পঞ্চগড় প্রতিনিধি
পঞ্চগড়ের সদর উপজেলায় দশদিন ধরে কিডনি রোগীর অনুদানের চেকের টাকা উত্তোলন করতে না পারায় চেকের বিষয়ে জানতে গিয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখার সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজনের বিরুদ্ধে সাংবাদিক লাঞ্চিত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। লাঞ্চিত হওয়া সাংবাদিক হচ্ছেন, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি এবং এনটিভির স্টাফ রিপোর্টার, বাংলা ট্রিবিউন, দৈনিক ইত্তেফাক ও ইউএনবি নিউজের প্রতিনিধি সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ।
বুধবার দুপুরে এই লাঞ্চিতের ঘটনা ঘটে। এসময় সাংবাদিক সাজ্জাদকে তথ্য সংগ্রহে বাঁধা এবং ভিডিও বক্তব্য ধারণ করতে নিষেধ সহ অশালীন আচরণ করা হয়। এসময় প্রায় ঘন্টাব্যাপী ব্যাংকটিতে তাকে অবরুদ্ধ করে রাখার ঘটনা ঘটে। পরে হাড়িভাসা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান খবর পেয়ে দুইজন ইউপি সদস্য সহ গ্রাম পুলিশ ঘটনাস্থলে পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়।
জানা যায়, পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বাসিন্দা হাজেরা খাতুন কিডনী রোগের আর্থিক সহযোগিতার চেক গত দশদিন আগে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের হাড়িভাসা শাখায় জমা দেন। পরে দীর্ঘদিনেও পার হলেও টাকা উত্তোলন করতে না পারায় বিষয়টি পঞ্চগড় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফ ও সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদকে জানান তিনি। পরে তারা বুধবার দুপুরে হাড়িভাসা কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকে খোঁজ যান। পরে ব্যাংকে প্রবেশ করে ওই শাখার ম্যানেজার জোতির্ময় রায়ের সাথে কথা বলে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করছিলেন সাংবাদিক সাজ্জাদ। এক পর্যায়ে ওই ম্যানেজারের অনুমতি নিয়ে ভিডিও বক্তব্য নিচ্ছিলেন তিনি। এসময় ব্যাংকের সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজন আচমকা এসে ভিডিও রেকর্ড বন্ধ করার হুমকি দেন। সেই সাথে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করে ব্যাংকের কর্মচারীদের দরজা তালা বন্ধ করতে বলেন। পরে বলেন, বেটাকে ধরো ধরো। পরে ব্যাংকটির সেবা গ্রহীতাদের বের করে দিয়ে ওই দুইজনকে অবরূদ্ধ করে রাখে তারা। পরে গ্রাম পুলিশ সহ হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদের দুইজন ইউপি সদস্য জুলহাস এবং গোবিন্দ্র চন্দ্র ব্যাংকে প্রবেশ করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে তারা সাংবাদিক সাজ্জাদ ও পঞ্চগড় সোনার বাংলা ফাউন্ডেশনের কিডনি ডায়ালাইসিস সেন্টারের ম্যানেজার আরিফুর রহমান আরিফকে মুক্ত করে ব্যাংক থেকে বের হয়ে যেতে সাহায্য করেন।
সাংবাদিক সাজ্জাদুর রহমান সাজ্জাদ বলেন, আমি হাজেরা খাতুনের চেক জমা দেয়া ও টাকা না পাওয়া নিয়ে ম্যানেজারের কাছে তথ্য নিতে যাই। এসময় তিনি আমাকে ভিডিও বক্তব্য নিচ্ছিলেন। হঠাৎই সেকেন্ড ম্যানেজার এসে অর্তকিতভাবে বলেন, দরজা বন্ধ করো, বেটাকে ধরো। এসময় তিনি অশালীন ভাষায় আমাকে গালিগালাজ করেন। মারধরের হুমকি দেন। পরে স্থানীয় চেয়ারম্যান ইউপি সদস্যদের পাঠালে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। পরে আমরা চলে আসি। কিন্তু ব্যাংক কর্মকর্তার এমন আচরণ মোটেও কাম্য নয়। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।
তবে বিষয়ে জানতে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক হাড়িভাসা ইউনিয়ন শাখার ম্যানেজার জোতির্ময় রায় ও সেকেন্ড অফিসার ফরিদুল ইসলাম সুজনের সাথে মুঠোফোনে কল দিলেও তিনি ফোন কল রিসিভ করেন নি।
এবিষয়ে হাড়িভাষা ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান সাইয়েদ নূর- ই আলম বলেন, দুপুরের দিকে আমার মোবাইলে খবর আসে কৃষি ব্যাংকে গোলমাল। পরে দুইজন ইউপি সদস্য সহ গ্রাম পুলিশ পাঠাই। সাংবাদিক তথ্য নিতে এসেছিল। সাংবাদিককে ভেতরে রেখে দরজা বন্ধ করার ঘটনাও ঘটে এমনটা জেনেছি। তবে এটি খুবই দুঃখজনক।
এবিষয়ে রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংকের পঞ্চগড় জোনের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজোর শেখ মুক্তারুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। আগামীকাল সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয়তা ব্যবস্থা নেয়া হবে।
আনিসুর রহমান মানিক
পঞ্চগড়
০৭/০৭/২০২৬
০১৭১৭৯০০১১১


