অনুসন্ধান প্রতিবেদন
সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং প্রশাসনিক গতিশীলতা বজায় রাখতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে, সেখানে যশোরের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরে উল্টো চিত্র দেখা গেছে। জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয় না, দায়িত্ব চলাকালীন কর্মস্থলের রুমে না থাকা, এবং ফাঁকা রুমে ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইট-ফ্যান জ্বালিয়ে বিদ্যুৎ অপচয়ের চরম উদাসীনতা মিলেছে কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে।
আজ সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, যশোরের শিল্প বিভাগ ও উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয় এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ উপ-বিভাগ যশোর অফিসে কোনো জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর যশোর কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, উপ-মহাব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলাম ফিল্ড পরিদর্শনে । অথচ তার কার্যালয়ের তিনটি রুমই সম্পূর্ণ ফাঁকা থাকা সত্ত্বেও ভেতরের লাইট এবং ফ্যান ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে জ্বলছে।
এ বিষয়ে কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক হাবিবুর রহমানের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “সবাই তো রুমেই ছিল, এখন তারা কোথায় গেল জানি না।” সরকার যেখানে বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য নানামুখী পদক্ষেপ নিচ্ছে, সেখানে কর্মকর্তাদের এমন উদাসীনতার বিষয়ে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
পরবর্তীতে তাকে অফিসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন না করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি নিজের দায় এড়িয়ে বলেন, “এটার উত্তর স্যার দিতে পারবেন, তার থেকে জেনে নিয়েন।” তবে এ ব্যাপারে উপ-মহাব্যবস্থাপক আরিফুল ইসলামকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তার মুঠোফোনে কল ঢোকেনি।
এদিকে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলীর কার্যালয়ে সাংবাদিকরা প্রবেশ করে দেখতে পান, সেখানেও জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়নি।
বেলা ১১টা বেজে গেলেও কেন পতাকা উত্তোলন করা হয়নি—এমন প্রশ্নের জবাবে কার্যালয়ের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ আহম্মেদ সাকিব ক্ষিপ্ত হন তার অফিস সহায়ক কামালের উপর । নিজের দায় এড়াতে তিনি তাৎক্ষণিকভাবে কম্পিউটার অপারেটর নবাবকে ডেকে নির্দেশ দেন, যেন অফিস সহায়ক কামালকে এখনই কারণ দর্শানোর নোটিশ (সোকজ) লিখেন।
উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী আসিফ আহম্মেদ সাকিব বলেন, “পতাকা তো প্রতিদিনই উত্তোলন করা হয়, তবে আজ কেন হলো না? ১১টার সময়ও কেন পতাকা উত্তোলন করেনি? তার (অফিস সহায়ক) জন্য আমাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে।”
সরকারি এই দুই দপ্তরের এমন দায়িত্বজ্ঞানহীন কর্মকাণ্ড, জাতীয় পতাকার প্রতি অবহেলা এবং বিদ্যুৎ অপচয়ের ঘটনায় স্থানীয় সচেতন মহলের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ ও দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছেন তারা।


