ঢাকাSaturday , 12 September 2026
  1. অপরাধ
  2. অর্থনীতি
  3. আন্তর্জাতিক
  4. আমাদের পরিবার
  5. কৃষি বার্তা
  6. খেলাধুলা
  7. গনমাধ্যাম
  8. চাকরি
  9. জাতীয়
  10. তথ্যপ্রযুক্তি
  11. ধর্ম
  12. প্রবাসের খবর
  13. ফ্যাশন
  14. বিনোদন
  15. বিশেষ প্রতিবেদন
আজকের সর্বশেষ সবখবর
  • বিধি ভাঙার ‘মহোৎসব’: কক্সবাজার সদর হাসপাতালে একই পদে সর্বোচ্চ ৩৫ বছর!

    admin
    September 12, 2026 6:23 pm
    Link Copied!

    জেলা প্রতিনিধি, কক্সবাজার

    প্রজাতন্ত্রের সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের স্পষ্ট নির্দেশ রয়েছে-একই কর্মস্থলে বা পদে কোনো ক্রমেই ৩ (তিন) বছরের বেশি থাকা যাবে না। প্রশাসনিক বিশেষ বিবেচনা কিংবা কারিগরি/বিশেষজ্ঞ পদের ক্ষেত্রে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমোদনে সামান্য শিথিলের সুযোগ থাকলেও, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এই বিধির কোনো অস্তিত্বই নেই। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রদত্ত অভ্যন্তরীণ ডাটাবেজ বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, কর্মকর্তা ও কর্মচারী মিলে অর্ধেকেরও বেশি (৫০%) কর্মী প্রচলিত ৩ বছরের বদলি নীতিমালা অমান্য করে একই পদে বহাল আছেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের প্রাপ্ত ২১৫ জন কর্মকর্তা ও কর্মচারীর দাপ্তরিক তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, এখানে বছরের পর বছর নয়, বরং দশকের পর দশক ধরে একই পদে বহাল তবিয়তে টিকে আছেন চিকিৎসক, নার্স, কর্মকর্তা ও ৩য়- ৪র্থ শ্রেণীর কর্মচারীরা।

    ডাটাবেজ বিশ্লেষণ ও স্থবিরতার সার্বিক চিত্র:- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নিজস্ব নথির তথ্য অনুযায়ী পদ ভিত্তিক কর্মকালের সার্বিক পরিসংখ্যান
    শ্রেণীর বিবরণ মোট কর্মরত পদ ৩ বছরের বেশি কর্মরত ১০ বছরের বেশি কর্মরত ২০ বছরের বেশি কর্মরত গড়ে কর্মকাল (বছর) সর্বোচ্চ কর্মকাল
    প্রথম শ্রেণী (চিকিৎসক ও কর্মকর্তা) ৪৯ জন ৪০ জন (৮১.৬%) ১৩ জন (২৬.৫%) ১ জন (২.০%) ৬.৯৮ বছর ২২.৭ বছর
    দ্বিতীয় শ্রেণী (নার্স ও সুপারভাইজার) ১২৭ জন ৩৯ জন (৩০.৭%) ২৮ জন (২২.০%) ১০ জন (৭.৯%) ১৫.০১ বছর ২৮.৪ বছর
    তৃতীয় শ্রেণী (টেকনিশিয়ান ও কর্মচারী) ২৬ জন ২০ জন (৭৬.৯%) ১৯ জন (৭৩.১%) ৭ জন (২৬.৯%) ১৭.১০ বছর ৩৫.১ বছর
    চতুর্থ শ্রেণী (সহায়ক ও সেবক) ১৩ জন ৮ জন (৬১.৫%) ৭ জন (৫৩.৮%) ৫ জন (৩৮.৫%) ২০.৯৭ বছর ৩০.৩ বছর
    সর্বমোট ২১৫ জন ১০৭ জন (৪৯.৮%) ৬৭ জন (৩১.২%) ২৩ জন (১০.৭%) ১৩.৪৮ বছর ৩৫.১ বছর

