

    admin
    October 25, 2026 5:06 pm
    Link Copied!

    মোঃ আবদুল মোতালেব
    জেলা প্রতিনিধি নোয়াখালী:–

    নোয়াখালীতে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দায়িত্ব থেকে শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে অব্যাহতি দিয়ে ঢাকার উত্তরার ‘ইনোভেশন সেবা’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, কোনো পূর্ব নোটিশ, লিখিত কারণ দর্শানোর সুযোগ কিংবা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা ছাড়াই তাদের কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় নোয়াখালী পৌরসভা কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের স্বচ্ছতা, দায়িত্ব হস্তান্তরের প্রক্রিয়া এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের যোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র, চুক্তির শর্ত এবং পৌর কর্তৃপক্ষের বক্তব্য যাচাই করা জরুরি।

    প্রতিষ্ঠানটির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার রেজিস্ট্রেশন নম্বর 750121 এবং লাইসেন্স নম্বর L2030201007654-H। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক মো. আবুল বাশার। তিনি নোয়াখালী উদ্যোক্তা ও পণ্য উৎপাদনকারী সমবায় সমিতি লিমিটেডের (রেজি. নং: ০৩/২৩ নোয়া) সাধারণ সম্পাদক এবং শরন পরিবেশ উন্নয়ন ফাউন্ডেশনের (রেজি. নং: নোয়া-৭৯৭) সাধারণ সম্পাদক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন বলে জানানো হয়েছে। আবুল বাশারের দাবি, বৈধ নিবন্ধন, লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটিকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। এসব নথির বৈধতা ও প্রযোজ্যতা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।

    আবুল বাশারের অভিযোগ, শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বাদ দিয়ে ইনোভেশন সেবাকে পৌর এলাকার বর্জ্য অপসারণ ও সংরক্ষণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাঁর দাবি, নতুন দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রয়োজনীয় ছাড়পত্র নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। এ অবস্থায় একটি প্রতিষ্ঠানকে বাদ দিয়ে অন্য প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে কী প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছে, তা স্পষ্ট হওয়া জরুরি। সংশ্লিষ্ট কার্যাদেশ, চুক্তিপত্র, প্রতিষ্ঠানের নিবন্ধন এবং পরিবেশগত অনুমোদনের নথি যাচাই করা গেলে অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাওয়া সম্ভব হবে। তবে ইনোভেশন সেবার নিবন্ধন বা ছাড়পত্র নেই—এমন দাবিকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য হিসেবে নিশ্চিত করা যায়নি।

    আবুল বাশার আরও অভিযোগ করেন, নোয়াখালী পৌরসভার কনজারভেন্সি সুপারভাইজার আব্দুল ওহাব কাজ অব্যাহত রাখার শর্তে তাঁর কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করেছিলেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, দাবিকৃত অর্থের পুরোটা দিতে না পারায় ২০২৫ সালের ২১ ডিসেম্বর সকাল ৯টা ৫১ মিনিটে তিনি আব্দুল ওহাবের বিকাশ নম্বরে ১০ হাজার টাকা পাঠান। আবুল বাশারের অভিযোগ, ওই অর্থে সন্তুষ্ট না হয়ে একই দিন হঠাৎ সভা ডেকে শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনাকে বাদ দিয়ে ইনোভেশন সেবাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। এসব অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে বিকাশ লেনদেনের রেকর্ড, সভার কার্যবিবরণী, সংশ্লিষ্ট সিদ্ধান্তপত্র এবং অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি পরীক্ষা করা গুরুত্বপূর্ণ।

    অন্যদিকে, অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে আব্দুল ওহাব টাকা লেনদেনের বিষয়টি স্বীকার করেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তিনি টাকা নেওয়ার পেছনে কোনো অনৈতিক উদ্দেশ্য থাকার অভিযোগ অস্বীকার করেন। তাঁর বক্তব্য, আবুল বাশার তাঁর কাছ থেকে টাকা ধার নিয়েছিলেন এবং পরে বিকাশের মাধ্যমে সেই টাকা পরিশোধ করেছেন। ফলে একই লেনদেনকে ঘিরে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট বিরোধ রয়েছে। অর্থটি ধার হিসেবে দেওয়া হয়েছিল, নাকি অন্য কোনো উদ্দেশ্যে লেনদেন হয়েছিল—তা নির্ধারণে লেনদেনের প্রমাণ, উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু লেনদেনের অস্তিত্ব দিয়ে এর উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

    আবুল বাশারের ভাষ্য অনুযায়ী, বিষয়টি ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত জেলা জিওএনজিও সভায় আলোচনা করা হয় এবং সভার রেজুলেশনে অন্তর্ভুক্ত করে নোয়াখালীর পৌর প্রশাসকের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়। তিনি আরও দাবি করেন, ইনোভেশন সেবার বিরুদ্ধে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর ১৫ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে স্মারক নম্বর ২২.০২.৭৫০০.২১২.৬০.০৩২.২৫-৬৬-এর মাধ্যমে অনাস্থা প্রকাশ করে। ওই স্মারকের পূর্ণাঙ্গ বক্তব্য, প্রেক্ষাপট এবং প্রশাসনিক তাৎপর্য সরাসরি যাচাই করা প্রয়োজন। নথিটি পর্যালোচনা না করে পরিবেশ অধিদপ্তরের অবস্থানকে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে ব্যাখ্যা করা সমীচীন হবে না।

    এদিকে, শরন বর্জ্য ব্যবস্থাপনার দাবি, দায়িত্ব হারানোর কারণে প্রতিষ্ঠানের বিনিয়োগ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি এর অধীনে কর্মরত শতাধিক শ্রমিক ও কর্মচারীর কর্মসংস্থান অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে কোটি টাকার বিনিয়োগের কথাও বলা হয়েছে। তবে বিনিয়োগের পরিমাণ, কর্মীর সংখ্যা এবং দায়িত্ব হস্তান্তরের আর্থিক প্রভাব সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য পাওয়া যায়নি। নোয়াখালী পৌরসভায় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সেবায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে চুক্তির শর্ত, যোগ্যতা যাচাই, পরিবেশগত অনুমোদন এবং প্রশাসনিক স্বচ্ছতা গুরুত্বপূর্ণ। সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে বিষয়টির প্রকৃত অবস্থা স্পষ্ট হতে পারে।

    অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ নিষ্পত্তির জন্য পৌর কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্তের লিখিত ভিত্তি, সভার কার্যবিবরণী, দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের অনুমোদনসংক্রান্ত কাগজপত্র এবং অর্থ লেনদেনের প্রমাণ যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আব্দুল ওহাবের বক্তব্যের পাশাপাশি পৌর প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের আনুষ্ঠানিক অবস্থান জানা জরুরি। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে আইন ও বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় আসতে পারে; আবার অভিযোগের কোনো অংশ অসত্য প্রমাণিত হলে সেটিও স্পষ্ট করা দরকার। জনসেবার স্বার্থে স্বচ্ছতা, জবাবদিহি এবং সব পক্ষের বক্তব্যের ভিত্তিতে বিষয়টি পর্যালোচনার দাবি উঠেছে।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST