সিরাজুল ইসলাম, জেলা প্রতিনিধি কক্সবাজার//
কক্সবাজার শহরের প্রধান নদী বাঁকখালীকে দখলমুক্ত করার অভিযানে বাধা, হামলা ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে কস্তুরাঘাট-খুরুশকূল সেতু সংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এতে পুলিশের এক সদস্য গুরুতর আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ তিনজনকে আটক করেছে।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) সোমবার থেকে বাঁকখালী নদীর দুই তীরে অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান শুরু করে। প্রথম দিন বেশ কিছু স্থাপনা সরানো হলেও দ্বিতীয় দিনের শুরুতেই দখলদার চক্রের লোকজন বাধা দেয়। একপর্যায়ে তারা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে। এতে পুলিশের এক সদস্যের মাথায় আঘাত লাগে এবং তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়
অভিযানে বিআইডব্লিউটিএর পাশাপাশি পুলিশ, র্যাব ও সেনাবাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। হামলার পরও অভিযান বন্ধ হয়নি। যৌথ বাহিনীর সহায়তায় বুলডোজার দিয়ে স্থাপনা গুড়িয়ে নদীর প্রায় ৫০ একর জায়গা উদ্ধার করা হয়েছে।
কক্সবাজার সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইলিয়াস খান বলেন, “আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ওপর হামলার ঘটনায় তিনজনকে আটক করা হয়েছে। পরবর্তীতে দখলদার চক্রকে আইনের আওতায় আনা হবে। অভিযান থেমে থাকবে না।”
গত ২৪ আগস্ট হাইকোর্ট বাঁকখালী নদীর সীমানা চিহ্নিত করে চার মাসের মধ্যে সব দখলদার উচ্ছেদ ও দূষণ নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে সরকারকে নির্দেশ দেন। এ রায় কার্যকরের অংশ হিসেবেই উচ্ছেদ অভিযান শুরু হয়। এর মাত্র পাঁচ দিনের মাথায় কক্সবাজার সফরে এসে নদী রক্ষায় সরকারের কঠোর অবস্থানের বার্তা দেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
বাঁকখালী শুধু কক্সবাজার শহরের জীবনরেখা নয়; এই নদী ঘিরেই গড়ে উঠেছে স্থানীয় জেলে ও ব্যবসায়ীদের জীবিকা। কিন্তু বছরের পর বছর দখল ও দূষণে নদীটি মৃতপ্রায় হয়ে পড়েছে। এবার আদালতের নির্দেশনা ও সরকারের কঠোর উদ্যোগে নদী পুনরুদ্ধারের আশা দেখা দিলেও, দখলদারদের প্রতিরোধ ইঙ্গিত দিচ্ছে সামনে আরও বড় চ্যালেঞ্জের।