    শ্রেণী ভিত্তিক শীর্ষ ‘স্থায়ী’ কর্মচারীদের তালিকায় ডাক্তার, নার্স যেমন রয়েছে তেমনি পিছিয়ে নেই ৩য় ও ৪র্থ ম্রেণীর কর্মচারীরাও, চিকিৎসক সংকট বা বিশেষ পদের অজুহাত দেখানো হলেও প্রথম শ্রেণীর ৮১.৬% কর্মকর্তাই নির্ধারিত মেয়াদ অতিক্রম করেছেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছেন, ডা: আশুতোষ ধর (মেডিকেল অফিসার – আয়ুর্বেদিক), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ৩০ ডিসেম্বর ২০০৩। বর্তমান পদে বহাল তরিয়তে আছেন সুদীর্ঘ ২২ বছর ৯ মাস। ডা: মোছাঃ কামোলিকা (ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ২৯ ডিসেম্বর ২০১১। একই পদে পার করছেন ১৪ বছর ৮ মাস, বর্তমানেও একই পদে বহাল তরিয়তে আছেন ।মোহাম্মদ হোসেন (জুনিয়র হেলথ এডুকেশন অফিসার), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ১ সেপ্টেম্বর ২০১২ থেকে টানা ১৪ বছর ধরে কর্মরত। ডা: টুটুল তালুকদার (জুনিয়র কনসালটেন্ট – সার্জারি), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ২২ অক্টোবর ২০১২ থেকে ১৩ বছর ৯ মাস বহাল। ডা: মোঃ ইসমাইল আলম আজাদ (অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ৩ ডিসেম্বর ২০১২ থেকে ১৩ বছর ৯ মাস একই পদে। ডা: কবির আহমেদ (সিনিয়র কনসালটেন্ট – মেডিসিন), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ৫ নভেম্বর ২০১৪ থেকে টানা ১১ বছর ১০ মাস দায়িত্বে আছেন। ডা: আশিষ কুমার দে (সিনিয়র কনসালটেন্ট – শিশু), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ১৭ ডিসেম্বর ২০১৫ থেকে ১০ বছর ৯ মাস বহাল। (PvKix n‡Z 01/10/2024Bs n‡Z Ae¨vnwZi Rb¨ Av‡e`b K‡ib| উল্লেখ্য যে, অনেকের পদোন্নতি হলেও ঘুরেফিরে থেকে যাচ্ছে একই কর্মস্থলে ।

    ২য় শ্রেণী (নার্সিং সেবা ও সুপারভাইজার) এর ক্ষেত্রে ও একই চিত্র ফুটে উঠেছে:- নার্সিং বিভাগে সিনিয়র নার্সদের দীর্ঘ মেয়াদী উপস্থিতি প্রশাসনিক পদোন্নতি ও নতুনদের স্থান করে নেওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাদের মধ্য থেকে উল্লেখযোগ্য কয়েকজন হচ্ছেন, শেফালী রানী মন্ডল ও বেবী রানী আইচ (নার্সিং সুপারভাইজার), উনারা অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন মে ১৯৯৮ থেকে টানা ২৮ বছর ৪ মাস ধরে এই হাসপাতালেই নার্সিং তদারকি করছেন। এখনও আছেন বদলীর কোন ধরনের চাপ ছাড়া। শামীমা আক্তার ও মাসুদা আক্তার (সিনিয়র স্টাফ নার্স), উনারা অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন মে/জুন ১৯৯৯ থেকে টানা ২৭ বছর ৩ মাস ধরে একই কর্মস্থলে। পারভীন মন্ডল (সিনিয়র স্টাফ নার্স), উনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন নভেম্বর ২০০২ থেকে ২৩ বছর ১০ মাস একই পদে। ডেইজি শর্মা, রত্নশ্রী মল্লিক ও নিভা বড়ুয়া (স্টাফ নার্স), তারা অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ২০০৩-২০০৪ সাল থেকে গত ২২ বছর ধরে বদলিহীন। অদ্যাবদি উনাদের কারোই কোন দিন বদলি জনিত কোন চাপ নিতে হয় নাই দিব্যি করে যাচ্ছেন চাকরি, আরামে কেটে গেল চাকরি জিবনের স্বর্ণালী সময় গুলো ।

    ৩য় শ্রেণী (ল্যাব, ফার্মেসি ও অফিস স্টাফ)এদের কে পিছিয়ে ফেলার কোন সুযোগ নেই, সবচেয়ে স্পর্শকাতর ও দুর্নীতি প্রবণ কেনাকাটা, হিসাব-নিকাশ ও ল্যাব বিভাগে ৩য় শ্রেণীর কর্মীদের উপস্থিতি চমকপ্রদ। ৭৩.১% কর্মীই ১০ বছরের বেশি সময় ধরে এক স্থানে বহাল আছেন কোন ধরনের বদলি ছাড়া । সেক্ষেত্রে সবাইকে ছাড়িয়ে গেছে এই ক্যাটাগরি টা, তার মধ্যে শীর্ষে আছেন, মোঃ ইলিয়াছ আহমেদ খান (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট – ল্যাব), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ১০ আগস্ট ১৯৯১ সালে যোগ দিয়ে রেকর্ড ৩৫ বছর ১ মাস ধরে একই ল্যাব, একই কর্মস্থল ও একই হাসপাতালে এখনও কর্মরত আছেন। আবুল কালাম মোস্তাসিন (স্টোর কিপার), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ১ জানুয়ারি ২০০১ থেকে টানা ২৫ বছর ৮ মাস হাসপাতালের স্টোর সামলাচ্ছেন। মোঃ এনায়েত করিম মিঞা (মেডিকেল টেকনোলজিস্ট – রেডিওলজি), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ১৬ অক্টোবর ২০০৪ থেকে ২১ বছর ১১ মাস ধরে বহাল। অপরাধ সিন্ডিকেটের গুরুখ্যাত মোঃ এস্তাফিজুর রহমান (কম্পিউটার অপারেটর), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন ২২ জুন ২০০৬ থেকে ২০ বছর ৩ মাস একই আসনে। দীর্ঘদিন ধরে পলাতক ফ্যাসিষ্টদের আশ্রয় প্রশ্রয় এ থেকে পুরো প্রতিষ্টান কে নিজের কব্জায় রেখে ইচ্ছে মতো করে চালিয়েছেন । ৫ই আগষ্ট পরবর্তী এখন সে বর্তমান সরকার দলীয় মন্ত্রীর পারিবারিক লোক হয়ে গেছেন ।

    ৪র্থ শ্রেণী (সহায়ক ও পরিচ্ছন্নতা কর্মী)রা বাদ যাবে কেন, তাদের ও তো থাকতে পারে স্বাধ আহ্লাদ তাই, লিটন চন্দ্র দে (অফিস সহায়ক), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন জুন ১৯৯৬ থেকে টানা ৩০ বছর ৩ মাস একই পদে বহাল। আর মোছাঃ নারগিস খানম (বাবুর্চি), তিনি অত্র হাসপাতালে যোগদান করেন জুন ১৯৯৯ থেকে ২৭ বছর ৩ মাস ধরে কর্মরত।

    প্রশাসনিক ও সেবামূলক ঝুঁকি:- হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সরবরাহ করা ডাটাবেজের গভীর বিশ্লেষণে যে মারাত্মক প্রশাসনিক ঝুঁকি গুলো উঠে এসেছে: ১. হিসাব ও কেনাকাটায় দীর্ঘস্থায়ী নিয়ন্ত্রণ, স্টোর কিপার ২৫ বছর এবং প্রধান হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ১৫ বছর ধরে এক পদে থাকায় হাসপাতালের কেনাকাটা, ঔষধ সরবরাহ ও স্টোর ব্যবস্থাপনায় জবাবদিহিতা শূন্যের কোঠায় নেমেছে। ২. ল্যাব পরীক্ষা ও ডায়াগনস্টিক সিন্ডিকেট, ৩৫ বছর ধরে একজন টেকনোলজিস্ট ল্যাবে দায়িত্ব পালনের ফলে স্থানীয় বেসরকারি প্যাথলজি ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার গুলোর সাথে অনৈতিক আর্থিক লেনদেনের অভিযোগ উঠছে। ৩. জরুরি বিভাগে অভিজ্ঞতা বনাম স্থবিরতা, ইমার্জেন্সি মেডিকেল অফিসার পদে প্রায় ১৫ বছর ধরে একই চিকিৎসক বহাল থাকায় জরুরি স্বাস্থ্যসেবায় নতুনদের গতিশীলতা ও নতুন চিকিৎসার সুযোগ ব্যাহত হচ্ছে।

    নিয়ম অনুযায়ী ৩ বছর পর পর স্বয়ংক্রিয় বদলির নির্দেশ থাকলেও, জরুরি প্রশাসনিক প্রয়োজন ও বিশেষ অনুমোদন – এর ফাঁকফোকর ব্যবহার করে বছরের পর বছর এই স্থবিরতা বজায় রাখা হয়েছে। স্থানীয় সুশীল সমাজের মতে, বদলি নীতিমালার এমন দীর্ঘমেয়াদী লঙ্ঘন প্রমাণ করে যে, কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদারকির বাইরে নিজস্ব এক অনিয়মের সাম্রাজ্যে পরিণত হয়েছে।

    এই সাইটে নিজম্ব নিউজ তৈরির পাশাপাশি বিভিন্ন নিউজ সাইট থেকে খবর সংগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট সূত্রসহ প্রকাশ করে থাকি। তাই কোন খবর নিয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে সংশ্লিষ্ট নিউজ সাইটের কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ করার অনুরোধ রইলো।বিনা অনুমতিতে এই সাইটের সংবাদ, আলোকচিত্র অডিও ও ভিডিও ব্যবহার করা বেআইনি।
  • Design & Developed by: BD IT HOST